নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
একটি মারধরের মামলায় পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বদিউল আলম ও তাঁর শ্যালক সেলিম উদ্দিনকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরে চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব কুমার দেব এর আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত এ নির্দেশ দেন। বদিউল আলম জামায়াতের সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

আদালত সূত্র জানায়, গত ২৭ মে বারবাকিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বদিউল আলম, তাঁর শ্যালক সেলিম উদ্দিন ও মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে মারধরের ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন ওই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওর্য়াড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম। এ মামলায় ৮ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন নেন চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য আসামিরা। আগাম জামিনের মেয়াদ শেষ হলে গতকাল মঙ্গলবার তিনি ও তাঁর শ্যালক সেলিম উদ্দিন চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

স্থানীয় লোকজন বলেন, বারবাকিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বদিউল আলমের বাড়ির চারপাশে তিনটি সমাজ রয়েছে। এই তিন সমাজের নামাজ ও রোজা রাখেন না (রমজানের সময়) এমন ৭৪জনের নামের তালিকা করা হয়। এই তালিকা ধরে তাঁদের ১৯ মে রাতে আন্নরআলী পাড়া জামে মসজিদে যেতে বলা হয়। তাঁরা উপস্থিত হলে সবাইকে সতর্ক করে তওবা পড়ানো হয়। সবাই একই সুরে বলেন পরদিন থেকে নামাজ-রোজা আদায় করবেন। কিন্তু এরপরও নুরুল ইসলামসহ কিছু ব্যক্তি নামাজ-রোজা আদায় না করে স্থানীয় একটি খাবারের দোকানে আড্ডা দেন। এ জন্য তাঁদের ২৪ মে আবারও মসজিদে ডাকা হয়। মসজিদে গেলে নুরুল ইসলামসহ কয়েকজনকে তার (প্লাস্টিক মোড়ানো ছোট বৈদ্যুতিক তার) দিয়ে দুইটি করে বেত্রাঘাত করেন চেয়ারম্যান। এসময় বেত্রাঘাতের প্রতিবাদে নুরুল ইসলামের দুই সন্তানসহ পাঁচজনে মসজিদের জানালার কাঁচ ভাঙচুর করেন। পরে ওই পাঁচজনকে দুই হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। এতে ক্ষেপে যান বেত্রঘাতের শিকার নুরুল ইসলাম।

তবে বদিউল আলমের সমর্থকেরা দাবি করেন, এটি বদিউল আলমের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, একারণে কয়েকজন আওয়ামী লীগের নেতা একজোট হয়ে মামলাটি করিয়েছেন।

বাদিপক্ষের আইনজীবী লুৎফুল কবির বলেন, আগাম জামিনের মেয়াদ শেষ হলে চেয়ারম্যান ও তাঁর শ্যালক আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আসামিরা পালিয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকায় আদালত তাঁদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •