ফাইল ছবি

দীপক শর্মা দীপু :

ঢাকে ঢোলে শঙ্খে মঙ্গল গাও, জগজ্জননী এসেছে আঙ্গিনায়। দেবী দুর্গাকে বোধনের মাধ্যমে আহবান আর ২২ অক্টোবর ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভে সায়াংকালে দেবীকে মন্ডপে অধিবাস করার মাধ্যমে বিহিত করা হয়। মহাসপ্তমী আজ।

এদিকে দুর্গাপূজাকে ঘিরে নিশ্চিদ্্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এডভোকেট রনজিত দাশ জানান, স্বরাাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এবার পূজা মন্ডপে কোন প্রকার ব্যাগ নিয়ে পূজারি ও দর্শনার্থীরা প্রবেশ করতে পারবেনা। মন্ডপ ও পুজো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। র‌্যাব, পুলিশ, আনসার ব্যাটালিয়নের পাশাপাশি সাদা পোশাকধারী পুলিশ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সার্বক্ষনিক নজরে থাকবে পূজা মন্ডপ ও আশে পাশের এলাকা। প্রতিটি মন্ডপে ২৪ ঘন্টা স্বেছাসেবক তাদের দায়িত্ব পালন করবে। এডভোকেট রনজিত দাশ আরো বলেন, “পূজায় রং ছিটানো ও বাজি ফুটানো যাবে না। নামাজ শুরু আগে ও পরে ৩০ মিনিট তিনি আরও মন্ডপে বাদ্যযন্ত্র ও মাইক বন্ধ থাকবে।”

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবুল শর্মা জানান, এবারে পূজারী ও দর্শনার্থীদের জন্য নির্দেশনা রয়েছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মন্ডপ পরিদর্শন, বিশেষ করে দিনের বেলায় মন্ডপ পরিদর্শন করা, শারিরীক দুরুত্ব বজায় রাখা, মাস্ক পরিধান বাধ্যতামুলক করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রিয় পূজা কমিটির নির্দেশনা প্রত্যেক পূজা কমিটিকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

মহামারীর কারণে স্বাস্থ্যবিধির কড়াকড়ি আর বাজেট কাটছাঁটের কারণে এমনিতেই এবার উৎসবের সেই আড়ম্বর নেই, তার সঙ্গে যোগ হয়েছে বৃষ্টির চোখ রাঙানি। সব মিলিয়ে কক্সবাজারে পূজোর আকাশে আক্ষরিত অর্থেই এবার মেঘের ঘনঘটা। লঘুচাপের প্রভাবে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে নানা কারণে পূজার্থীদের মনে জমে থাকা মেঘও যেন তার সঙ্গে যোগ হয়েছে।

মহাষষ্ঠী তিথিতে কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজার মধ্য দিয়ে বাঙালির শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শাস্ত্রমতে, দেবী দুর্গা অসুর বধ করে ভক্তদের মধ্যে শান্তি ছড়িয়ে দিতেই কৈলাস ছেড়ে মর্ত্যলোকে নেমে আসেন। বুধবার বোধনের মাধ্যমে এবারের দুর্গোৎসবের আচার পর্ব শুরু হয়। ষষ্ঠীর দিন সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটে শুরু হওয়া বন্দনা পূজার সমাপন হয় বিহিত পূজায়। আবাহনের মাধ্যমে মূল মন্ডপে দেবী আসীন হওয়ার পর সন্ধ্যায় দেবীর অধিবাস। আজ শুক্রবার মহাসপ্তমী।

ঘোনারপাড়া দূর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিশ^জিত পাল বিশু বলেন, “এবার দর্শনাথীদেরও আগ্রহ কম। স্বাস্থ্যবিধি মানতে প্রচারণা করছি। মাস্ক বিতরণ করা হচ্ছে। বেশি সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক রাখা হয়েছে।”

শ্রাবণী দাশ নামে এক পূজার্থী বলেন, “প্রতিবছর পূজায় কয়টা দিন পরিবারের সদস্য আর বন্ধুদের নিয়ে মন্ডপে মন্ডপে ঘুরে প্রতিমা দেখতাম। এবার করোনার কারণে জীবনযাত্রা তো স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। তাই পূজা ঘিরে আগ্রহ বেশি ছিল। ভেবেছিলাম পূজায় অন্তত বেড়ানো হবে। “কিন্তু নানা রকম নির্দেশনা আর স্বাস্থ্যবিধির কড়াকড়ি বেশি। বৃষ্টিও শুরু হয়েছে। এবার হয়ত তেমন করে আর বেড়ানো হবে না।”

সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপক দাশ বলেন, করোনার সংক্রমণের কারণে এবার উৎসব হচ্ছে না, “ধর্মীয় রীতি পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। তাই পূজার উৎসবে ভাটা পড়েছে। এবার পূজার অনুষ্ঠানমালা শুধু ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে পূজা-অর্চনার মাধ্যমে মন্ডপ প্রাঙ্গণেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।”

কক্সবাজার পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বেন্টু দাশ বলেন, “এবারের পূজা সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে উদযাপন করা হবে। দুর্গাপূজার ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা হিন্দুদের কিন্তু মূলবাণী সমগ্র মানবজাতির কল্যাণে নিবেদিত। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাঙালির হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক চেতনা। অর্থাৎ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হচ্ছে সর্বজনীন শারদীয় দূর্গাপূজা। সব মানুষের সুখ-শান্তি কামনায় এবং সর্বজীবের মঙ্গলার্থে হিন্দু সম্প্রদায় বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসব মুখর পরিবেশে নানা উপচার ও অনুষ্ঠানাদির মাধ্যমে প্রতিবছর উদযাপন করে থাকে শারদীয় দুর্গোৎসব। কিন্তু এবার বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে এই আনন্দধারায় এবার কিছুটা হলেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে। তবে আশাকরি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ বাধা অতিক্রম করতে আমরা সক্ষম হবো। সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুর্গাপূজা উদযাপন করে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখতে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন, এমনটাই সকলের প্রত্যাশা।”

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের প্রধান আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুর রহমান বলেন, “সাগরে লঘুচাপের কারণে সমুদ্র বন্দর সমূহকে ৩ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর। লঘুচাপের কারণে সাগর উত্তাল রয়েছে। কক্সবাজারে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবারও ভারী বৃষ্টি এবং শনিবারেও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।”

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •