গিয়াস উদ্দিন:
ঈদগাঁও ডিজিটাল টেলিফোন একচেঞ্জের ১০ কোটি টাকা মূল্যমানের জায়গা পরিত্যক্ত জলাবদ্ধ। বাজারের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এ জায়গা ময়লা আবর্জনার বিশাল ডাস্টবিন এ পরিনত হয়েছে। এদিকে ৫০০ লাইনের মধ্যে অচল টেলিফোন ৪৬৩ এবং সচল মাত্র ৩৭। টিএন্ডটির বিশাল এ জায়গা সংস্কার ও উন্নয়ন হলে সরকার বিপুল রাজস্ব পাবে ।

জানা যায়, কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁওয়ে নব্বই’র দশকে এলালগ হতে ডিজিটাল হয় ঈদগাও টেলিফোন এক্চেঞ্জ। ইসলামাবাদ ইউনিয়নের সন্তান নুরুল আবছার টেলিযোগাযোগ বিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তা হওয়ার বদৌলতে ৫’শ লাইনের ডিজিটালে রুপান্তরের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়। বাজারের প্রাণকেন্দ্রে টিএন্ডটির প্রায় ৮৮ শতক জায়গা রয়েছে। যা জলাবদ্ধতায় পরিপূর্ন এবং প্রতিদিন প্রাইভেট হাসপাতাল সহ বাজারের বেশিরভাগ ময়লা আবর্জনা ফেলা হয় ওই স্থানে। টিএন্ডটির বিশাল এলাকাটি সংস্কারে কোন উদ্যোগ নিচ্ছেনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃৃপক্ষ। বিধি নিষেধ অমান্য করে উক্ত জলা জায়গায় কয়েক ব্যক্তি মাছ চাষ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে টেলিফোন লাইনের অবস্থা খুবই করুণ । বর্তমান মোবাইল ফোনের যুগে এ একচেঞ্জের ৫শ লাইন টেলিফোনের মধ্যে বর্তমানে সচল রয়েছে মাত্র ৩৭টি। বাকীগুলো অচল। সরেজনি পরিদর্শনে দৃষ্টিগোচর হয় টিএন্ডটির গেইট, রাস্তা , বাউন্ডারী ওয়াল ও অফিস যেন ভুতুড়ে পরিবেশ। একেবারে অস্বাস্থ্যকর, দুর্গন্ধ ও নোংরা। অফিসে বর্তমান জনবলের সংখ্যা ১ জন। তার একক দায়িত্বে ওই অফিসটি চলছে বলে জানা গেছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত রেজাউল করিমের সাথে সরাসরি আলাপকালে জানা যায়, টেলিফোনের চাহিদা অনেক কমে গেছে। এখন মাত্র ৩৭টি ফোন সচল। তাও আবার নিয়মিত বিল পরিশোধ হচ্ছেনা। যদিওবা টিএন্ডটিতে সুযোগ সুবিধা বেশি তবুও মানুষ মোবাইল ফোনের প্রতি ঝুকে গেছে। টিএন্ডটির বিশাল এলাকাটি বর্তমানে আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়ে গেছে স্বীকার করে তিনি আরো বলেন ময়লা না ফেলার জন্য প্রতিদিন নিষেধ করলেও তা মানছেনা। অতিরিক্ত আবর্জনার কারণে প্রবেশ পথটিও চেনা যাচ্ছেনা। বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ হচ্ছেনা এবং কয়েকজন মিলে মাছের পোনা ফেলছেন বলে তিনি বলেন। ঈদগাও ইউপি চেয়ারম্যান ছৈয়দ আলমের সাথে এ ব্যাপারে যোগযোগ করা হলে তিনি জানান, এলাকাটি খুব বেশী অস্বাস্থ্যকর হয়ে গেছে। পরিচ্ছন্ন করে মাটি ভরাট করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাথে সমন্বয় করে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যদি সৌন্দর্য ও উন্নয়নমূলক কাজে হাত দেয় তবে সরকারের পাশাপাশি জনগনও লাভবান হবে। না হয় শকুনের গ্রাস পড়া জায়গাটি উন্নয়নের মুখ দেখবে না। মুক্তিযোদ্ধা মাষ্টার নুরুল আজিমের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের সমন্বয়ে এ স্থানে বিশাল আইসিটি সেন্টার ও ল্যাব স্থাপন করা হলে সরকারের সাফল্যের পাশাপাশি এলাকার লোকজন উপকৃত হবে।
জালালাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি সেলিম মুর্শেদ ফরাজি জানান, টিএন্ডটি এলাকার দিকে সরকার দৃষ্টি দিলে সার্বিক দিকে সরকার ও জনগন লাভবান হবে। স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক উত্তম কুমার মল্লিক জানান, যেভাবে ময়লার স্তুপ জমেছে তাতে করে স্বাস্থ্যহানি সহ নানান ব্যধিতে আক্রান্ত হচ্ছে স্থানীয়রা। অচিরেই এ সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন বলে মনে করেন এলাকাবাসী।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •