সময়নিউজ : গুজব রটিয়ে রংপুর ক্যান্ট-পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক গ্রন্থাগারিক শহিদুন্নবী জুয়েলকে হত্যার পর লাশ পোড়ানোর ঘটনায় সরাসরি চকরিয়ার গণি কবিরের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সে জামায়াতের ক্যাডার বলে দাবি করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

এরইমধ্যে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছেন গণি কবির নামে এক জামায়াত ক্যাডার। এমনটিই জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওমর ফারুক।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ওমর ফারুক সময় নিউজকে বলেন, ‘গণি কবির নিজে জুয়েলকে আঘাত করার কথা স্বীকার করেছেন। গণি কবির কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানার বাসিন্দা হলেও কয়েক বছর আগে বুড়িমারী এলাকায় এসে স্থানীয় এক মেয়েকে বিয়ে করে বসবাস করে আসছেন।

এদিকে, গণি কবির সম্পর্কে চকরিয়ায় খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। সেখানে তার রাজনৈতিক ও অপরাধমূলক কোনো কর্মকাণ্ড আছে কিনা, তা তদন্ত করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওমর ফারুক জানান, ঘটনার দিন আসরের নামাজের পর বুড়িমারী জামে মসজিদে প্রথম দফা আক্রমণ থেকে উদ্ধার করে শহিদুন্নবী জুয়েল ও তার বন্ধু রুবাইয়াত সুমনকে ইউপি কার্যালয়ে নিয়ে একটি রুমে রাখা হয়। এরপর মাগরিবের নামাজ শেষে লাঠিসোটা নিয়ে যে দলটি সেখানে বড় ধরণের আক্রমণ করে গ্রিল ও দেয়াল ভেঙে জুয়েলকে পুলিশের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে, সেই দলটির সঙ্গে ছিলেন গণি কবির।

গত ২৯ অক্টোবর ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে একটি, পাটগ্রাম থানা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি এবং নিহত শহিদুন্নবী জুয়েলের পরিবারের পক্ষ থেকে আরও একটি মামলা করা হয় পাটগ্রাম থানায়। গত ৩১ অক্টোবর এ তিনটি মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা বিভাগকে (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়।

বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশের অনুসন্ধানে ঘটনার মূল দুই হোতা হিসেবে বুড়িমারী বাজারের ডেকোরেটর ব্যবসায়ী আবুল হোসেন ও মসজিদের খাদেম জোবেদ আলীর নাম উঠে এলে পুলিশ জোবেদকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে জোবেদ পুলিশি রিমান্ডে থাকলেও আবুল হোসেনকে এখনও ধরা সম্ভব হয়নি।

তবে শুক্রবার (০৬ নভেম্বর) রাতে গোয়েন্দা বিভাগের শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানান, শিগগিরই তাকে (আবুল হোসেন) ধরে ফেলা হবে। এরই মধ্যে আবুল হোসেন পুলিশি নজরদারিতে চলে এসেছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

প্রথম দফায় নেয়া ৫ জনের ৩ দিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার (০৫ নভেম্বর) তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এদিকে খাদেম জোবায়েদ আলীসহ ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন জানালে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফেরদৌসী বেগম বৃহস্পতিবার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের মতো তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

রিমান্ড প্রাপ্তরা অন্যরা হলেন- আনোয়ার হোসেন, হাসান রাজু ও রবিউল ইসলাম। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ২৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এদিকে, জেলা প্রশাসন গঠিত কমিটি তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার কথা থাকলেও আরও ৩ দিন সময় বাড়ানো হয়েছে। মানবাধিকার কমিশনের একজন পরিচালক এরই মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় ও ডিআইজি কার্যালয় থেকে তদন্তসহ পুরো ঘটনা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

গত ২৯ অক্টোবর বিকেলে রুবায়াত সুমন নামে এক সঙ্গীসহ বুড়িমারী যান জুয়েল। ওই দিন বুড়িমারী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে কোরআন অবমাননার গুজব ছড়িয়ে জুয়েলকে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়। এ ঘটনায় গ্রেফতারের আগে খাদেমসহ মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির কাছে ওই ঘটনায় কোরআন অবমাননার কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। নিহত জুয়েল রংপুর শহরের শালবন মিস্ত্রীপাড়া এলাকার আব্দুল ওয়াজেদ মিয়ার ছেলে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •