মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া :

কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলায় ডিবি পুলিশের অভিযানে ৬৬টি বিভিন্ন ব্রান্ডের চোরাই মোবাইল সেট জব্দসহ কেনা বেচায় জড়িত থাকার অপরাধে ৩সহোদরকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন, পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের পূর্ব টইটং গ্রামের মৃত মৌলভী আবুল হোসেনের তিনপুত্র যথাক্রমে মো: হোছাইন (৩৭), দেলোয়ার হোছাইন (৩৫) ও দিদার হোছাইন (৩০)। ৭ নভেম্বর (শনিবার) সন্ধ্যা ৬ থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত পেকুয়া উপজেলার টইটং বাজারস্থ ‘রক সেইড স্টুডিও’ ও পেকুয়া বাজারস্থ এসডি সিটি সেন্টারের ২য় তলায় অবস্থিত ‘দি টাচ টেক’ নামক দুইটি চোরাই মোবাইল কেনাবেচার দোকানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ওই তিন সহোদরকে আটক করেছে কক্সবাজার ডিবি পুলিশ।

ডিবি পুলিশ জানায়, আটকৃত তিন সহোদর দীর্ঘদিন ধরে টইটং বাজার ও পেকুয়া বাজারে ২টি দোকান ভাড়া নিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার সংঘবদ্ধ মোবাইল চোর চক্রের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্রান্ডের দামি চোরাই মোবাইল সস্তায় ক্রয় করে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করে আসছিল।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই তিন সহোদর টইটং বাজার ও পেকুয়া বাজারের এসডি সিটি সেন্টারে প্রকাশ্যে চোরাই মোবাইল সেটের রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে গেলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির বাইরে ছিল। সম্প্রতি সময়ে পেকুয়ার কয়েকজন সংবাদকর্মী ‘পেকুয়ায় চোরাই মোবাইল বেচাকেনার রমরমা বাণিজ্য’ শিরোনামে বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টালে বস্তুনিষ্ট ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করলে নড়েচড়ে বসে আইন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। এরই প্রেক্ষিতে ৭ নভেম্বর (শনিবার) কক্সবাজার ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে ডিবির আভিযানিক সদস্যরা দুই দলে ভাগ হয়ে একই সময়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টইটং বাজার ও পেকুয়া বাজারস্থ এসডি সিটি সেন্টারের ২য় তলায় হোছাইনের মালিকানাধীন ২ টি চোরাই মোবাইলের দোকানে অভিযান চালায়। অভিযানে ২টি দোকান থেকে ৬৬টি বিভিন্ন ব্রান্ডের চোরাই মোবাইল জব্দ করে ডিবি পুলিশ। আর এসময় চোরাই মোবাইল বেচাকেনার অপরাধে তিন ভাইকেও আটক করে কক্সবাজার ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চোরাই মোবাইল বেচাকেনার অপরাধে ওই সহোদরের বিরুদ্ধে পেকুয়া থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

অভিযানে নেতৃত্ব দানকারী কক্সবাজার ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ আলী এ প্রতিনিধিকে শনিবার রাত সাড়ে ১১টার সময় জানান, চোরাই মোবাইল বেচাকেনার গোপন সংবাদ পেয়ে পেকুয়ায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। টইটং বাজারের ‘রক সেইড স্টুডিও’ ও পেকুয়া বাজারস্থ এসডি সিটি সেন্টারের ২য় তলার ‘দি টাচ টেক’ নামের দুইটি চোরাই মোবাইলের দোকান থেকে ত সহোদরকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে ডিবি পুলিশ বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট আইনে পেকুয়া থানায় মামলা দায়ের করা হবে। মামলার পর আটককৃতদের ৮ নভেম্বর রোববার চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করা হবেও তিনি জানান।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে টইটং এলাকার মৌলভী মৃত আবুল হোছানের চার পুত্র টইটং বাজার, পেকুয়া বাজার, বাঁশখালী, কুতুবদিয়া ও চট্টগ্রামের রিয়াজ উদ্দিন বাজারে বিভিন্ন মার্কেটে দোকান ভাড়া নিয়ে চোরাই মোবাইল বেচাকেনার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল। স্থানীয় প্রভাবশালীদের সাথে চোরাই মোবাইল বেচাকেনায় জড়িতদের বিশেষ দহরম মহরম থাকায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। গতকাল শনিবার ডিবি পুলিশ অভিযান শুরু করলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীরা ডিবি পুলিশকে সাধুবাদ জানিয়ে চোরাই মোবাইল সেট বেচাকেনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর দাবি জানান। ঢাকা ও চট্টগ্রামের মোবাইল চোর চক্রের সাথে টইটং মৃত মৌলভী আবুল হোছাইনের ৪ পুত্রের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। এসব মোবাইল চোর চক্রের সদস্যরা ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে চোরাই মোবাইল সংগ্রহ করে বিক্রির জন্য টইটংয়ের হোছাইনের কাছে পাঠানো হয়। পরে এসব চোরাই মোবাইল হোছাইন পেকুয়া বাজার, বাঁশখালী ও কুতুবদিয়া তাদের ভাড়া করা দোকানে সরবরাহ করে। এভাবে চোরাই মোবাইলের বাণিজ্য গত কয়েক বছর কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে মৌলভী মৃত আবুল হোছাইনের ৪ পুত্র। তাদের অবৈধ টাকা ও সম্পদের উৎস্য অনুসন্ধানের জন্য স্থানীয়রা দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

গোপন সূত্রে জানা গেছে, দেশের চোরাই সেট এবং শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে আনা মোবাইল সেটও বিক্রি করে হোছাইনের দোকানে। বিগত কয়েক বছরে হোছাইনের দোকানে প্রচুর পরিমাণ চোরাই মোবাইল কেনা-বেচা হয়েছে। বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে চুরি করা, ছিনতাই করা বা বিভিন্নভাবে টানা পার্টির মাধ্যমে আসা মোবাইলগুলোর অধিকাংশই চলে আসে টইটংস্থ হোছাইনের বাড়ির গোডাউনে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ছিঁচকে মোবাইল চোর সিন্ডিকেটের সদস্যদের সাথেও হোছাইনের দোকানে মাসের পর মাস চোরাই মোবাইল সরবরাহ করে। করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যেও এই চক্রটি সক্রিয় জানিয়ে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি বলেন, “হোছাইন এই চক্রের একজন বড়মাপের ব্যবসায়ী। এছাড়াও হোছাইন ভারত-দুবাই থেকে চোরাই মোবাইল এনে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বেচা কেনা করছে। এই চক্রে আরও অনেকেই জড়িত বলে ধারণা স্থানীয়দের। আটককৃত ৩ সহোদরকে রিমান্ডে আনলে আরও অনেক তথ্য পাওয়া যাবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •