মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

নর হত্যার দায়ে আবদুল গণি নামক একজনকে ফাঁসির রায় ঘোষণা করেছেন- কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল। বৃহস্পতিবার ১৯ অক্টোবর বিকেলে জেলা ও দায়রা জজের আদালতে এ ফাঁসির রায় ঘোষণা করা হয়।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি এডভোকেট ফরিদুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ হলো-২০০৫ সালের ২৯মে সাকাল সাড়ে ৮ টা থেকে ৯ টার মধ্যে টেকনাফের বাহারছরা ইউনিয়নের শামলাপুরের পুরান পাড়ার ফোরকানিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন জায়গায় আবদুর রশিদের পুত্র আবদুল গণি’র সাথে একই এলাকার আহমদ হোছনের পুত্র মাহমুদুল হকের কাঁঠাল বিক্রির পাওনা টাকা নিয়ে তুমুল তর্ক হয়। তর্কের এক পর্যায়ে তার হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে মাহমুদুল হককে ঘটনাস্থলে হত্যা করে।

এ ঘটনায় নিহত মাহমুদুল হকের পিতা আহমদ হোছন বাদী হয়ে ফৌজদারী দন্ডবিধির ৩০২ ধারায় আবদুল গণিকে একমাত্র আসামী করে টেকনাফ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। যার টেকনাফ থানা নম্বর : ১৯/২০০৫ ইংরেজি, জিআর মামলা নম্বর : ৭৯/২০০৫ ইংরেজি এবং এসটি মামলা নম্বর : ০১/২০০৬ ইংরেজি। মামলায় ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ, জেরা ও যুক্তিতর্ক সম্পন্ন করা হয়। বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে মামলাটির রায় প্রদানের ধার্য দিনে কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল মামলার একমাত্র আসামী আবদুল গণি’কে নর হত্যার দায়ে তাঁকে ফাঁসি দেওয়ার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মহামান্য হাইকোর্টের অনুমোদন সাপেক্ষে আসামীর মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আসামী আবদুল গণি’র গলায় রশি দিয়ে ফাঁসি কার্যকর করার জন্য বলা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পিপি এডভোকেট ফরিদুল আলম। একমাত্র আসামী আবদুল গণি’র পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট মোহাম্মদ মোস্তফা ও এডভোকেট দীলিপ দাশ।

আসামী আবদুল গণি মামলায় প্রথমদিকে আদালতে হাজির থাকলেও মামলার যুক্তিতর্কের পর্যায় থেকে সে পলাতক রয়েছে। প্রসঙ্গত, কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল কক্সবাজারে যোগদান করার পর এই প্রথম সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির রায় ঘোষণা করলেন।

এ রায় ঘোষণা প্রসঙ্গে পিপি এডভোকেট ফরিদুল আলম বলেন, এ রায় একটি যুগান্তকারী রায়। এ রায়ের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত সহ সংশ্লিষ্ট আদালতে বিভিন্ন কারণে দীর্ঘ জটে পড়া গুরুত্বপূর্ণ মামলা সমুহ সচল ও চুড়ান্ত নিষ্পত্তি করা শুরু হলো।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •