এম.আর.মাহবুব
চীনের দুঃখ হোয়াংহো,আর কক্সবাজারের দুঃখ সবকিছু ছাড়িয়ে এখন কক্সবাজার সদর উপজেলা গেইটের জলাবদ্ধতা । সামান্য বৃষ্টিতেই পর্যটন শহর কক্সবাজারের প্রবেশ মুখ এলাকা কয়েক ফুট পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে । সৃষ্টি হচ্ছে ভয়ানক জলাবদ্ধতার পাশাপাশি তীব্র যানজট । এতে বছরের অন্তত পাচঁটি মাস জলাবদ্ধতায় আটকে যাচ্ছে কক্সবাজারের উন্নয়নের গতি ।

মূলত: প্রধান সড়ক লাগোয়া প্রায় দু’হাজার ফুট দৈর্ঘ্য উত্তর ডিককুল ছড়ার প্রবেশ মুখ দখল করে অবৈধ স্থাপন নির্মান , ছড়াটির খনন কাজ না হওয়ায় পানি নিস্কাশনের পথটি বন্ধ হয়ে গেছে । ফলে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে কক্সবাজার সড়ক বিভাগ লিংকরোড় থেকে লাবনী মোড় সড়ক পর্যন্ত চার লেনে উন্নিত করনের মেগা প্রকল্পে হাত দিলেও জলে ঢালার উপক্রম হয়েছে ।সদর উপজেলা গেইট বাজার এলাকায় নির্মিতব্য বড়- গভীর ড্রেন কোন কাজে আসছে না । ভরাট উত্তর ডিককুল ছড়ার উদ্ধার পরবর্তী খনন কাজে উদ্যোগ গ্রহণ করার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে । এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

সরেজমিন ঘুরে ও প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায় , যুগ যুগ ধরে ঝিলংজার দক্ষিণ ডিককুল, বৃহত্তর লারপাড়া , দক্ষিণ হাজী পাড়া, পশ্চিম হাজী পাড়া, উপজেলা পাড়া ও খাদ্য গুদাম এলাকার পানি নিষ্কাশনের একমাত্র জায়গা উত্তর ডিককুল ছড়া । সময়ের ব্যবধানে ছড়াটির প্রবেশ মুখ দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মান করেছে ক’জন অসাধু। এতেও থেমে নেই- আরএস ,বিএস সিটে প্রায় দু’হাজার ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৫ফুট প্রস্থ ছড়াটির বেশ কিছু অংশ দখলে নিয়েছে দু’পাশের লোকজন । মৃত প্রায় ভরাট ছড়াটি উপর থেকে ধেয়ে আসা বৃহৎ সাত গ্রামের পানির ভর সইতে পারছে না । তাছাড়া প্রধান সড়ক লাগোয়া কক্সবাজার সড়ক বিভাগ নির্মিতব্য ড্র্রেনের গভীরতা থেকে ভরাট ছড়াটি এখন অন্তত ৫/৬ ফুট উঁচুতে ।ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই ভয়ানাক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে কক্সবাজারের প্রবেশ মুখখ্যাত সদর উপজেলা গেইট এলাকা । হরদম প্লাবিত হচ্ছে সদর উপজেলা গেইট বাজারের শত শত দোকানঘর ও বৃহত্তর হাজীপাড়ার ৫শতাধিক বসত বাড়ি ।

অন্যদিকে উপর থেকে ধেয়ে আসা পানির স্বাভাবিক গতিপথ রুদ্ধ হওয়ায় উত্তর ডিককুল ছড়া ডিঙ্গিয়ে পানি ঢুকে পড়ে লোকালয়ে । এতে বৃহত্তর হাজী পাড়া, ডিককুলের ৫শতাধিক পরিবারের আড়াই হাজার জনগোষ্টি বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার শিকার হয় । এসব পরিবারের অধিকাংশের বাড়ি -ঘর কয়েক ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায় ।সৃষ্টি হয় ভয়ানক জনদূর্ভোগ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রশিদ মিয়া জানান, উত্তর ডিককুল ছড়া উদ্ধার পরবার্তী খনন কাজ না করলে মহা-সড়কে যতই উন্নয়ন কাজ করুক, কোন কাজে আসবে না। সমস্যার আসল জায়গায় হাত দিলে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে জনগন সুফল পাবে। না হয় কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ভেস্তে যাবে।

ঝিলংজার ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম জানান- আমার বাসা উত্তর হাজিপাড়ায় । গ্রামের ৫শতাধিক পরিবার বছরে অন্তত ৫ টি মাস পরিবার-পরিজন নিয়ে বসত ঘরে জলাবদ্ধতায় আটকে থাকে। এতে সরকারের সুনাম নষ্ট হচ্ছে।

সদর উপজেলা গেইট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব সৈয়দ আকবর জানান-মহাসড়ক লাগোয়া উত্তর ডিককুল ছড়ার প্রবেম মুখের সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে। পাশাপাশি শতবর্ষী নালাটির আসল জায়গায় গিয়ে খনন কাজ সম্পাদন করলে আমরা ব্যবসায়ীরা প্রতিবছর লাখ লাখ টাকার ক্ষতির গচ্ছা থেকে রক্ষা পাব।

ভয়াবহ চলমান সমস্যার ব্যাপারে জানতে চাইলে কক্সবাজার সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা জানান- সমস্যাটি দীর্ঘদিনের । আমরা যতই সড়ক উন্নয়ন কিংবা ড্রেন নির্মাণ করিনা কেন-সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে গেলে উত্তর ডিককুল ছড়া খনন করতেই হবে ।বিষয়টি আমার হাতে নেই । এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক অথবা উপজেলা প্রশাসন উদ্যোগ নিতে পারেন ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •