আবুল কালাম , চট্টগ্রাম :

বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত বন্দর নগরী চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাজারে গত তিন সপ্তাহ পর্যন্ত বেড়েই চলছে কাঁচা সবজির দাম। গত সপ্তাহের প্রথম থেকে কিছুটা কমতে শুরু করেছিল দাম। কিন্তু গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণ দেখিয়ে আবারও বাজারে সরবরাহ কমার ফলে দাম যেটুকু কমেছিল, সেটা আবার বেড়ে গেছে। সবজি বাজার কবে আবার স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে পাবে— সেটা জানা নেই এমনকি ব্যবসায়ীদেরও। এরই মধ্য নিন্মমধ্যম আয়ের মানুষ হিমশিমে পড়েছে।

এর আগে প্রায় সব সবজির দামই ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে ছিল। তবে গত সোমবার ও মঙ্গলবারের দিকে তা কমে ৪০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে চলে আসে। এরই মধ্যে বাজারে নতুন ফুলকপি ও বাঁধাকপিসহ শীতকালীন সবজি আসতে শুরু করেছে।

অন্যদিকে মাছের দাম কিছুটা বাড়তি বলে জানালেন ব্যবসায়ীরা। তবে গত দুদিন ধরে মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ায় বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কম দেখা গেছে। সে সুযোগে বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে সব তরিতরকারি।

শনিবার (২৩ অক্টোবর) চট্টগ্রামের বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সবজি কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ১২০ টাকা দামে। সিম ১২০ টাকা, ফুলকপি ৯০ টাকা, বাধাকপি ৮০ টাকা, তিত করলা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে বর্তমান সময়ের ‘আলোচিত’ আলু বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪২ টাকার মধ্যে।

এছাড়াও কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২২০ টাকায়। শসার কেজি ৫০ টাকা, গাঁজর কেজি ৭০ টাকা, লম্বা বেগুন কেজি ৬০ টাকা, গোল বেগুন কেজি ৫০ টাকা, টমেটো কেজি ৯০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, কাঁচা পেঁপে কেজি ৩৫ টাকা, কাকরোল কেজি ৬০ টাকা, বরবটি কেজি ৭০ টাকা (অপরিবর্তিত), ঝিঙা কেজি ৬০ টাকা, ধুন্দল কেজি ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া কেজি ৪০ টাকা, লাউ কেজি ৪০ টাকা, চাল কুমড়া কেজি ৪০ টাকা, ঢেঁড়স কেজি ৫০ টাকা, কচুর ছড়া কেজি ৪০ টাকা, কাঁচকলা এক হালি ২০ টাকায়।

নগরীর হালিশহর ফইল্ল্যাতলী বাজার, নয়া বাজার,বিটাক বাজার,আবদুল আলী হাট,ঘুরে ষোলশহর ২ নম্বর গেইট এলাকার কর্ণফুলী কমপ্লেক্সে এ গেল সেখানকার সবজি বিক্রেতা মো. গিয়াস জানান, ‘গত সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে সবজির দাম কমতে শুরু করেছিল। কিন্তু আবার বৃষ্টি শুরু হওয়ায় বাজারে সবজির সরবরাহ নেই। তাই আবার বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে সবজি। বৃষ্টিপাত বন্ধ হলে এবং বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ শুরু হলে সবজির দাম কমে যাবে। সেজন্য হয়তো আগামী রোববার-সোমবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।’

এদিকে বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজি ১২০ টাকা, সোনালি মুরগির কেজি ২১০ টাকা ও দেশি মুরগি কেজিপ্রতি ৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৬০০ থেকে ৬৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর খাসির মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা দরে।

বাজারে প্রতি ডজন লাল ডিম ৫ টাকা বেড়ে ১১০ টাকা, হাঁসের ডিম ডজনে ১৬০ টাকা এবং ১০০ পিস কোয়েলের ডিম ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে আকারভেদে প্রতি কেজি রুই বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২৮০ টাকা, মৃগেল ১৬০ থেকে ২৫০ টাকা, পাঙ্গাস ১০০ থেকে ১৬০ টাকায়, কাতলা ১৭০ থেকে ২৮০ টাকায়, তেলাপিয়া ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়, কই ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায়, পাবদা ৪০০ টাকায়, আকারভেদে শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চিংড়ি আকারভেদে ৩৫০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

নগরী পাইকারি বাজার নামে খ্যাত রিয়াজ উদ্দীন বাজারে, বাজার করতে আসা গৃহিণী রিনা বেগম বলেন, ‘দাম একটু বাড়তি নিচ্ছেন বিক্রেতারা। আবাহাওয়া খারাপ হওয়ায় নাকি সব কিছুর দাম বেশি। মাছের দামও বাড়তি।’

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা বাজার কর্মকর্তা সেলিম মিয়া বলেন, ‘বাজারে ক্রেতা কম আর আবহাওয়া একটু খারাপ হওয়ায় একটু বাড়তি দামেই বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। তবে আশা করি কয়েকদিনের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •