ইমাম খাইর#
উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই সন্ত্রাসী বাহিনীর আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ৩ দিনে দুই দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় এক বাংলাদেশীসহ ৬ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে শতাধিক। দুই গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে চলমান সংঘর্ষে পুরো ক্যাম্পে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।

বুধবারও (৭ অক্টোবর) সারাদিন থেমে থেমে গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষে অন্তত অর্ধশত আহত হয়েছে। রোহিঙ্গাদের দু’পক্ষের চলমান সংঘর্ষ থামাতে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছে।

এই উদ্ভূদ পরিস্থিতিতে বুধবার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজ মো: আনোয়ার হোসেন। এ সময় তিনি আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশে কর্তব্যরত সকল ইউনিটকে যৌথভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন।

ডিআইজি বলেছেন, ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের আধিপত্য বিস্তারের কোন সুযোগ নাই। এখানে আধিপত্য থাকবে একমাত্র আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। কোন অপরাধিকে ছাড় দেওয়া হবে না।

অবৈধ অস্ত্রধারী রোহিঙ্গাদের গ্রেফতার করা হবে বলে জানান ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন।

এদিকে, গত সপ্তাহজুড়েই কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ১নং ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু’রোহিঙ্গা গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও সংঘাত চলে আসছে। এসময় দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে এ পর্যন্ত এক মহিলাসহ ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে এক সাথে ৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় উক্ত ক্যাম্পে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। এ কারণে বুধবার সকাল থেকে সারাদিন দু’পক্ষের মধ্যে প্রকাশ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে বুধবার সকালে এপিবিএন এর এক সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সকাল ১০টার পর থেকে কুতুপালং নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এঘটনায় ভয়ে দলে দলে রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ইনচার্জের অফিসে আশ্রয় নেয়। এসময় রোহিঙ্গারা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতেও দেখা যায়।

রোহিঙ্গারা বলছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরে ইয়াবা ব্যবসা, দোকান থেকে চাঁদাবাজি ও এলাকা ভিত্তিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী মুন্না গ্রুপ ও আনাছ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে।

এদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই গ্রুপের মধ্যকার গোলাগুলির ঘটনায় ক্যাম্প সংলগ্ন বাংলাদেশী গ্রামবাসীদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।

ক্যাম্পে সকাল থেকে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে দায়িত্বরত এপিবিএন সদস্য, পুলিশ, আনসার ও সেনাবাহিনী টহল জোরদার করে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে ৪জন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে আটক করে পুলিশ।

এদিকে গত মঙ্গলবার সংঘর্ষে নিহত চারজনের মধ্যে নুুরুল হুদা নামের একজন বাংলাদেশী রয়েছে। বুধবার সকালে নিহত নুরুল হুদার ভাই ইসমাইল উখিয়া থানায় গিয়ে নুরুল হুদার মরদেহ শনাক্ত করে।

অপরদিকে উখিয়া থানার পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানামারের রাখাইনে সেদেশের সেনাবাহিনীর অব্যাহত বর্বর নির্যাতনের মুখে প্রাণভয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় ১১ লাখেরও বেশী রোহিঙ্গা। আশ্রয় নেয়ার এক বছর পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও ক্রমাগতভাবে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

কয়েকদিনের ধারাবাহিক সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয় রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এসব ঘটনায় বহিঃশক্তির কোন ইন্ধন আছে কিনা? স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে খতিয়ে দেখার দাবি ওঠেছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •