বার্তা পরিবেশক :
বাংলাদেশ কেমিষ্টস এন্ড ড্রাগিষ্টস সমিতি কক্সবাজার জেলা ও চকরিয়া উপজেলা শাখায় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে সাধারণ ব্যবসায়ীরা। এ নিয়ে ক্ষোভ আর হতাশা বিরাজ করছে।
প্রাপ্ত অভিযোগ জানা যায়, কেমিষ্টস এন্ড ড্রাগিষ্টস সমিতির জেলা শাখার সভাপতি নুরুল আমিন খাঁন ও সাধারণ সম্পাদক গৌরঙ্গ দত্ত এবং চকরিয়া উপজেলার সভাপতি কামাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক নিবেদন কান্তি দাশের বিরুদ্ধে তহবিল তসরুক, বিদেশে টাকা পাচার সহ নানা অভিযোগ উঠেছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ জেলা শাখার সভাপতি নুরুল আমিন খাঁন দীর্ঘ দিন ধরে অবৈধভাবে সভাপতির পদ দখল করে আছেন। তার কোন ওষধের দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান না থাকার পরেও তিনি গায়ের জোরে এই পদ দখল করে আছেন। এছাড়া ব্যবসায়ীদের নানা সমস্যা সমাধানের নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তিনি সংগঠনের কোন নিয়ন-কানুন তোয়াক্কা না করে বিনা করণে কোন ধরণের মিটিং ছাড়া রেজুলেশন ছাড়া সংগঠনের ফান্ড থেকে বড় অংকের টাকা তুলে নিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক সম্পাদক গৌরঙ্গ দত্তে’র বিরুদ্ধেও রয়েছে নানা অভিযোগ। ভারতে টাকা পাচারের মত গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তিনি সংগঠনের তেমন কোন দায়িত্ব পালন করেননা বললেই চলে। বছরের বেশিরভাগ সময় পরিবার ও ব্যবসার সূত্রে পশ্চিম বঙ্গে অবস্থান করেন। তার বিরুদ্ধে সমিতির নাম ভাঙ্গিয়ে হাসপাতালের টেন্ডার সাপ্লাইয়ে নানা অনিয়য়ের অভিযোগ উঠেছে।
একইভাবে চকরিয়া উপজেলার সভাপতি কামাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পদক নিবেদন কান্তির বিরুদ্ধেও একই ভাবে উঠেছে নানা অভিযোগ।
এছাড়া শহরের পানবাজার সড়কের ওষধ ব্যবসায়ীদের মধ্যে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংগঠনের দুই জেলা সদস্য জানান, তারা অন্য জেলা থেকে আসার কারণে ঝামেলায় যেতে চাননা। তবে যেসব অভিযোগ উঠেছে তা সত্য। তারা আরো জানান হাসপাতাল সড়কের এক ওষুধ ব্যবসায়ী ব্যবসার আড়ালে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে। এরই মধ্যে তিনি মাদক মামলায় দুইবার জেল হাজতে ছিলেন। আর এসব অপকর্মের জন্য তার’ও হাত রয়েছে।
একইভাবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংগঠনের এক কর্মকর্তা জানান, জেলা শাখার কেমিষ্টস এন্ড ড্রাগিষ্টস সমিতির বর্তমান সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পৈত্রিক সম্পতি হিসেবে ব্যবহার করছেন। সংগঠনের সভাপতি নুরুল আমিন খাঁন নিজের ইচ্ছে মত সংগঠন চালান। কোন সিন্ধান্ত নিতে তিনি কারো সাথে আলাপ করেনা। সর্বশেষ শোনা যাচ্ছে তিনি নাকি সংগঠনের তহবিল থেকে টাকা উঠিয়ে খেয়ে ফেলেছেন। যার হিসাব কাউকে দেননি।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে সংগঠনের সহ সভাপতি মিজানুর রহমান ফোন করা হলে তিনি জানান, সামনে কেন্দ্রিয় নির্বাচন তাই পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ আসবেই। অতি উৎসাহীরা অনেক কথা বলবে। তবে তহবিল তসরুকের ব্যাপারটা তিনিও শুনেছেন। কিন্তু বিস্থারিত না জেনে কোন মন্তব্য করতে চাননা। ব্যবসায়ীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাংগঠনিকভাবে সমস্যা সমাধান করা যায়।
এ ব্যাপারে জানতে জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাধারণ সম্পাদক গৌরঙ্গ দত্ত’কে ফোন করা হলে তাঁর মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। জানা যায়, তিনি কলকাতায় অবস্থান করছেন।
এ ব্যাপারে জানতে জেলা শাখার সভাপতি নুরুল আমিন খাঁন জানান, এই তথ্যগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। কেন্দ্রিয়ভাবে নির্দেশনা না আসলে নতুন কমিটি গঠনের কোন সুযোগ নেই। কিন্তু একটি কুচক্রি মহল আমাকে সরানোর জন্য এই ধরণের অভিযোগ আনছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •