cbn  

সংবাদদাতা:

কক্সবাজারের টেকনাফে একটি বসতবাড়ি দখলে নিতে উঠেপড়ে লেগেছে ভূমিদস্যু চক্র। মিথ্যা মামলার ফাঁদে ফেলে দখলে নিতে ব্যর্থ হয়ে সশন্ত্র হামলা করেছে চক্রটি। হামলায় বসতবাড়ি, দোকানপাঠ ব্যাপক ভাংচুর করা হয়েছে। এতে প্রায় ৮ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর ১২ টার দিকে টেকনাফের নতুন পল্লানপাড়া বটতলীবাজারের পূর্বপাশে এঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল তদন্ত করে হামলার প্রমাণ পেয়েছে।

জানা গেছে, নতুন পল্লানপাড়া বটতলীবাজারের পূর্বপাশে ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত বসতভিটায় বসবাস করে আসছেন নুরুল আমিনের পরিবার। তার বাবা মরহুম মকবুল আহমেদের কাছ থেকে ওয়ারিশসূত্রে জমিটি পান তিনি।

ওই বসতভিটার প্রতি কু-দৃষ্টি পড়ে লাল মোহাম্মদ গং এর। লাল মোহাম্মদ হলেন মরহুম মকবুল আহমেদের ভাই। লাল মোহাম্মদ সম্পর্কে নুরুল আমিনের জেঠা।

নুরুল আমিন অভিযোগ করে বলেন, বি.এস দাগ ৬৫২৬ খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত ওই জমি। এই দাগে ওয়ারিশসূত্রে ৩৫ শতক জমি পাবেন লাল মোহাম্মদ। কিন্তু লাল মোহাম্মদ ওই দাগ থেকে ৪০ শতক বিক্রি করে দেন। অন্যান্য ভাইদের অংশ থেকেও ৫ শতক জমি জোরপূর্বক বিক্রি করে দেন। এখন আমার বসতভিটার প্রতি লোপ পড়েছে তাদের। অথচ এই বসতভিটা আমার নামে ওয়ারিশসূত্রে দলিল ও নামজারি হয়েছে।

জানা গেছে, ওই জমিটি হাতিয়ে নিতে লাল মোহাম্মদ গং নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে। কিন্তু আদালত নুরুল আমিনের পক্ষে রায় দেন।

মামলা করে ব্যর্থ হয়ে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর ১২ টার দিকে আলম শাহ’র ছেলে মো. আলীর নেতৃত্বে নুরুল আমিনের বসতবাড়িতে হামলা চালানো হয়। এসময় বাড়ির আসবাবপত্র, বসতবাড়ি, তিনটি দোকানঘরসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র ভাংচুর করে। এতে প্রায় ৮ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ভুক্তভোগী নুরুল আমিন জানান, হামলায় অংশ নেন- আলম শাহ’র ছেলে মো. আলী, জাফর আলমের ছেলে নুরুল আমিন, আব্দুল আমিন ও জসিম উদ্দিন, মৃত দলিলুর রহমানের ছেলে আলী হোসেন, ছব্বির আহমদের ছেলে মো. তৈয়ব, সাইর মোহাম্মদের ছেলে জাফর আলম, শেখ আহমদের ছেলে আব্দুল। তাদের সবার বাড়ি নতুন পল্লানপাড়া। এছাড়া অজ্ঞাত আরও ১০/১৫ জন হামলায় অংশ নেয়।

ভুক্তভোগী নুরুল আমিন পেশায় একজন সহকারী দলিল লেখক। তিনি জানান, মঙ্গলবার সকালে তিনি অফিসে চলে যান। দুপুরে হঠাৎ খবর পান তার বাড়িতে তাণ্ডব চালাচ্ছে ভূমিদস্যু চক্র। তারা বাড়িঘর, জিনিসপত্র, দোকান সবকিছু তছনছ করেছে।

তিনি জানান, ঘটনার পর টেকনাফ থানার একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ভূমিদস্যুদের তাণ্ড চালানোর প্রমাণ পান পুলিশ। এঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান ভুক্তভোগী নুরুল আমিন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •