আরটিভি : জমি বেচাকানা করতে গিয়ে ক্রেতাবিক্রেতা উভয়েই জমির নামজারি করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েন। জমি সংক্রান্ত জনসাধারণের ভোগান্তি কমাতে ইতোমধ্যে দেশের ১৭টি উপজেলায় জমির দলিল ও নামজারি সম্পন্ন করতে সফটওয়্যার ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সর্বোচ্চ আট দিনে মিলবে জমির নামজারি।

আজ সোমবার (৯ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জমি দলিল ও নামজারির কাজ সমন্বয়ে ওই প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। পরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।
সফটওয়্যারের মাধ্যমে জমির নামজারির উদ্যোগটি পরীক্ষামূলক ১৭টি উপজেলায় চালানো হচ্ছে। উদ্যোগটি সফল হলে ধীরে ধীরে সারাদেশে জমির নামজারি করতে কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করবে সরকার।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার অফিস এবং এসি ল্যান্ডের অফিসের মধ্যে ইন্টার অপারেটবল সফটওয়্যার থাকবে। বাংলাদেশের সব এসি ল্যান্ড অফিসের চার কোটি ৩০ লাখ রেকর্ডস অফ রাইটস অনলাইনে চলে এসেছে। এখন থেকে সাব-রেজিস্ট্রার অফিস এবং এসি ল্যান্ড অফিসের একজন আরেকজনের ডাটাবেইজে ঢুকতে পারবে। এই পদ্ধতিতে ৭৫ শতাংশ দুর্নীতি কমে যাবে।
খন্দকার আনোয়ারুল বলেন, দেশে জমিকে কেন্দ্র করেই ৭৫ শতাংশ মামলা হয়। জমির নামজারি সফটওয়্যারের আওতায় এলে ৫০ শতাংশ মামলা কমবে। মানুষের জীবনযাত্রাও অনেকটা কমফোর্ট হয়ে যাবে, জমিজমা নিয়ে যে একটা টেনশন বা আনক্লিয়ার একটা সিনারিও এটা থেকে তারা মুক্তি পাবেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, উত্তরাধিকার সম্পত্তির বণ্টন ও নামজারির কাজ দ্রুত সম্পন্ন হবে। কাজটি শুরু হতে আরও পাঁচ থেকে ছয় মাস লাগবে।
আনোয়ারুল ইসলাম কবলে, দলিল করার আগেই সফটওয়্যারের মাধ্যমে উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি বা অ্যাসিল্যান্ড) কার্যালয় থেকে জমির তথ্য জেনে নেবেন সাবরেজিস্ট্রার। একইভাবে দলিলের পর তিনিই সেই তথ্য এসিল্যান্ডকে জানিয়ে দেবেন। তখন এসিল্যান্ড নামজারি করবেন।
বর্তমানে জমির দলিল হয় আইন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন নিবন্ধন অধিদপ্তরের সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের মাধ্যমে। আর নামজারির কাজটি হয় ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ের মাধ্যমে। সফটওয়্যারের মাধ্যমে জমির দলিল ও জমির নামজারির ক্ষেত্রে দুটি দপ্তরের মধ্যে আন্তঃসংযোগ থাকবে। এর মাধ্যমে এখন দলিলের সময় ভূমি অফিস থেকে তথ্য জেনে নেবেন সাব-রেজিস্ট্রার। আবার দলিলের পর সেটি এসিল্যান্ডকে জানিয়ে দেওয়া হবে। এরপর সর্বোচ্চ আট দিনের মধ্যে নামজারি হবে। স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এই কাজ হবে। এসিল্যান্ড আগের মতো আর জমির নামজারির বিষয়টি টেবিলে ফেলে রাখতে পারবেন না।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •