সংবাদ বিজ্ঞপ্তি:

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কক্সবাজার জেলা ইউনিট কমান্ডের কমান্ডার, সদ্য প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাজাহান স্মরণে শোকসভা গতকাল শনিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

স্মরণসভায় আলোচকবৃন্দ প্রয়াত এই মুক্তিযোদ্ধার জীবনের নানাদিক তুলে ধরে বলেছেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধারা অবশ্যই সাহসী, মোহাম্মদ শাজাহান সে সাহসের মধ্যে ছিলেন একটু বেশি এবং ব্যতিক্রমধর্মী সাহসী। সত্য যতোই অপ্রিয়ই হোক, তিনি সকলের সামনে অকপটে সে সত্য উচ্চারণে কোনো সময় পিছপা হননি। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনা বাস্তবায়নে প্রশ্নে তিনি ছিলেন সদা অবিচল ও আপোষহীন-নির্মোহ। মোহাম্মদ শাজাহান তাঁর দৃঢ়চেতা চরিত্র ও সাহসিকতার জন্য সকলের মাঝে চিরভাস্বর হয়ে থাকবেন। তাঁর মতো তেজস্বী, দৃঢ় মনোবল এবং আদর্শিক মানুষকে কেউ ভুলতে চাইলেও ভোলা যাবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বহনকারী এতদঞ্চলের প্রতিটি মানুষের কাছে তাঁর স্মৃতি চিরকাল অ¤øান হয়ে থাকবে।

স্মরণসভায় কক্সবাজার-৩ আসনের সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল বলেন, এখন সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা বয়স প্রায় সত্তর বছর ছুঁই ছুঁই। কেউ বা অশতিপর। আগামী এক দশক পর মুক্তিযোদ্ধারা আর বেঁচে থাকবেন না। কিন্তু নানা কর্মকৃতির মধ্যে দিয়ে জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কক্সবাজারে আলাদা কবর স্থান তৈরির উপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভার সভাপতি, জেলা প্রশাসক ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিট কমান্ডারের প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাজাহানের স্মৃতিচারণ করে বলেন, এ মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসন যা যা করা দরকার তা করবে। তাঁর কবরটি বিশেষভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহাম্মদ শাজাহান আলী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাজাহানের অবদান ও বীরত্বের কথা আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য একটি স্মরণিকা প্রকাশের কথা জানান।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রতিষ্ঠাতা কমান্ডার, সাবেক পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল আবছার বলেন, বন্ধু, সহযোদ্ধা মোহাম্মদ শাজাহানের সাথে প্রায় ৫০ বছর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, হাতে হাত ধরে জীবন পার করেছি, তার চলে যাওয়াটা আমাদের সমাজের জন্য তো বটেই আমার জন্য ও ব্যক্তিগতভাবে অনেক অনেক ক্ষতির।

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক কামাল হোসেন চৌধুরী বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মোহাম্মদ শাজাহানের মতো অন্ত:প্রাণ সংগঠক-সহযোদ্ধা আর আমরা পাবো না।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সংস্কৃতি কর্মী মুহাম্মদ আলী জিন্নাতের সঞ্চালনায় কক্সবাজার শহরে বিজয় স্মরণীস্থ মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স মিলনায়তনে শোক ও স্মরণ সভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা জাসদের সভাপতি নইমুল হক চৌধুরী টুটুল, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিট কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান, জেলার সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও কক্সবাজার কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি নুরুল ইসলাম, কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কায়সারুল হক জুয়েল, জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া আখতার সুইটি, নাট্য সংগঠক অ্যাডভোকেট তাপস রক্ষিত, ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সংগঠক, প্রাক্তন ছাত্রনেতা মোহাম্মদ হোসাইন মাসু, কক্সবাজার সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি সত্যপ্রিয় চৌধুরী দোলন ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাজাহানের বড় সন্তান মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান রুমি। পবিত্র কোরান থেকে তেলোয়াত করেন কক্সবাজার সদর উপজেলার ডেপুটি কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম। স্মরণসভার প্রারম্ভে এক মিনিট দাঁড়িয়ে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতি প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয়।

স্মরণানুষ্ঠানে জেলার অসংখ্য বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রগতিশীল রাজনীতির নেতা-কর্মী, সংস্কৃতি কর্মী, বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিত্বকারী বিশিষ্ট জনেরা উপস্থিত ছিলেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাজাহান করোন ভাইরাসের আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত পহেলা নভেম্বর বেলা ১২টা ৫০মিনিটে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •