ইমাম খাইর#
ক্রমান্বয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বাড়ছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। এক সপ্তাহ আগের ও পরের চিত্র কিন্তু ভিন্ন। প্রায় আবাসিক হোটেলগুলো পর্যটকে ভরপুর। শুক্রবার ও শনিবারের পর্যটকের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সমুদ্রস্নান আর হেসেখেলে সময় কাটাচ্ছে পর্যটকরা।

তবে, সাগর তীরে বিদেশি পর্যটক তেমন একটা চোখে পড়েনি। স্থানীয়দের উপস্থিতি বেশি।

আর দীর্ঘদিনের লোকসান পুষিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর কথা ভাবছে হোটেল মালিকেরা।

করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ প্রায় ৫ মাস বন্ধ থাকার পর স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে গত ১৭ আগস্ট সমুদ্র সৈকত উন্মুক্ত করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সমুদ্র সৈকতের বিকালের দৃশ্য ছিল ভিন্ন। এদিন লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে কলাতলী পয়েন্ট পর্যন্ত পর্যটকে টইটুম্বুর দেখা যায়।

সুগন্ধা পয়েন্টে দেখা হয় জেসমিন দম্পতির সাথে। তারা ঢাকার বাড্ডা থেকে সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে এসেছেন।

স্কুল শিক্ষক জেসমিন জানালেন, করোনার কারণে তারা দীর্ঘদিন বন্দীশালার মতো ঘরে ছিলেন। সুযোগ পেয়ে সাগর পাড়ের মুক্ত হাওয়ায় ভ্রমণ করতে আসেন। খুব মজা করেছেন।

ঘোড়ায় চড়ে আনন্দে মেতেছে শুভ্র দাস নামের এক পর্যটক। কথা হয় তার সঙ্গে।

তিনি জানান, স্ত্রী, সন্তান নিয়ে বেড়াতে হাসেন। ক্রোনার কারণে অনেক দিন ঘরে থেকে হতে পারেন নি। সন্তানেরা খুব আনন্দ করছে।

কক্সবাজারের তারকা মানের আবাসিক হোটেল সী-গাল এর সহকারি ব্যবস্থাপক (ফ্রন্ট ডেস্ক) তারেক আজিজ জানিয়েছেন, তাদের হোটেলে ১৮৯ টি কক্ষের মধ্যে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার প্রায় ৮০ শতাংশ বুকিং। অন্যান্য দিনগুলোতে ৬০ শতাংশের বেশি বুকিং থাকে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে করোনাকালের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন হোটেলটির এই কর্মকর্তা।

হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম সিকদার জানান, করোনাকালে বন্ধ থাকায় সাড়ে চারশতাধিক আবাসিক প্রতিষ্ঠানের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। সব দিক বিবেচনায় শর্ত সাপেক্ষে সমুদ্র সৈকত উন্মুক্ত করে দেয়ায় নতুনভাবে ভাবছে তারা।

তিনি জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে পর্যটক সমাগম বাড়ছে। প্রায় আবাসিক হোটেলগুলোতে আশানুরূপ বুকিং রয়েছে।

তবে কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান জানিয়েছেন, স্টার মানে হোটেলগুলোতে পর্যটক বুকিং হচ্ছে। মাঝারি শ্রেণির প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা ভালো না। অনেক প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারিরা এখনো যোগ দিতে পারেনি। অধিকাংশের বেতনভাতা বাকি।

কক্সবাজারে টুরিস্ট পুলিশের এসপি জিল্লুর রহমান জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সমুদ্রে নামার জন্য সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি বিচ কর্মীরাও আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে। কোথাও পর্যটন হয়রানির অভিযোগ পেলে সাথে সাথে জানানোর অনুরোধ করেন টুরিস্ট পুলিশের এসপি।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি মো. কামাল হোসেন জানান, ১৩টি শর্তে কক্সবাজারের পর্যটনকেন্দ্র উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। সাগরপাড়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে কিনা তা তদারক করা হচ্ছে। এ জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত করা হয়েছে। পর্যটকদেরও স্বাস্থ্যবিধি মানতে বলা হচ্ছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •