সিবিএন ডেস্ক:
নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির পর এবার আলুর দাম হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করলো। উত্তর বঙ্গের বন্যার কারণে দীর্ঘদিন আলুর দাম ৩২ থেকে ৩৬ টাকা বিক্রি হচ্ছিলো। দাম কমার আশ্বাস পেলেও গত দুই দিনের আলুর দাম দুই দফায় বেড়ে ৫০ টাকায় ঠেকেছে।

ব্যবসায়ীরা এবার দাম আরো বাড়তে পারে বলে জানাচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা সরবরাহ কমে যাওয়ার কথা বললেও কাগজ ছাড়া ব্যবসার কৌশলে ও প্রশাসনের প্রশ্রয় নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে বলে মনে করছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

নগরীর পাহাড়তলী, কর্নেলহাট, অলংকার, ইপিজেড, কাজিরহাট বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খুচরা বাজারে আলুর দাম ৫০ টাকায় বিক্রি হওয়ার পাশাপাশি আলুর স্বল্পতা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন আলু উৎপাদন ও মজুদকারী জেলাগুলো থেকে সরবরাহ কমে গেছে। ফলে আলুর দাম বেড়েছে।

দাম বাড়ানোর কারণ জানতে চাইলে অলংকার সবজি বাজারের দোকানি ইউনুস বলেন, ‘আলুর সাপ্লাই (সরবরাহ) কমে যাওয়ায় আমরা বেশি দামে কিনছি এবং বেশি দামে বিক্রি করছি। আমরা লোকাল (স্থানীয়) বাজারে ব্যবসা করি। একজনের কাছে দুই দিন আগে আলু বিক্রি করেছি ৩৬ টাকা কেজি। আজকে তার কাছে ৫০ টাকা বিক্রি করতে আমাদেরও লজ্জা লাগে। তাই দাম বাড়ানো-কমানোর ক্ষমতা আমাদের কাছে থাকলে আমরা এতো বাড়াতাম না। সাপ্লাই কম বলে আলুর দাম বেড়েছে। আর সাপ্লাই কেন কম তা বড় বড় আড়তদারই জানে।’

রিয়াজউদ্দিন বাজার আড়তদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি মাইনুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, ‘এ বছর আলুর ফলন দেরিতে আসছে। দুই সপ্তাহ আগে নতুন মৌসুমের আলু আসার কথা থাকলেও এখনো আসেনি। মজুদ কমে যাওয়ায় বর্তমানে মুন্সিগঞ্জ, জয়পুরহাট থেকেই আলু আসছে। দেশের অধিকাংশ মোকামের আলু শেষ হয়ে যাওয়ায় মুষ্টিমেয় কয়েকটি এলাকা থেকে সরবরাহকারীরা দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। বর্তমান মজুদে আরো কয়েক সপ্তাহ চলবে। পুরোদমে নতুন মৌসুমের আলু না আসা পর্যন্ত আলুর দাম আরো বাড়তে পারে।’

আলুর দাম বাড়া প্রসঙ্গে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘এসব মূলত পেপার লেস (কাগজ ছাড়া) ব্যবসার খারাপ প্রভাব। আইনগত ভাবে যেকোনো ব্যবসায়ী তার ক্রয়মূল্যের ২০-২৫ শতাংশ লাভ করে বিক্রি করতে পারবে। কিন্তু এখন তারা ঘণ্টায় ঘণ্টায় দাম উঠা-নামা করে ও বর্ডারের এপাড়-ওপাড়ের হিসেব দেখিয়ে পেপার লেস ব্যবসা করছে। প্রশাসন এ পেপার ব্যবসায় হস্তক্ষেপ না করে তাদের প্রশ্রয় দিচ্ছে। ফলে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছে মতো ব্যবসা করছে। ভোক্তারা কষ্টে পড়ে গেছে। বাজারে প্রতিটি জিনিসের দাম এভাবে বেড়ে যাওয়ার পরেও প্রশাসনের টনক না নড়া মোটেই শুভ লক্ষণ নয়।’ – সিভয়েস

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •