সিবিএন ডেস্ক:
রাত পোহালেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট। আগামী চার বছরের জন্য ‘গাধা’ নাকি ‘হাতি’র দখলে যাচ্ছে হোয়াইট হাউজ, নির্ধারণ হবে আগামীকাল মঙ্গলবার। প্রতিবারের মতো এবারও ‘হাতি’ প্রতীকে নির্বাচনী মাঠে রিপাবলিকান প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে ‘গাধা’ প্রতীকের ব্যালটে বারাক ওবামার উত্তরসূরি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন।

এখন পর্যন্ত হওয়া প্রায় সব জরিপেই ‘হাতি’র চেয়ে নির্বাচনী দৌড়ে ঢের এগিয়ে ‘গাধা’। সর্বশেষ নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়ানা কলেজের জরিপে চার গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে এগিয়ে ‘গাধা’র প্রার্থী জো বাইডেন। তবে ভোটাররা ‘গাধা’ নাকি ‘হাতি’র পিঠেই বোঝা চাপাবেন তা জানা যাবে নির্বাচনের ভোট গণনার পর।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘নির্বাচনী জরিপ ফলাফল নয়। এটি ভুল প্রমাণিত হতে পারে। গত নির্বাচনে সব জরিপে হিলারি ক্লিনটন এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সুতরাং ট্রাম্পের নির্বাচিত হওয়ার আশা এখনো শেষ হয়ে যায়নি।’

নির্বাচনে জিততে ‘গাধা’ ও ‘হাতি’র বিতর্কে বিস্মিত হয়েছে গোটা বিশ্ব। কখনো ‘গণতান্ত্রিক’ উপায়ে আবার কখনো ‘বেপারোয়াভাবে’ চটেছেন একজন আরেকজনের ওপর। ভোটারদের বাগে আনতে করেছেন নানারকম ছলচাতুরি। ‘হাতি’ রীতিমত অভিযোগ করে বেশ কয়েকবার বলেছেন, ‘গাধা জিতলে, জিতবে চীন, হারবে আমেরিকা। ধূলিসাৎ হবে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের স্বপ্ন।’

অন্যদিকে ‘হাতি’কে ক্ষেপাটে বুড়ো আখ্যা দিয়েছেন ‘গাধা’ সমর্থকরা। করোনা মহামারি, জলবায়ু পরিবর্তন ও পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে ‘গাধা’র শিবিরে তীব্র সমালোচিত ‘ঘোড়া’। করোনা মহামারিকে সঠিক উপায়ে না ঠেকানোয় ‘হাতি’র শাস্তি দাবি করেছেন ‘গাধা’। বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদ ছড়াচ্ছেন ‘হাতি’র প্রার্থী ট্রাম্প।’

শুধু ‘গাধা’র শিবিরেই নয়, সাংবাদিকদের কটূক্তি ও বিজ্ঞানকে অবজ্ঞা করার কারণে সমগ্র বিশ্বে সমালোচিত ‘হাতি’। করো্নাভাইরাস ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো ভয়ংকর ইস্যুতেও ‘হাতি’র অবহেলা চোখে পড়ার মতো। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের বিশ্লেষণে বারবার সত্য প্রমাণিত হয়েছে ‘হাতি’র মিথ্যার বলার বিষয়টি।

শুরু থেকেই কোভিড-১৯ ভাইরাসকে চীনা ভাইরাস হিসেবে উল্লেখ করেছে ‘হাতি’। মারাত্মক ছোঁয়াচে এই ভাইরাস থেকে বাঁচতে মাস্ক পরিধানে অনীহার পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়টিও কাঁদিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধানকে। শুধু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধানই নয়, ‘হাতি’র আচারণে ২০১৬ সালে জাতিসংঘের জলবায়ু বিষয়ক এক সম্মেলনে কেদেঁছিল পরিবেশকর্মীরা। ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করাটা একধরনের ‘ধোঁকাবাজি’। এটি চীনের তৈরি একটি ধারণা।’

এরপরই নানা বাহানায় সরে আসেন বারাক ওবামার সময়ে করা ‘প্যারিস চুক্তি’ থেকে। যে চুক্তির মূল উদ্দেশ্যই ছিল পরিবেশ বাচাঁনো। পরবর্তী সময়ে ‘হাতি’ যুক্তি দেন যে, ‘পৃথিবী নিজেনিজেই ঠান্ডা হয়ে আসবে।এক ঠান্ডা করার জন্য অন্য কিছুর প্রয়োজন নেই।’

নির্বাচনের পূর্বে ‘হাতি’র এসব ‘হঠকারিমূলক’ সিদ্ধান্ত ও মন্তব্য বিশ্ববাসীর সামনে এনেছে ‘গাধার’ রিপাবলিকান শিবির। তারা প্রতিজ্ঞা করে বলেছেন, ক্ষমতায় এলে তারা এসব সমস্যার সমাধান করবেন। তবে শেষ পর্যন্ত দেখা যাক কার কাঁধে ওঠে প্রেসিডেন্টের ভার।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •