শাহিদ মোস্তফা শাহিদ :

জনবল সংকটে পড়েছে ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ। এমন সুযোগ আইনশৃংখলা পরিস্থতির চরম অবনতি ঘটেছে। বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা। অল্প সংখ্যক পুলিশ সদস্য দিয়ে পুরো ঈদগাঁও এলাকায় দায়িত্ব পালন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বর্তমান যারা রয়েছে তাদের।

একটি সূত্রে জানা গেছে, আগেকার দিনে একজন ইনচার্জ (পুলিশ পরিদর্শক) এর নেতৃত্বে ৪ জন সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) , ৬ জন সহকারী উপ পুলিশ পরিদর্শক (এএসআ),১৬ জন কনস্টেবল,বিশেষ আনসার, আমর্স ব্যাটালিয়নসহ ৩৫/৪০ জনের টিম ছিল। সম্প্রতি পুরো কক্সবাজারে পুলিশের বড় ধরনের রদবদল আনা হলে ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্রের সবাইকে এক যোগে বদলী করা হয়। বদলীর এক মাস পেরিয়ে গেলেও স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে ইনচার্জসহ মোট ১৮ জন পুলিশ সদস্যকে। বৃহত্তর ঈদগাঁওয়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হওয়ার পেছনে জনবল সংকটকে দায়ী করেছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা। এ অবস্থা বিরাজ করলে ঈদগাঁওয়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন আরো অবনতির হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন পুলিশ সদস্যও বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, তদন্ত কেন্দ্রে সবাই নতুন। এখনো পুরো এলাকা চিনতে পারছে না। এমন সুযোগে কিছুটা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। অল্প কয়েকদিনের মধ্যে নতুন অফিসার, সদস্য স্থলাভিষিক্ত করা হবে। সূত্রে জানা যায়, নতুন পুলিশ যোগদানের পর থেকে ঈদগাঁওতে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, জবর দখল , খুন, মারামারি নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। যোগদানের ১০ দিনের মাথায় ঈদগাঁও ঈদগড় সড়কে গণ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকতের চাইনিজ কুড়ালের কোপে প্রাণ হারিয়েছে তরুণ সংগীত শিল্পী জনি দে রাজ ও দিনমজুর মোহাম্মদ কালু নামের দুই ব্যক্তি । ঐ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক কিংবা অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। কারা ঘটিয়েছে ঘটনাটি তাও সনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

গরু চুরি- ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে কয়েকবার। চিংড়ি ঘের দখল নিয়ে ঘটছে গোলাগুলি। ছিনতাই হয়েছে অটোরিকশা, মোবাইল,নগদ অর্থ। বেপরোয়া হয়ে দিব্যি মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। এলাকায় এলাকায় জুয়ার আসর বসছে প্রতিনিয়ত। মাদকের টাকা জোগাড় করতে বিভিন্ন বসতবাড়িতে হানা দিচ্ছে চোর সিন্ডিকেট। উদ্বেগ, উৎকন্ঠায় রয়েছে ব্যাংক, বীমা, শিল্প প্রতিষ্ঠান গুলো।

একজন পুলিশ সদস্য সিবিএনকে বলেন, “বৃহত্তর ঈদগাঁও একটি বিশাল জনবহুল এলাকা ভৌগলিক অবস্থান থেকে ভারুয়াখালী, চৌফলদন্ডী ইউনিয়নও দেখতে হয় তদন্ত কেন্দ্রকে। ৭ টি ইউনিয়নের জন্য পুলিশ সদস্য রয়েছে মাত্র ১৮ জন৷ সেখান থেকেও ৩ জন ঈদগাঁও ঈদগড় সড়কে নিয়মিত টহলে থাকতে হয়। একজন সেরাস্তাদার(মুন্সি) , একজন সেন্টি থাকতে হয় প্রতিদিন। আর থাকে ১২ জন, এ ১২ জন নিয়ে কোন রকম কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ঈদগাঁও পুলিশ। ইমারজেন্সি ডিউটিতে থাকতে হয় ৫ জন। এমন সময়ে ভিআইপি হিসাবে কেউ ঈদগাঁওতে আসলে তাদের স্কট দিতে হয় ৩/৪ জন সদস্যকে৷ যানবাহন রয়েছে মাত্র একটি তাও লক্করঝক্কর।সবমিলিয়ে দায়িত্ব পালনে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্র পূর্বে যত সংখ্যক পুলিশ সদস্য ছিল তড়িৎ গতিতে সেসব পদে পুলিশ সদস্য স্থলাভিষিক্ত করা না হলে ঈদগাঁওতে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটবে এবং নির্বিগ্নে মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবে। তারা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •