খোরশেদ আলম


কেউ একজন ধরুন লাল মিয়া ( প্রতিকী নাম), সে ধর্ষণ করল এক নারীকে তখন ফেইসবুকে যে ঝড় বয়ে যায় তার আলোচনা নিন্মে উপস্থাপন
করলাম ।

১। অধিকাংশ নারী – নারী প্রথমে পুরুষ সমাজকে দোষারোপ করবে – লাল মিয়া’কে নয়। সরকার ঠিকই লালমিয়া’র বিচার করবে কিন্তু নারীদের চোখে পুরুষ সমাজ এজন্য দায়ী – –
লাল মিয়া’র নাম মুছে যাবে । অথচ সেই পুরুষই কারো বাবা, কারো ভাই আর কারো স্বামী ।

২। তারপর শুরু – পুরুষ সমাজের বিরুদ্ধে নারীরা প্লেকার্ড নিয়ে প্রেস ক্লাবের সামনে দাঁড়াবে ও নানা ধরনের শ্লোগান দিবে, মিছিল করবে ।

টিভি’তে নারীবাদী নেত্রী নিয়ে আলোচনা হবে, তাদের কথায় সুর মেলানো তথাকথিত প্রগতিবাদী পুরুষ থাকবে, নারী উপস্থাপিকা থাকবে এবং তারপর…. তার আর পর নেই – নেই কোন ঠিক ঠিকানা… নারী উপস্থাপিকা মুখ ফসকে (ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়) খারাপ ও অস্বস্তিকর-অপ্রয়োজনীয় কথা একটা বলে ফেলবে ।

৩। পুরুষ মহা রাগান্বিত হবে – রাগান্বিত হয়ে এমন গালি-গালাজ করবে আমার লেখনিতে বের করা দুস্কর আসলে আপনারা সেই গালিগালাজের ধরন জানেন । ফেইসবুকে আর কিছু পাবেন না শুধু গালি আর গালি ছাড়া । গালাগালিতে নারীকে সর্বশেষ পতিতা বানিয়ে ছাড়বে অথচ সেই নারীও যে কারো মা, কারো বোন কারো স্ত্রী কেঊ ভাবলো না ।

৪। নারী রাগে উথাল-পাতাল– মহা ক্রোধে ফেটে পড়বে নারী । আবার কিছু চ্যানেলে নারীরা পুরুষদের চৌদ্দগোস্ঠী উদ্ধার করে ঝাল না মেটার কারণে ধর্মকে দোষ দিবে তাও শুধু ইসলাম ধর্ম । অন্য ধর্মেের নারী-পুরুষ শান্তিতে বসবাস করবে, তাদের কোন দোষ নাই যত দোষ ইসলাম ধর্ম ও এ ধর্মের অনুসারী মুসলমান ।

৫। কেল্লা ফতে –এবার যাই কোথায় ? মুসলমান পুরুষ ক্ষেপে যাবে, মাদ্রাসা গরম হয়ে উঠবে, মৌলভীরা হুংকার ছাড়বে, গালিগালাজে রাজপথ
প্রকম্পিত হবে ।

৬। ষড়যন্ত্র শুরু — দেশী – বিদেশী ষড়যন্ত্র ও নাস্তিক এবং তসলিমা নাসরীনসহ তথাকথিত প্রগতিশীলরা গুটি’র চাল দিয়ে তামাশা দেখবে ।
৭। লাল মিয়া কই, কই — মুল আসামী লাল মিয়া’র নাম গন্ধ নাই, পুরুষ সমাজও নাই, নারীর একমাত্র প্রতিপক্ষ হয়ে গেল মুসলমান এবং তাদের ধর্ম ইসলাম । চোখ মেলে তাকালে দেখবেন দিব্যি এভাবে চলছে ।

৮। সরকারের দায়-দায়িত্ব — সরকার নীরব কারণ পুলিশ লাল মিয়া’কে গারদে ঢুকিয়েছে, রিমান্ড শেষে বিচার শুরু হবে ।

৯। পর্যালোচনা – আসলে মৌলভী বলেন মুসলমান বলেন কিংবা নারী বলেন কেউ কোরআন – হাদীসের নির্দেশনা কি কখনো জানতে চাই নি, প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আরবীতে পড়ে গেছেন – অধিকাংশজন প্রায় মাদ্রাসা পড়ুয়াসহ, কোরআনের অর্থ কি, নির্দেশনা কি জেনে দেখেন নি – তাই এই ঝগড়া বিবাদ । যতই উচ্চ শিক্ষিত হউক কারও ধৈর্য্য, আদব – কায়দা, আচার আচরণ মানবিক পর্যায়ে থাকে না, মনে হয় ঝগড়াতেই ঝাল মিটে ও খারাপ ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ বেশী যা অবশ্যই অবশ্যই ত্যাগ করতে হবে ফলে সমাজ হবে সুন্দর এবং রাস্ট্রে শান্তির সুবাতাস বইবে ।

১০। উপসংহার – রাসুল দঃ নারীর প্রতি পুরুষের আচরণ কি রকম হবে বিদায় হজ্জে গুরুত্বসহকারে যে নির্দেশনা দিয়েছেন তা থেকে যৎসামান্য অর্থাৎ কিঞ্চিৎ আপনাদের পালনার্থে লিখে দিলাম

হযরত মুহাম্মদ দঃ বিদায় হজ্জের ভাষণে মানবজাতীর উদ্দেশ্যে শেষ নির্দেশনা উপস্থাপন করতে গিয়ে বলেন, ” ঈর্ষা, হিংসা-বিদ্বেষ থেকে দুরে থাকবে । এসব সকল সৎ গুনকে ধ্বংস করে দেয় । ”
হযরত মুহাম্মদ দঃ নারীদের সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, ” তোমরা নারীদের সংগে কখনও নিস্ঠুর আচরণ করো না । তাদের উপর তোমার যেমন অধিকার ঠিক তেমনি তাদেরও তোমাদের উপর সমান অধিকার রয়েছে । সুতরাং তাদের কল্যাণের দিকে সবসময় খেয়াল রেখো । ” এখানে নারীর সম্মান সমুন্নত রাখতে পুরুষের প্রতি যে নির্দেশনা তার উল্লেখযোগ্য তিনটি দিক হ’ল, নিস্ঠুরতা পরিহার্য, অধিকার সমান, কল্যাণের দিকে খেয়াল রাখা — এগুলো, না মানার অর্থ দাঁড়াই
– রাসুল দঃ এর নির্দেশ না মানা —
আর রাসুল দঃ এর নির্দেশ না মানা অর্থ নির্ঘাত জাহান্নামের টিকেট অগ্রিম কিনে রাখা ।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ দঃ আল্লাহ তায়ালা’র নির্দেশে আরে বলেন, ” মেয়ে শিশু হ’লো বরকত (প্রাচুর্য) ও কল্যাণের প্রতীক৷ “।
অনেক পুরুষ এমনকি নারীও নবীর শান-মান রক্ষার্থে জীবন দিবে অথচ নবীর দেওয়া নির্দেশনা পালনে কোন
খেয়াল নেই এসব একমাত্র কোরআন না বুঝে পড়ার কারণ ।
আপনার খারাপ ব্যবহারের ফলে আপনার ভেতর চক্রান্তকারীরাও ঢুকে তারা খারাপ ব্যবহার জুড়ে দিবে ফলে মুসলমানরা হেয় হতে থাকে আর নির্বুদ্ধি মুসলমান এসব না বুঝে পক্ষান্তরে ইসলামের ক্ষতি
করে ফেলে ।
হে মুসলমান আপনারা ইসলাম ধর্মের অনুসারী তাই বলছি — নারী এমনে বলুক, প্রেস ক্লাবের সামনে বলুক কিংবা টিভি মিডিয়া’য় খারাপ কিছু বলুক, আপনাকে প্রথমে বুঝাতে হবে অন্যথায় আপনার জন্য আইনের পথ খোলা আছে । হঠাৎ চটে গিয়ে উত্তেজনা দেখাবেন না যা ইসলামে অনুমোদন নাই এবং ইসলামের লাভ করতে গিয়ে ক্ষতিই বয়ে আনবে সর্বাধিক ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •