মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

বিএস (বাংলাদেশ সার্ভে) এর মৌজা ম্যাপ মতে কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়ক ত্রিপক্ষীয় সমন্বিত পরিমাপ করা হবে। পরিমাপে কক্সাবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক), সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং প্রধান সড়কের সংশ্লিষ্ট এলাকার উভয়পার্শ্বের জমি, ভবনের মালিকদের সার্ভেয়ার ও প্রতিনিধি থাকবে।

মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর কক্সাবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব:) ফোরকান আহমদ এর সাথে প্রধান সড়ক পরিমাপ নিয়ে ২টি প্রতিনিধি দল তাঁর কার্যালয়ে পৃথকভাবে সাক্ষাত করতে গেলে তিনি একথা বলেন। প্রতিনিধিদল দ্বয় মনগড়া ও ভূল পরিমাপ নাকরে সঠিক ও যর্থাথ পরিমাপ করার জন্য কউক চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানান। সঠিক পরিমাপ সাপেক্ষে প্রধান সড়কের টেকসই উন্নয়নে প্রতিনিধিদল দ্বয় কউক-কে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। ত্রিপক্ষীয় সমন্বিত পরিমাপে প্রধান সড়কের কোন জায়গা কারো দখলে থাকলে তা স্বেচ্ছায় দ্রুত ছেড়ে দিতে প্রস্তুত বলে প্রতিনিধিদল দ্বয় কউক চেয়ারম্যানকে জানান।

কউক চেয়ারম্যান লে. কর্নেল ফোরকান আহমদ আরো বলেন, এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে বুধবার ৪ নভেম্বর প্রধান সড়কের হাশেমিয়া কামিল মাদ্রাসা সম্মুখস্থ ব্রীজ থেকে পশ্চিমে কালুরদোকান পর্যন্ত ত্রিপক্ষীয় সম্বন্বিত পরিমাপ করা হবে। যৌথ পরিমাপে পুরো প্রধান সড়কে যে পরিমান সড়কের জমি চিহ্নিত করা হবে শুধুমাত্র সে জমিতেই প্রধান সড়কের উন্নয়ন হবে।

প্রতিনিধিদল দ্বয়ের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়কটি বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন মাপ পরিলক্ষিত হয়েছে। যা কউক এর আগে জানা ছিলোনা। প্রধান সড়কটি কমপক্ষে ৪২ ফুট প্রস্থ এবং সর্বোচ্চ ৫০ ফুট হিসাবে উন্নয়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে যেখানে জায়গা বেশি পাওয়া যাবে, সেখানে জায়গা অনুযায়ী পার্কিং, যাত্রী উঠানামা, যাত্রী চাউনি, সৌন্দর্যবর্ধন ইত্যাদি কাজ করা হবে। কউক চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব:) ফোরকান আহমদ আরো বলেন, শহরের জলবদ্ধতা নিরসনে প্রধান সড়কের হলিডে মোড় থেকে হাশেমিয়া কামিল মাদ্রাসা পর্যন্ত ১২টি ক্রস ড্রেনের উভয় পাশে ৮ শত ফুট থেকে এক হাজার ফুট পর্যন্ত ড্রেন পূণনির্মান করা হবে। ড্রেনগুলো বিএস (বাংলাদেশ সার্ভে) এর মৌজা ম্যাপ মতে কেউ দখলে থাকলে তাদের উচ্ছেদ করা হবে।

শহরের বার্মিজ প্রাইমারী স্কুল সংলগ্ন ব্রীজ থেকে পশ্চিমে লালদীঘির পূর্ব পাড় পর্যন্ত প্রথম প্রতিনিধি দলে প্রধান সড়কের সংশ্লিষ্ট এলাকার উভয়পার্শ্বের জমি ও ভবনের মালিকদের মধ্যে আসাদ কমপ্লেক্সের মালিক খোরশেদ আলম, রক্ষিত মার্কেটের মালিক এডভোকেট তাপস রক্ষিত, বাজারঘাটা ডা. আনোয়ার শপিং কমপ্লেক্স এর মালিক ডা. নুরুল আলম, এম. আলী মার্কেটের মালিক রাশেদ মোহাম্মদ আলী, রশিদ কমপ্লেক্সের মালিক গোলাম মওলা, ভোলা বাবু ভবনের মালিক গোপাল দাশ, মোহাম্মদ চেয়ারম্যান ভবনের মালিক এডভোকেট মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী, চৌরঙ্গী ও পার্শ্ববর্তী ভবনের মালিক মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, আল নিজাম হোটেলের মালিক আবু বকর সিদ্দিক, হোটেল সীবার্ড সংলগ্ন ভবনের মালিক ড. রোকেয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। হাশেমিয়া কামিল মাদ্রাসা সম্মুখস্থ ব্রীজ থেকে পশ্চিমে কালুরদোকান পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রতিনিধি দলে প্রধান সড়কের সংশ্লিষ্ট এলাকার উভয়পার্শ্বের জমি ও ভবনের মালিকদের মধ্যে কালুরদোকান শামীম আরা স্বপ্না ভবনের মালিক অধ্যক্ষ জসিম উদ্দিন, ফেমাস স্টীলের মালিক মাস্টার শফিকুল হক, সৈয়দ সাহেদুজ্জামান, সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান, বশির মঞ্জিলের মালিক শাহ আলম, দুবাইবুড়ি মার্কেটের মালিক হারুনর রশীদ, শেখ সেলিম, পিয়ার মোহাম্মদ বাবুল, নুরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এসময় কউক এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ত্রিপক্ষীয় সমন্বিত পরিমাপ নিয়ে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •