খোরশেদ আলম


জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সমস্যা চিহ্নিত করে উদ্যোগ গ্রহণ একান্ত জরুরী । তিনি বাধাসমুহ প্রতিকার করে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারবেন –

এককথায় নামজারী বা খারিজ বা মিউটেশন বলতে রেজিস্ট্রি নেওয়া জমির সরকারী ভুমি অফিসের বালামে/খাতায় বিক্রেতার জমির অংশ থেকে বাদ দিয়ে নিজের নাম ও জমির অংশ লিপিবদ্ধ করা ।

একসময় সরকারী খরচ ছিল মাত্র ২৭০/- দুইশত সত্তর টাকা মাত্র । কিন্তু সেই সুবিধা মানুষ পায়নি । বরং ক্ষেত্রবিশেষে ১০,০০০/-, ২০,০০০/-, ৫০,০০০/- ১,০০,০০০/- বা আরও বেশী ?
এই সমস্যা থেকে মানুষকে মুক্ত করার জন্য সরকার ডিজিটাল পথে হাঁটে এবং সফলতাও পায়। কারণ এখন অনলাইনে নামজারী আবেদন করতে পারে আর খরচ পড়ে মাত্র ১১৭০/- টাকা । বছর দুয়েক হলো এ ব্যবস্থা চালু হয়েছে । খরচের ক্ষেত্রে কিছু অঞ্চলে সুবিধা পেলেও প্রায় সব জায়গায় ঘুষ, দুর্নীতির কারণে অনেক টাকা খরচ ছাড়া নামজারী পাওয়া যায় না
এবং আমাদের কক্সবাজারে সমস্যা আরও প্রকট ।

তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের জেলা প্রশাসক মহোদয় নতুনভাবে জনগণের সচেতনতা’র জন্য খরচের সেই তালিকা পুনরায় Circulate করে – যাতে মানুষ হয়রানির শিকার না হয়।
অনলাইনে আবেদনের সুযোগ থাকলেও আল্টিমেটলি ভূমি অফিসে গ্রাহককে যেতে হয় বিধায় টাকা লেনদেন ছাড়া ফাইল পরের টেবিলে যায় না। জেলা প্রশাসক মহোদয় যেভাবেই হউক কিংবা গোয়েন্দা তৎপরতা’র মাধ্যমে হউক মানুষের কম খরচে নামজারী করার সুবিধা দিয়ে যাবেন কিন্তু তিনি বদলী হয়ে গেলে আবারও পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরে যাবে ।
তাই দরকার স্হায়ী সমাধান ।
কিন্তু কিভাবে ?
অথচ অদ্ভুত ব্যাপার, আপনি লাখ টাকা, কোটি টাকা দিয়ে জমি কিনলেন রেজিস্ট্রির মাধ্যমে। পরের ধাপ নামজারী । কিন্তু দেখা গেল , সেই জমির নামজারী হচ্ছে না কারণ অন্যজন নামজারী
করে নিয়ে গেছে, বা সেই পরিমান জমি নেই খারিজ করার ইত্যাদি আপনার মাথায় হাত, ক্ষনিকেই মনে হবে সমস্ত টাকা মাটি । এবার মামলা করতে হবে এবং বছরের পর বছর কোর্টে দৌঁড়াতে হবে ।
বিনয়ের সহিত সমস্যা সমাধানে আমার ধারণা নিন্মে অবহিত করলাম :
১। নামজারী হবে কিনা তা আগে দেখে পরের ধাপে রেজিস্ট্রি করা উচিত । এ কাজ জেলা প্রশাসকের অফিস করতে পারে যেহেতু সেখান থেকে জমি রেজিস্ট্রির অনুমতি নিতে হয় অন্যথায় হয়রানি
হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায় ।
২। ভূমি কর্মকর্তা’কে উদ্যোগ নিয়ে নিজকে আবেদন গ্রহণ করতে হবে বা সেই রকম ব্যবস্থাপনা জরুরী যেহেতু কেরানীদের হাতে পড়লে, টাকা ছাড়া গ্রাহকের দিকে তাকাবে না ।
৩। অবশ্যই এবং অবশ্যই জমি রেজিস্ট্রি করার সময় ফি’সহ নামজারী’র জন্য রেজিস্ট্রি অফিস টাকা জমা নিবে । রেজিস্ট্রি অফিস থেকে দুইমাস অথবা সরকার ঘোষিত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রাহককে নামজারী সরবরাহ করতে হবে অথবা
গ্রাহক অনলাইনেও নিতে পারবে ।
জেলা প্রশাসক মহোদয় নামজারী সার্কুলার যথাযথ বাস্তবায়নে উপরোক্ত লেখা বিবেচনা করে নিজের অভিজ্ঞতা মিশিয়ে যাতে পদক্ষেপ নিয়ে দেশের মানুষকে সুফল পৌঁছে দিতে পারে সেই অনুরোধ করছি ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •