মো. নজরুল ইসলাম মন্ডল


কিছুদিন আগে বড় ছেলে ইঞ্জিনিয়ার মো. জাহাঙ্গীর কবির মন্ডল (লিটন) জানায় তাঁর বিয়াই (লিটনের ভায়রা মরহুম ইঞ্জিনিয়ার আহম্মেদ আলী সাহেবের ছেলে ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আশরাফুল হক ইথেলের শ্বশুড় মুহম্মদ নূরুল ইসলাম) কক্সবাজার জেলার আঞ্চলিক শব্দের উপর গবেষণামূলক গ্রন্থ রচনা করেছেন। সংবাদটা শুনে গ্রন্থের একটা কপি পাবার ইচ্ছে প্রকাশ করলে আমার ছেলে গ্রন্থের প্রকাশক কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমীর সভাপতি ও গ্রন্থাকার জনাব মুহম্মদ নূরুল ইসলামের কাছ থেকে গ্রন্থের একটা কপি সংগ্রহ করে লোক মারফৎ আমাকে পাঠিয়ে দেয়। গ্রন্থ হাতে পাবার আগে ধারণা ছিল ছোট কলেবরের গ্রন্থ হবে আর তাতে থাকবে আঞ্চলিক ভাষা ও সাহিত্যের বিভিন্ন দিক নিয়ে লেখা। নিজে যেহেতু লালমনিরহাট তথা রংপুর অঞ্চলের ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে কাজ করি তাই গ্রন্থ হাতে পেয়ে তাড়াতাড়ি মোড়ক উন্মোচন করি ও দেখতে পাই আমার প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশী ওজন, সমৃদ্ধ এক মূল্যবান গবেষণাগ্রন্থ এটি। গ্রন্থের প্রকাশক নিজে বিষয়বস্তু সংগ্রহ, সংকলন ও সম্পাদনা করেছেন। উৎসর্গ করা হয়েছে গবেষক কাজী রকিবুল হক, লোকবিজ্ঞানী শামসুজ্জামান খান, ইতিহাসবিদ ড. মোহাম্মদ মুহিবুল্ল্যাহ সিদ্দিকীর করকমলে। এ এক যথার্থ উৎসর্গ। এমন গ্রন্থতো শুধু তাঁদের প্রতিই উৎসর্গ করা সাজে।

গ্রন্থের শুরুতে গণ-বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মনসুর মুসার একটি মুখবন্ধ মুদ্রিত হয়েছে। অধ্যাপক মনসুর মুসা ‘নূরুল ইসলামের উপভাষা অধ্যয়ন’ প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন, মুহম্মদ নূরুল ইসলাম তাঁর ‘বাঙলাভাষার আঞ্চলিক শব্দবৈচিত্র : কক্সবাজার’ গ্রন্থে যে কাজটি করেছেন তা তার অভিজ্ঞতার চৌহদ্দির মধ্যে সীমাবদ্ধ। তিনি পূর্বসূরীদের উপাত্ত গ্রহণ করেছেন। নিজের সুদীর্ঘ জীবন পরিক্রমায় যে সকল শব্দের সংস্পর্শে এসেছেন সেগুলো নিবন্ধন করেছেন, শব্দগুলো সম্ভাব্য কোন উপভাষা থেকে উদ্ভুত হয়েছে তা নির্ধারনের চেষ্টা করেছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে তিনি শব্দগুলোর প্রয়োগ দৃষ্টান্ত প্রদর্শন করেছেন। দেশের স্বনামধন্য একজন ব্যক্তি গ্রন্থ সম্পর্কে যে মূল্যায়ন করেছেন তারপর আর কথা থাকে না। তিনি গ্রন্থের দুর্বল দিকগুলো নিরপেক্ষতার সাথে তুলে ধরে গ্রন্থকারের উপকার করেছেন। পরবর্তিতে কোন গ্রন্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে তাঁর মূল্যায়ন পথের দিশারী হবে বলে আমার বিশ্বাস।

এরপর ‘গ্রন্থাকারের কথা’ শীর্ষক শিরোনামে রয়েছে গ্রন্থাকারের অভিমত। তিনি কক্সবাজারের ভাষা সাহিত্য ও সংস্কৃতির সমৃদ্ধিতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ভাষাভাষীর অবদানের কথা স্বীকার করতে গিয়ে লিখেছেন, গবেষণায় দেখা গেছে কক্সবাজার অঞ্চলে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষের আগমন ঘটেছিল। এখানে আগমন ঘটেছে তুর্কি, চীনা, আরবি, ফার্সি, উর্দ্দু, ডাচ্, সিন্ধি, সাঁওতাল, রাখাইন, মগ, বার্মিজ, চাকমা, চাক, ত্রিপুরা, মুরং, ইংরেজ, পর্তুগিজ, ভূটিয়া, দ্রাবিড়সহ অনেকের, তাদের সাথে এসেছে তাদের ভাষা, সংস্কৃতি। এর ফলে কক্সবাজার অঞ্চলের ভাষা, শব্দভা-ার, সাহিত্য-সংস্কৃতি হয়ে উঠেছে সমৃদ্ধ’।

গ্রন্থকার মুহম্মদ নূরুল ইসলাম কক্সবাজারের আঞ্চলিক ভাষাকে চট্টগ্রামের বাংলা ভাষার এক সম্প্রসারণ বলে মনে করেন। তাঁর কথায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো কক্সবাজারের বিশ মাইল অন্তর ভাষার আভ্যন্তরীন একাধিক উপভাষার সৃষ্টি হয়েছে। এই উপভাষা সৃষ্টি দোষের কিছু নয়। এতে ভাষার শব্দভা-ার বাড়ে একই শব্দ একেক স্থানে ভিন্নভাবে ব্যবহার হবার ফলে ভাষার সৌন্দর্যে যুক্ত হয় নতুন মাত্রা। তার মতে উপভাষা হচ্ছে কোনো এলাকার বা ভৌগলিক সীমার উচ্চারিত ভাষার কোনো বিশেষরূপ, যা উচ্চারণে ব্যাকরণগত গঠনে এবং বাগধাঁরার ব্যবহারে সাধু ও সাহিত্যিক ভাষা থেকে এতোটা পার্থক্যপূর্ণ যে পার্থক্য যথেষ্ট লক্ষযোগ্য। যেমন, কক্সবাজার এলাকার আঞ্চলিক শব্দগুলোর এক বিরাট অংশ চট্টগ্রামের আঞ্চলিক শব্দ হলেও উচ্চারণ রীতি ও অর্থগতভাবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভিন্নতা আছে। দৃষ্টান্তটি লালমনিরহাট অঞ্চলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। লালমনিরহাট বৃহত্তর রংপুর জেলার একটা মহকুমা থেকে বর্তমানে জেলায় পরিণত হয়েছে তাই রংপুর থেকে লালমনিরহাটের দূরত্ব চল্লিশ কিলোমিটারে মতো হওয়ায় রংপুরবাসীর কথ্য ভাষার সাথে লালমনিরহাটের মানুষের কথ্যভাষার অনেকাংশে পার্থক্য লক্ষ করা যায়। অন্যদিকে লালমনিরহাট জেলার যে সকল উপজেলা আছে সেগুলোর দূরত্ব কমপক্ষে বিশ কিলোমিটার সেক্ষেত্রে ভাষাগত পার্থক্য একই জেলার মধ্যেও দেখা যায়। যেমন লালমনিরহাটের মানুষ দেখি, খাই, যাই বলতে যা বুঝায় লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ ও দূরবর্তী উপজেলাগুলোর মানুষ বলে দ্যাখোং, খাং, যাং ইত্যাদি। আবার কেউ কেউ বলে যাইছে, খাইছে ইত্যাদি। শহরাঞ্চলে উপভাষার চর্চা ও ব্যবহার বহুল প্রচলিত হলেও গ্রামবাসী এখনও যুগ যুগ ধরেরাখা ভাষা ব্যবহার করে। আঞ্চলিক লোকসাহিত্য ও লোকসংগীতে কথ্যভাষার এখনও অবিকৃত প্রচলন রয়েছে। নিচে আঞ্চলিক ভাষার কিছু দৃষ্টান্ত দেয়া হলো। যেমন- ‘আমি ভাত খাই’ বাক্যটা লালমনিরহটের পাশ্ববর্তী এলাকার গ্রামের মানুষ বলে ‘মুই ভাত খাঁও’। কালীগঞ্জ উপজেলায় বলে মুই ভাত খাওঁছে, পাটগ্রামের দিকে বলে ‘মুই ভাত খাওসোল’, আবার অনেকে বলে ‘মুই ভাত খ্যাং’। অন্যদিকে ‘সে যায়’ বাক্যটাকে লালমনিরহাটের পাশ্ববর্তী গ্রামে বলে ‘ওয়াঁয় যায়’, ‘উমরা যায়’, দূর উপজেলায় বলে ‘ওয়াঁয় যায়ছে’, ‘যায়সোল’ ইত্যাদি।

লালমনিরহাট তথা রংপুর অঞ্চলের ভাষার প্রধান বৈশিষ্ট্য :

লালমনিরহাট তথা রংপুরের আঞ্চলিকভাষার এমন কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যা স্থানীয় মানুষের কাছে সহজবোধ্য হলেও বৃহত্তর রংপুর জেলার দূরবর্তী জেলার মানুষের কাছে দুর্বোধ্য মনে হতে পারে। রংপুরের আঞ্চলিক ভাষার গবেষক মতিউর রহমান বসুনিয়া ‘রংপুরের আঞ্চলিকভাষার অভিধান ও প্রয়োগরীতি’ গ্রন্থে রংপুরের আঞ্চলিকভাষার যে সকল প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন তা লালমনিরহাট অঞ্চলের আঞ্চলিকভাষার ক্ষেত্রেও বহুলাংশে প্রযোজ্য বিধায় সেগুলি তুলে ধরা হলো। (উদ্দেশ্য কক্সবাজার অঞ্চলের মানুষের কাছে অত্র অঞ্চলের ভাষাকে পরিচিত করা। রংপুরের এই শব্দের ব্যবহারটা কিঞ্ছিত গ্রন্থাকার দেখাতে চেষ্টা করেছেন।)

১। শব্দের আদিতে র- বর্ণের স্থলে অ- বর্ণ উচ্চারিত হয়। যেমন : অমপুর (রংপুর), অং (রং), আম (রাম), অস (রস), অক্ত (রক্ত), অসুন (রসুন), অসিক (রসিক) ইত্যাদি।

২। কোন কোন বর্ণের আদি বর্ণ ল- হলে ন- উচ্চারিত হয়। যেমন : নাউ (লাউ), নড়াই (লড়াই), নাল (লাল) ইত্যাদি।

৩। অনেক ক্ষেত্রে ক্রিয়াবাচক শব্দের মাঝে অতিরিক্ত ই/উ বর্ণ যুক্ত হয়ে ব্যবহৃত হয়। যাইস (যাবো), খাইম (খাবো), পাইম (পাবো), চউক (চোখ) ইত্যাদি।

৪। ন, না, নাই বর্ণ/শব্দ ক্রিয়ার শেষে ব্যবহারের পরিবর্তে আগে বসে। যেমন : মুই না যাইম (আমি যাবো না), মুই না খাইম (আমি খাবো না), মুই না চাঁও (আমি চাই না) ইত্যাদি।

৫। রেফ/র-ফলা যে সকল শব্দে থাকে তা লুপ্ত হয়ে দ্বিত্ত্ব বর্ণ উচ্চারিত হয়। যেমন : বন্ন (বর্ণ), ধম্ম (ধর্ম), সূজ্জ (সূর্য), কম্ম (কর্ম) ইত্যাদি।

৬। স+থ (স্থ) যুক্ত বর্ণ উচ্চারিত না হয়ে কেবল ‘থ’ উচ্চারিত হয়। যেমন থান (স্থান), থল (স্থল), থায়ী (স্থায়ী) ইত্যাদি।

৭। অনেক শব্দের শেষে ইয়া/উয়া যুক্ত হয়ে উচ্চারিত হয়। যেমন : বাউদিয়া (বাউদে), নাড়িয়া (নেড়ে), গাছুয়া (গছ) ইত্যাদি।

৮। ক্ষেত্র বিশেষে ‘দ’-বর্ণ ‘ড’ হিসাবে উচ্চারিত হয়। যেমন : ডাড়াও (দাঁড়াও), ড-ি (দন্ডি), ডাড়ি (দাঁড়ি), ডাত (দাঁত) ইত্যাদি।

৯। অধিকাংশ কারকে বিভক্তি লোপ পেয়ে ত (ৎ) উচ্চারিত হয়। যেমন : হাড়িৎ (হাড়িতে), বাড়িত (বাড়িতে), গাছত (গাছে), মাঠত (মাঠে) ইত্যাদি।

১০। রংপুর অঞ্চলে সম্বোধন পদে মুই, তুই, বা, বাহে, বারে, তোরা, তোমরাগুলা নির্ধিধায় ব্যবহৃত হয়।

উপরের দৃষ্টান্তগুলি বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের তাই লালমনিরহাট অঞ্চলের মানুষের নিত্য ব্যবহার্য শব্দ। উপরের দৃষ্টান্তের বাইরে আরো অনেক শব্দ ও বর্ণ লালমনিরহাটের মানুষ ব্যবহার করে যেগুলি লালমনিরহাটবাসীর একান্ত নিজস্ব। যেমন : হোটলায় (ঘুতামারে), খাউদা (দুধ), ঢারস (সাহস), নিয়াইকরে (তর্ক করে), ফাউয়া (খামাখা), নিয়াভাই (মিয়া ভাই), উই (রুই) ইত্যাদি।

লালমনিরহাট তথা অত্র অঞ্চলের লোকসাহিত্যে স্থানীয় ভাষার রূপ :

লোকসাহিত্যে স্থানীয় ভাষার রূপ ঠিক পূর্বের মতো আছে। এক সময় লোক মুখে মুখে চলে আসা সাহিত্য ও সংগীতের উপাদানগুলো এখন অনেক সংগ্রাহকের কল্যানে লিপিবদ্ধ হয়েছে। তার কিছু কিছু দৃষ্টান্ত নিচে প্রদান করা হলো-

ভাওয়াইয়া গানে আঞ্চলিক শব্দ :

মন মোর আউলিয়া গ্যালো রে, হাউসের একখান কাইন করিয়া।

এখানে ‘মোর’ অর্থ- আমার, ‘আউলিয়া’ অর্থ- এলোমেলো, গ্যালো অর্থ- হয়েছে, ‘হাউসের’ অর্থ- শখের বা ইচ্ছার, ‘কাইন’ অর্থ- দ্বিতীয় বা তার পরের বিয়ে।

আঞ্চলিক গীত :

সস্তা কাটা গুয়ারে যাদুধন,

কাঁচি কাটা পান।

কইনার মাওটা নাংধুকরি,

কাইঞ্চা বয়া যায় নাং।

এখানে গুয়া অর্থ-কাঁচা সুপারী, কইনার অর্থ- বিয়ের কনে, মাও অর্থ-মা, নাংধুকরি অর্থ- চরিত্রহীনা, কাইঞ্চা অর্থ- বাড়ির পেছনে, নাং অর্থ- অবৈধ প্রেমিক।

গীত : নতুন বৌ শ্বশুড় বাড়িতে গেলে তাকে লজ্জা দেবার জন্য বরের বাড়ির মেয়েরা গায়।

হাত মলো মলো গোন্দায়ও, হাত দ্যাখোং মুই,

খাটের না ডাসার মতোন।

ঠ্যাং মলো মলো গোন্দায়ও, ঠ্যাং দ্যাখোং মুই,

কলার গচের না মতোন।

গোন্দায় অর্থ- গন্ধকরে, দ্যাখোং অর্থ- দেখি, ঠ্যাং অর্থ-পাঁ, গচ অর্থ- গাছ, মতোন অর্থ- মত।

প্রবাদ প্রবচনে আঞ্চলিক শব্দ :

কিপটের ধন বগলায় খায়।

কৃপন নিজের ধন নিজে খেতে পারে না অন্যে খায়। কিপটা অর্থ- কৃপন, আর বগলায় অর্থ- বক।

প্রবাদ : ছাত্তয়ার বাপ না কান্দে মাও না কান্দে,

কান্দে টারীর নাউয়া।

যার বিয়াও তার কতা নাই,

পরশী কান্দে ফাউয়া।

টারী অর্থ- গ্রাম, নাউয়া অর্থ- নাপিত, ফাউয়া অর্থ- বেকার।

প্রবাদ : পাচাত নাই ত্যানা, ভাসুরে বাজায় ব্যানা।

পাচাত অর্থ-পেছনে (নিতম্বে), ত্যানা অর্থ-পুরাতন ছেঁড়া কাপড়, ব্যানা অর্থ- এক ধরনের বাদ্যযন্ত্র।

আর একটি প্রবাদ : চৈতালী মাগীর সারা গায়ে নাং।

চৈতালী অর্থ- বেহায়া, নাং অর্থ- অবৈধ প্রেমিক, গাঁয়ে অর্থ- গ্রামে (কুটবুদ্ধি ও দুচ্চরিত্রাদের প্রসঙ্গে প্রবাদটা ব্যবহার করা হয়।)

প্রবাদ : জাও জাওয়ালী এক হাওয়ালী,

ননন্দ মাগী পর।

এক থালি ভাত দিয়া কয়,

বাইরা দূর কর।

জাও অর্থ- জা (স্বামীর ভাইয়ের স্ত্রী), ননন্দ অর্থ- ননদ, বাইরা অর্থ- বাইরে। বচনটাতে ননদকে পর হিসাবে দেখানো হয়েছে। জা তাকে সহ্য করতে পারে না।

ধাঁধাঁয় : হাত খোস্ খোস্, পাও খোস্ খোস্

ফল নোদা নোদা।

এই ছিল্লক ভাঙ্গি দিবার না পাইলে,

তার বাপ মাও ভোদা।- উত্তর : কুমড়া।

খোস্ খোস্ অর্থ- খসখসে, নোদা নোদা অর্থ-সুন্দর, ছিল্লক অর্থ- ধাঁধাঁ, ভোদা অর্থ- বুদ্ধিহীন, বোকা।

গ্রাম্য ছড়ায় :

ক) নাড়িয়ারে নাড়িয়া, ভাত দে বাড়িয়া,

ভাত ক্যানে নরম, দ্যাকছিস শালী খরম।

খ) নাচনী গ্যাল কুচনী বাড়ি, দেওয়ার আসিল ঝরি,

ও দেওয়া তোর পাঁও ধরোং, নাচনী আসুক বাড়ি।

গ) আইসো রই চেংড়িগুলা, বাঁশের তলোত যাই।

বাঁশের তলোত ঝাপুর ঝুপুর, ঠা-া বাতাস খাই।

নাড়িয়া অর্থ- নেড়ে মাথা, দ্যাকছিস অর্থ- দেখো, নাচনী অর্থ- যে নাচে, পাঁও অর্থ-পা, ধরোং অর্থ- ধরি; চেংড়ি অর্থ- বালিকা, তলোত অর্থ- নিচে।

লালমনিরহাট জেলার ভৌগোলিক অবস্থান দেশের উত্তর সীমান্তে যাকে ভাওয়াইয়া অঞ্চল হিসাবেও চেনা হয়। এ অঞ্চলের গ্রাম্য মানুষ যে ভাষায় কথা বলে তাকে জনৈক গবেষক রংপুরিয়া ভাষা বলেছেন। ড. শহীদুল্লাহ এ ভাষাকে বঙ্গ কামরুপি ভাষা হিসাবে অভিহিত করেছেন। এ ভাষাকে অনেকে রাজবংশী ভাষা বললেও স্থানীয় গবেষক ধর্মনারায়ন সরকার ভক্তি শাস্ত্রি লালমনিরহাট অঞ্চলের ভাষাকে কামতা বিহারী ভাষা বলেছেন। এ ভাষার ভাওয়াইয়া সংগীতের উপর অনেক গবেষণামূলক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। কক্সবাজারের ভাষার যেমন আলাদা কোন বর্ণমালা নাই এ ভাষারও তেমনি কোনো বর্ণমালা নাই। লালমনিরহাটের আঞ্চলিক ভাষা যেহেতু বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষা, তাই এ ভাষা সম্পর্কে বিশিষ্ট সাহিত্যিক প্রফেসর মুহম্মদ আলিম উদ্দিনের গ্রন্থ থেকে কিছু অংশ তুলে ধরা যেতে পারে। তিনি তার গ্রন্থ ”রংপুর সংবর্তিকার” ২২ পৃষ্টায় উল্লেখ করেছেন, ‘রংপুর জেলার ব্যবহৃত বাংলা ভাষার উচ্চারণগত সহজবোধ্যতা, সাবলীলতা ও শ্রুতিমাধুর্য অসামান্য। রংপুরে ব্যবহৃত বাংলাভাষার এ কার্যকারীতা, সাহিত্যচর্চা, সংগীতরচনা ও চর্চা এবং জীবন ভাবনায় সমর্পিত। এ সঙ্গে তা ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বিকাশের ক্ষেত্রে সঙ্গতিপূর্ণ। রংপুরের আঞ্চলিকভাষায় সাহিত্য সৃষ্টির সামর্থ্যকে খাঁটো করে দেখার উপায় নেই। এ ভাষায় সম্পূর্ণ এবং আশিকভাবে রচিত উল্লেখযোগ্যগ্রন্থ হলো ষোড়শ শতাব্দীর কবি মুহম্মদ কালার “নেজাম পাগলার কেচ্ছা” বেগম রোকেয়ার অনেক রচনায়ও রংপুরের ভাষার অনেক নিদর্শন পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ের নাট্যকার তুলসী লাহড়ীর ‘ছেড়া তার’, সৈয়দ শামসুল হকের “নূরুল দীনের সারা জীবন”, নূরুল ইসলাম কাব্য বিনোদ এর “হামার অমপুর”, আবুল কাশেমের “হামার দ্যাশ হারাগাছ”, সিরাজুল ইসলাম সিরাজের “মরা মানুষের মিছিল”, “রুপসীর ইতিকথা”, “রাজা ও পাখিদের গান” সাখাওয়াত হোসেন-এর “বাহে নিধুয়া পাথার” ইত্যাদি। উপরের গ্রন্থগুলি ছাড়াও ড. আব্দুল জলিলের দেশের উওরাঞ্চলের বিয়ের গীতসহ অনেক লেখকের মেয়েলী ও বিয়ের গীতের উপর লেখা প্রবন্ধে এ ভাষার নমুনা দেখতে পাই। সর্বোপরি বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত,

“বাংলাদেশের লোকজসংস্কৃতি গ্রন্থমালা” লালমনিরহাট জেলা ও রংপুর জেলা এমন কি আমার লেখা “লালমনিরহাট জেলার বিয়ের গীত ও প্রসঙ্গ কথা” (যা গ্রন্থাকারে প্রকাশের অপেক্ষায়) সহ আরও অনেক গ্রন্থে রংপুর তথা লালমনিরহাট অঞ্চলের ভাষার উজ্জল দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া যায়।

আমাদের দেশে কত উপভাষা আছে তা বলা কঠিন। এক অঞ্চলের মানুষ একই ভাষায় কথা বলবে এটা স্বাভাবিক কিন্তু সেটা কোন উপভাষার অন্তর্গত তা গবেষণার বিষয়। সম্পূর্ণ রংপুর অঞ্চলে কিছু আঞ্চলিক শব্দ আছে যা কমবেশী লালমনিরহাট জেলার মানুষ হয় ব্যবহার করে নতুবা সহজে বোঝে।

উদাহরণ :

আঞ্চলিক শব্দ

প্রকৃত শব্দ

অমপুর

রংপুর

অক্ত

রক্ত

উটি

রুটি

ছাওয়া বা ছইল

সন্তান

বাহে (অনেকে রংপুরের তথা লালমনিরহাটের ভাষাকে বাহের দেশের ভাষা বলে)

বাবাহে

কাইঞ্চা

বাড়ির পেছনে

বাপই

ছেলে

মাঈয়ো

মেয়ে

নেলচিয়া/নিলোজ

নির্লজ্জ

খাংকা/ নাকারী

বৈঠকখানা

টেটিয়া/হেকড়া

একগুয়ে

চড়াই, মুরগা, ডেকি

মুরগী, মোরগ, বাচ্চ মুরগী

গাবরু

বর

গোঙ্গানি

কাতরানো

খ্যাসরা

হাম

খুলিবাড়ি

বাড়ির উঠান

খটখটা

শক্ত

হুড়কা

ঝড়

“বাঙলাভাষার আঞ্চলিক শব্দবৈচিত্র্য : কক্সবাজার” গ্রন্থের গ্রন্থকার মুহম্মদ নূরুল ইসলাম কক্সবাজারের ভাষায় দেশি-বিদেশি ভাষার শব্দের ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তার আলোচনায় ও পা-িত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ থেকে বিদেশি অনেক শব্দের সাথে সবার পরিচিত হবার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্য গ্রন্থকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা রইলো। তিনি গ্রন্থে যে সকল আরবি, ফার্সি, হিন্দি, ইংরেজি, ঊর্দুু, তুর্কি, বার্মিজ, রাখাইন ও অপরাপর কিছু ভাষার শব্দের উল্লেখ করেছেন ও কক্সবাজারের আঞ্চলিকভাষা তথা প্রমিত বাংলায় সেগুলোর প্রয়োগ উল্লেখ করেছেন তা শুধু কক্সবাজারবাসীকে নয় দেশবাসীকেও উপকৃত করবে।

লালমনিরহাট জেলার মানুষ যে উপভাষা তথা আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে সে সম্পর্কে পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ভাষার প্রভাব লালমনিরহাট জেলা ছাড়াও পাশ্ববর্তী জেলা কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা, ভারতের কোচবিহার, আসাম, জলপাইগুড়ি অঞ্চলে দেখা যায়। আঞ্চলিক গান ভাওয়াইয়াতে এর প্রমাণ মেলে। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করা যায়, কামরুপি ভাষার প্রচলন ছিল রংপুর, দিনাজপুর, ভারতের কোচবিহার, দার্জিলিং ও ধুবড়ী অঞ্চলে (রংপুর সংবর্তিকা পৃষ্ঠা-৩৩)। লালমনিরহাট যেহেতু একই অঞ্চলে অবস্থিত তাই লালমনিরহাট অঞ্চল ভাষাগত দিক থেকে সমৃদ্ধ তাতে কোন সন্দেহ নেই।

এখানে কক্সবাজার তথা চট্টগ্রাম অঞ্চলের কিছু শব্দ গ্রন্থাকার তার গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন সেগুলো উল্লেখ করে দেখানোর চেষ্টা করব। সেগুলির প্রতিশব্দ লালমনিরহাটে কি এবং বাক্যে কীভাবে ব্যবহার হয়। শব্দগুলি গ্রন্থকারের বিদেশী ভাষার তালিকা ও ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ থেকে নেয়া হয়েছে।

শব্দ

আরবি শব্দ

কক্সবাজারে

লালমনিরহাটে প্রতিশব্দ

আকল

আক্কল

আকল

প্রয়োগে- হিতে আকলবন মউষ (অর্থ- সে অত্যন্ত বুদ্ধিমান মানুষ)।

আক্কেল

প্রয়োগ- উয়ার খুব হুস (আক্কেল) অর্থ- তার জ্ঞান বুদ্ধি ভাল।

আম্মা

উম্ম

আম্মা- মা

প্রয়োগ- আআঁর মা নাই (অর্থ- আমার মা নাই)।

মাও

প্রয়োগ- উয়ার মাও নাই। অর্থ- তার মা নাই।

মউস বা মউষ (মানুষ)

মানুষ

পিয়াস (পিপাসা)

তিয়াইস

হিতারে (তাকে)

উয়াক

ইজ্জত : আরবি ইয্যত শব্দ কক্সবাজারে স্থানীয়ভাবে শব্দটি হুবহু ব্যবহার হয়। শব্দটি লালমনিরহাট অঞ্চলেও একইভাবে ব্যবহৃত হয়। কক্সবাজারের বাক্যে ‘তুই আআঁর ইজ্জত লই টানাটানি ন গরিচ’, অর্থ- ‘তুমি আমার মান সন্মান নিয়ে টানাটানি করো না’। লালমনিরহাট অঞ্চলের বাক্যে ‘তুই মোর ইজ্জত ধরি টানাটানি না করিস’।

সিলফুন : আরবি শব্দ যা কক্সবাজারে পরিবর্তিত হয়ে চেবনা হয়ে ব্যবহৃত হয়। যেমনÑ, ‘বেশি চেবলামী ন গরিচ’ অর্থ- ‘বেশি ইতরামি করো না’। শব্দটি লালমনিরহাটে আরো পরিবর্তিত হয়ে ‘ছেবলা’ ‘চাটা’ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। প্রয়োগ- ‘তুই একটা ছেবলাচাটা, ছাবলামি করিস না’। অর্থÑ ‘তুই একটা বাচাল, বাছলামি করিও না’।

কাব্বু : ফার্সি শব্দ কাব্বুর। কক্সবাজারের শব্দ কাবু। দৃষ্টান্ত- ‘তুই আআঁরে কাবু গরি ন পারিবি’, অর্থ- ‘তুমি আমাকে নিস্তেজ (দুর্বল) করতে পারবে না’। ‘কাবু’ শব্দটা লালমনিরহাটেও ব্যবহৃত হয়। প্রয়োগ- ‘তুই মোক কাবু করবার না পাবু’। অর্থ- ‘তুমি আমাকে হারাতে (দুর্বল করতে) পারবে না।

পিঁয়াজ : ফার্সি ‘পিয়ায্’ শব্দটি কক্সবাজারে হুবহু ব্যবহার হয়। যেমনÑ ‘বাজারত যাই আআঁর লা পিঁয়াজ লই আয়’। অর্থ- ‘বাজার গিয়ে আমার জন্য পিঁয়াজ নিয়ে এসো’। লালমনিরহাটেও পিঁয়াজ শব্দ হুবহু ব্যবহার হয়। যেমন- ‘বাজার থ্যাকি মোর জন্যে পিঁয়াজ আনেক’। অর্থÑ‘বাজার থেকে আমার জন্য পিয়াজ নিয়ে এসো’।

দুলা : হিন্দি দুল্হা শব্দটি কক্সবাজারে স্থানীয়ভাবে হুবহু ব্যবহার হয়। যেমন- ‘পালকিত চরি দুলা আইয়ের’ অর্থ- ‘পালকিতে চড়ে দুলা (বর) আসছে’। লালমনিরহাটেও ‘দুলা’ শব্দটা ‘বর’ অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন- ‘পালকিত চরি দুলা (পাত্র) বিয়াত আসিচে’, অর্থ- ‘পালকিতে চড়ে বর বিয়ে করতে এসেছে’।

পুরা : হিন্দি পুরা শব্দটা হুবহু ব্যবহৃত হয়। কক্সবাজার ও লালমনিরহাটে ‘পুরা’ অর্থ- সম্পূর্ণ। কক্সবাজারের বাক্যে ‘তরতু আআঁর হেডে পুরাদিন কাম গরা পরি ব’। লালমনিরহাটে ‘তরতু’ এর প্রতিশব্দ ‘তোর’, ‘আআঁর’ প্রতিশব্দ- ‘মোর’, ‘হেডে’ প্রতিশব্দ -‘এ্যাটে’, ‘পুরাদিন’ প্রতিশব্দ- ‘দিনমন’, ‘কাম’ অর্থ- ‘কাজ’, ‘গরা’ অর্থ ‘করা’। পুরো অর্থ- ‘তোমাকে আমার এখানে সারাদিন কাজ করতে হবে’।

উপরের বিভিন্ন ভাষার শব্দের কক্সবাজারের উপভাষায় প্রতিশব্দ ও লালমনিরহাটে তার প্রয়োগ আঞ্চলিক ভাষায় দেখানো হয়েছে। এভাবে আরও বিভিন্ন ভাষার শব্দের প্রতিশব্দ দেখানো যেতে পারে কিন্তু স্থানাভাবে সেদিকে না গিয়ে এখন শুধু কক্সবাজারের কিছু শব্দের লালমনিরহাটের আঞ্চলিক প্রতিশব্দ দেখানো হলো।

কক্সবাজারের বাক্য ও শব্দ :

১। মরা পরিব ত আমল নামা ঠিক রাখিচ।

২। আআঁর বউয়ের জেবর গিন এক কেনা আমানত রাখ।

৩। আজিয়া রাতিয়া দইনর মাডাত ওয়াচ হইব।

লালমনিরহাটের আঞ্চলিক ভাষায় উপরের বাক্যগুলোর শব্দ ও বাক্য হবে :

১। মইরবার চাইস তো হিসাব ঠিক থুইস।

২। মোর বৌয়ের গয়নাগুলা একনা ভালকরি থো।

৩। আইজ আইতোত দখিনের মাঠোত ওয়াজ হইবে।

উপরের বাক্যগুলোর শব্দের প্রতিশব্দ :

কক্সবাজারের শব্দ

লালমনিরহাটের শব্দ

মরা পরিব

মইরবার চাইস

তো, তা

রাখিচ

রাখিস

আআঁর

মোর

জেবর

গয়না, গহনা

এককোনা

একনা

আজিয়া

আইজ (আজ)

রাতিয়া

আইতে

দইনর

দখিনের

মাডাত

মাঠোত

কক্সবাজারের বাক্যগুলোর ও লালমনিরহাটের প্রতিবাক্য :

কক্সবাজারের বাক্য

লালমনিরহাটের প্রতিবাক্য

রাতা কুরা বাক দেয়

আইতোত মুরগা ডাকদেয়

তুই আআঁর লা বাজি ন ধরিচ

তুই মোর সাথে বাজি না ধরিস

আজিয়া আআঁর ঘরত বিরানী রাইনদে

আইজ হামার ঘরোত বিরিয়ানী আন্দন হইবে

উপরের দৃষ্টান্তগুলো থেকে এটা স্পষ্ট কক্সবাজারের আঞ্চলিক শব্দের অনেক কিছু লালমনিরহাটের গ্রাম্য লোকজনের কাছে অপরিচিত। বিপরীত পক্ষে কক্সবাজারেও তাই। তবে বিভিন্ন ভাষা থেকে যেগুলো শব্দের আঞ্চলিক রূপে দেখানো হয়েছে সে শব্দগুলির বেশির ভাগ লালমনিরহাট অঞ্চলের মানুষ কক্সবাজারের মানুষের মত ব্যবহার করে। যদিও সেগুলোর প্রতিশব্দ দুই স্থানে দুই ধরনের।

জনাব নূরুল ইসলাম তার জেলার উপভাষাকে দেশবাসীর কাছে পরিচিত করতে যে গ্রন্থ রচনা করেছেন তা সাধুবাদ পাবার যোগ্য। এ গ্রন্থ শুধু যে গবেষকদের উপকারে আসবে তা নয় সাধারণ পাঠকেরও উপকারে আসবে। বিশেষ কওে লালমনিরহাটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যেসকল মানুষ কক্সবাজার যেতে বা কক্সবাজারের ভাষা সম্পর্কে জানতে ইচ্ছুক তারা যদি বইটার সহায়তা গ্রহণ করেন তবে ভীষণভাবে উপকৃত হবেন।

লেখক : অবসরপ্রাপ্ত সহযোগী অধ্যাপক, দর্শন বিভাগ, সরকারী কলেজ।

সহায়তাগ্রহণ :

রংপুর সংবর্তিকা : প্রফেসর মুহম্মদ আলিম উদ্দিন।
রংপুরের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান : মতিউর রহমান বসুনিয়া।
রঙ্গপুর সাহিত্য পরিষদ পত্রিকা : অভিভাষা ও লোক সাহিত্য : মো. আশরাফুজ্জামান মন্ডল, লালমনিরহাট রতœ কর্তৃক সংকলিত।
বিয়ের গীত ও প্রসঙ্গ কথা : মো. নজরুল ইসলাম মন্ডল।
বাংলা সাহিত্যে রঙ্গপুরের অবদান : মোতাহার হোসেন সুফি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •