কাফি আনোয়ার :

আধ্যাত্মিক ও মরমী সূফীসাধক শাহ পেঠান ফকিরের মাজারকে ঘিরে একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন মাজার কমপ্লেক্স গড়ে তোলার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

একটি বিশ্বস্তসূত্রে দাবি, দীর্ঘমেয়াদে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এগিয়ে আসছে স্থানীয় সরকারের প্রকৌশল বিভাগ, কক্সবাজার জেলা পরিষদ, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সমাজসেবা অধিদপ্তর’সহ একাধিক দেশি-বিদেশী উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা।

উল্লেখ্য,ঈদগাহ থানার আওতাভুক্ত ইসলামাবাদ ইউনিয়নের বর্তমান শাহ ফকিরবাজার ও ঈদগাহ পুলিশ তদন্দকেন্দ্র সংলগ্ন এবং ফুলেশ্ব্ররী নদীর কুলঘেঁষে ছায়াঢাকা,
পাখিডাকা শান্তশীতল প্রাকৃতিক পরিবেশেসমৃদ্ধ নির্জন এলাকায় মরমী সূফীসাধক শাহ পেঠান ফকিরের মাজার ও দরগাহ।
ওই জনমানবশুণ্য নির্জন অরণ্যে আধ্যাত্মিক সাধক শাহ পেঠান ফকির সৃষ্টি ও স্রষ্টার নিবিড় সাধনায় তাঁর জীবনকাল অতিক্রম করেছেন।
জাগতিক সমস্ত মোহমায়া, অভিলাষ ত্যাগ করে জীর্ণশীর্ণ বেশবসনে আল্লাহ’র ধ্যানে মগ্ন থাকতেন এই সাধক।
জনশ্রুতিমতে, শাহ পেঠান ফকির একটি লোকজ কিংবদন্তী।
লোকমুখে পেঠান ফকিরের চমৎকারিত্বের অনেক পুরাণগাঁথা প্রচলিত আছে। তাঁর জীবদ্দশায় ঘটে যাওয়া লৌকিক বা অলৌকিক, পৌরাণিক বা মরমী চমৎকারিত্বের মারেফতী নিগুঢ় তত্ত্বনিদানের কারণে তিনি লোকহৃদয়ের উচ্চমার্গে সদা বিরাজমান।
তাঁর মৃত্যুর পর থেকে মাজার জিয়ারত ও ভক্ত অনুরক্তদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। দীর্ঘ
ধরে অযত্ন অবহেলায় এবং সংস্কার উদ্যোগহীন পড়ে আছে এই মরমী সাধকের মাজারটি।
মাজারের চারদিকে ঝলমল করছে বৈদ্যুতিক আলো । অথচ লোভাতুর কিছু মানুষরুপী দানবের প্রতিহিংসায় প্রাগৈতিহাসিক অন্ধকারে ডুবে আছে পুরো মাজার এলাকা।
ইতোমধ্যে বেদখল হয়ে মাজারের বিপুল ভূসম্পদ। নদীভাঙ্গনের ফলে কিছু চলে গেছে ফুলেশ্বরী নদীর গর্ভে।
বর্তমানে মাজার, জামে মসজিদ,কবরস্থান, বাগান”সহ মাজারের ভোগদখলে আছে প্রায় ৬ একরের মত জায়গা।

এই জায়গার উপর বর্তমান মাজার কমিটি মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে গড়ে তুলতে চায় একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন মাজার কমপ্লেক্স।
যেখান থাকবে সুউচ্চ গম্বুজবিশিষ্টি দৃষ্টিনন্দন মাজার ভবণ,পাঠাগার,মিউজিয়াম, সুপরিসর জামে মসজিদ, বৃদ্ধাশ্রম, ডরমিটরী, ভবঘুুরে ও ছিন্নমূলদের থাকবে আধুনিক সুবিধাসম্বলিত লঙ্গরখানা, সুরক্ষিত গোরস্থান, রান্না খানা, গেস্ট হাউজ,ইনভেন্টরী, স্নানাগার ও গ্ণশৌচাগার, কনফারেন্স হল,অফিস, পার্কিং লট,নদীভাঙ্গনরোধে থাকবে টেকসই বেড়ীবাঁধ’সহ দৃষ্টিনন্দন গ্ণপরিসর, দেশিয় ও বিলুপ্ত প্রজাতির বৃক্ষের উন্মুক্ত উদ্যান, লাইটিং’সহ সুপরিসর কানেক্টিং ও এপ্রোচ রোড়।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাজার কমিটি ডিজিটাল সার্ভেয়িং এর কাজ শুরু করেছে। মাস্টারপ্ল্যান তৈরীর লক্ষ্যে গত ১৬ অক্টোবর বিশিষ্ট নগরপরিকল্পনাবিদ ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার বদিউল আলম মাজার এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ওইদিন মাজার মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করে মাজার কমিটি ও স্থানীয়দের সাথে মতবিনিময় করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন মাজার কমিটি উপদেষ্টা ও ইসলামাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান নুর ছিদ্দিক, মাজার কমিটির সভাপতি ও ইউপি মেম্বার বশির আহমদ, অর্থ সম্পাদক মোকাররম বাবুল ও তত্ত্বকবি জালালী ফরমূলা’সহ অসংখ্য মানুষ।

ইঞ্জিনিয়ার বদিউল আলম তিনি বলেন, মাজারের পবিত্রতা, ভাবগাম্ভীর্যতা, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণের মাধ্যমে এই মাজারকে একটি দৃষ্টিনন্দন মাজার কমপ্লেক্সে পরিণত করা হবে। শাহ ফকিরের ভক্ত অনুরক্ত এবং আশেকানরা যাতে স্বাচ্চন্দ্যে মাজার জিয়ারত করতে পারেন এবং আচার অনুষ্ঠান, জিকির আজগার পালনে কোন সমস্যার সৃষ্টি না হয়। মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এই মাজার কমপ্লেক্সকে ঘিরে গড়ে উঠবে ধর্মীয় পর্যটনসম্ভাবনা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •