cbn  

সংবাদদাতা :

উখিয়ার ইনানীতে বয়োবৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এক সেনা সদস্যের জমি আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দখলের অভিযোগ উঠেছে ভূমিগ্রাসী প্রভাবশালী একটি চক্রের বিরুদ্ধে।

এদিকে জমিটি দখলমুক্তের ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানিয়ে বিবৃতি পাঠিয়েছেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কক্সবাাজার জেলা ইউনিট কমান্ডের নেতৃবৃন্দ।

জানা যায়, উখিয়ার ইনানী মৌজার বিএস খতিয়ান নং ১৪৮৫ ও ১৬২৩ এর বিএস দাগ নং ৩১১৭ ও ৩১১৮ এর ১.০৭ একর জমি ১৯৫৪ সালে আরএস রায়ত মূলে মালিক জনৈক ছৈয়দ আহমদের কাছ থেকে ৮৪৮ রেজিস্ট্রি কবলামূলে খরিদ করেন ইনানীর বাসিন্দা মৃত মিয়া হোছনের বয়োবৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সেনা সদস্য মফজল আহমদ। তিনি চিরকুমার ও নি:সন্তান। চাকুরি থেকে অবসরের পর তিনি আপন ভাই মো. নুরুল আমিনের তত্ত্বাবধানে জীবনযাপন করছিলেন। মফজল আহমদ জটিল রোগে আক্রান্ত হলে জমিটি দেখভালের জন্য গত ২০১৮ সালের ৮ মার্চ আমমোক্তারনামামূলে নুরুল আমিনের নিকট হস্তান্তর করেন।

অভিযোগ রয়েছে, তপশীলোক্ত জমিতে মফজল আহমদের বাড়ী ভিটা, চাষাবাদ ও চতুর্দিকে সীমানা প্রাচীর রয়েছে। কিন্তু বিএস জরীপ চলাকালীন মফজলের খরিদ করা উল্লেখিত জমির বিএস খতিয়ানে ভুলবশত: বোনদের নামও নথিভূক্ত হয়ে যায়। মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মিত হওয়ায় ইনানী এলাকার জমির মূল্যও অত্যাধিক হাবে বৃদ্ধি পায়। এটিকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে বিগত ২০০১-২০০৬ সালে মেয়াদে চারদলীয় জোট সরকারের সময় তার বোনদের কাছ থেকে নাম মাত্র মূল্যে উক্ত জমিটি  শাহজালাল চৌধুরীসহ ইনানী এলাকার  ছলিম উল্লাহ মেম্বার (৫৫),  মো. ইউনুছ ভুট্টো (৩৫),  নাজিম উদ্দিন নাজু (২৫) ও বাবুল আলম (৪০)। চক্রটি মূল্যবান উক্ত জমি অন্যের কাছে হস্তান্তর বা গোপনে বিক্রির জন্য নানাভাবে পাঁয়তারা শুরু করে। এরই অংশ হিসেবে জমিটি দখলের জন্য নানাভাবে অপচেষ্টা চালিয়ে আসছিল।

এর প্রেক্ষিতে নুরুল আমিন ভূমিগ্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে গত ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এমআর নং-২৪৫/২০১৮ মামলা দায়ের করে। এ নিয়ে গত ২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল উখিয়ার সহকারি কমিশনার (ভূমি) একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনে বিরোধীয় জমিটিতে সীমানা প্রাচীরসহ মফজল আহমদের নামে সাইনবোর্ড টাঙ্গানো অবস্থায় ভোগদখলে থাকার বিষয় উল্লেখ রয়েছে। এই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত গত ২০১৮ সালের ১৪ মে বিবাদীদের উক্ত জমিতে প্রবেশের তথা দখল স্বত্তভোগের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে আদেশ দেন। আদালতের এ আদেশ চলতি বছরের আগামী ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত বহাল রয়েছে।

অন্যদিকে বিরোধীয় জমির বিএস খতিয়ান সংশোধনের জন্য গত ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে (২য় আদালত) বিবাদীদের বিরুদ্ধে অপর-২০৩/২০১৮ নং মামলা দায়ের করে মো. নুরুল আমিন। যা এখনো বিচারধীন রয়েছে।

এর প্রেক্ষিতে প্রতিপক্ষের লোকজন গত ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর মফজল আহমদ ও নুরুল আমিনসহ ৪ জনকে বিবাদী করে উখিয়া সহকারি জজ আদালতে একটি দায়েরী অপর-৮১/২০১৯ মামলা দায়ের করেন। এতে আদালত উভয়পক্ষকে স্থিতিবস্থা বজায় রাখার জন্য আদেশ দেন।

অন্যদিকে ভূমিগ্রাসী চক্রটি আদালতের ওই আদেশ (দায়েরী অপর-৮১/২০১৯ নং মামলা ) গোপন করে গত ২০২০ সালের ৬ জানুয়ারী বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মফজল আহমদ ও নুরুল আমিনসহ ৪ জনকে বিবাদী করে এমআর-২৩/২০২০ মামলা দায়ের করে। আদালতে এতে বিবাদীদের বিরুদ্ধে এক বারিত আদেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে ওই মামলার (এমআর-২৩/২০২০) বিবাদীরা চলতি বছরের গত ৮ জানুয়ারী এমআর-২৪৫/২০১৮ এর মোকদ্দমার প্রচারিত বারিত আদেশের প্রেক্ষিতে উক্ত আদেশও বাতিল করে দেন।

এ নিয়ে আইন আদালতে কোন ধরণের উপায়ন্তর না দেখে ভূমিগ্রাসী চক্রটি চলতি বছরের গত ৯ জানুয়ারী জবর দখলের উদ্দেশ্যে সশস্ত্র দূর্বৃত্তদের নিয়ে জমিটির বিভিন্ন স্থাপনা ভাংচুর চালায়। এরপর থেমে থাকেনি ভূমিগ্রাসী চক্রটি। গত ২১ অক্টোবর রাতের আঁধারে আবারো সশস্ত্র দূর্বৃত্তদের নিয়ে বিরোধীয় জমিটিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জবর দখল করে নেয়। এসময় জমিটিতে মফজল আহমদের নামে টাঙ্গানো সাইনবোর্ড উপড়ে ফেলে নিজেদের নামে সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দেয়।

এতে জমিটি জবর দখল হয়ে যাওয়ায় একমাত্র সহায়-সম্বল হারিয়ে নি:সহ হয়ে পড়েছেন বয়োবৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সেনা সদস্য মফজল আহমদ।

এদিকে মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সেনা সদস্য মফজল আহমদের মালিকানাধীন জমি  ভূমিগ্রাসী চক্র কর্তৃক দখলের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিট কমান্ডের সাবেক কমান্ডার নুরুল আবছার ও মোহাম্মদ শাহজাহান, সাবেক সহকারি কমান্ডার আলতাফ হোসেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •