আনম রফিকুর রশীদ


সরকারের অটোপাসের সিদ্ধান্তটি রাজনৈতিক ও স্বাস্থ্যবান্ধব, শিক্ষাবান্ধব নয়।

একটা শিক্ষাবর্ষের পড়ালেখা থেকে পুরোএকটা জেনারেশনের শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত হয়ে হচ্ছে, শিক্ষার এই গ্যাপ বা ক্ষতি শত বছরেও পূরণ হবার নয়।

সরকারের সিদ্ধান্তে শ্রেণিক্রম ঠিক থাকছে, কিন্তু গ্যাপ থাকবে মেধার ক্ষেত্রে। ক্ষতিগ্রস্ত জেনারেশনের মধ্যে সবসময় হারানো শেসনের শূন্যতা বিরাজ করবে। পূর্ববর্তী সেশনের শিক্ষার্থীদের সাথে অদৃশ্য এই শূন্যতা বা গ্যাপ শত শত বছর ধরে জাতি অনুভব করে যাবে অদৃশ্য ভাবে।

ইসমাইল হোসেন সিরাজীর আত্মবিশ্বাস ও জাতীয় প্রতিষ্ঠা প্রবন্ধ থেকে একটি কথার মর্মার্থ মনে পড়ছে, আমাদের অভিভাবকেরা বছরের পর বছর সন্তানদের পরীক্ষায় পাসের খবরে তাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কিন্তু তালাইয়া দেখেন না জ্ঞানার্জনের কতটুকু তৃষ্ণা তাদের মধ্যে জন্মেছে। এর পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডাক্তার দীপু মনির এইচএসসি পরীক্ষায় অটোপাসের ঘোষণায়।

বাঙালি জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব বুঝেন না। আমরা সন্তানদেরকে পড়ালেখা করাই সনদ ও উপার্জনের জন্যে। উন্নত দেশগুলোর সাথে জ্ঞানার্জনের প্রতিযোগিতায় আমরা পিছিয়ে থাকার বড় কারণ এটাই।

বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড ওয়াজেদ মিয়া পাঠ্যক্রম বহির্ভূত সনদের উঁচু মাপের সমালোচক ছিলেন। জনৈক প্রভাবশালী রাজনীতিবিদের ষোলটি বিভিন্ন নামিধামি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদত্ত অনারারি ডক্টরেট ডিগ্রি সনদকে কলাপাতা সদৃশ তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেছিলেন তিনি।

একসময় দেখা যেতো আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবীরা দেশের ক্রান্তিলগ্নে সরকারকে পরামর্শ দিতেন, পত্রপত্রিকায় বিবৃতি দিতেন। তাঁরা এখন কোথায় যেনো হারিয়ে গেছেন, একেবারে চুপ। অটোপাসে ভেটো দিন, প্লিজ!

শিক্ষা বর্জিত সনদ মূল্যায়নহীন, এর তাৎপর্য আমাদের সরকারি নীতিনির্ধারকদেরকে অবশ্যই অনুধাবন করতে হবে। অটোপাসের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও বৈধ হলে পরীক্ষায় নকল, প্রশ্ন ফাঁস, উত্তরপত্র জালিয়াতি, জাল সনদ, কোনকিছু অবৈধ থাকবে না।

টেকসই মেধাসম্পন্ন জাতি বিনির্মাণের স্বার্থে অটোপাসের শিক্ষা পরিপন্থী সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহার করার জন্যে সরকারের নিকট আবেদন করছি।

মাত্র দুএকবছরের সেশন জটের মাধ্যমে এ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •