নিজস্ব প্রতিবেদক:
সদ্য যোগদান করা শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কর্মকর্তা শাহ্‌ রেজওয়ান হায়াত বলেছেন, অতীতের মতো হোপ ফাউন্ডেশনের কাজে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয়ের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। ভালো কাজ দিলে সহযোগিতা নিশ্চয়ই পাবে।

বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) নতুন যোগ দেয়া শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কর্মকর্তা শাহ্‌ রেজওয়ান হায়াত’র সাথে সাক্ষাৎ করতে যান হোপ ফাউন্ডেশনের এক দল। কান্ট্রি ডিরেক্টর কেএম জাহিদুজ্জামানের নেতৃত্বে যাওয়া ওই দলের সাথে মতবিনিময়কালে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কর্মকর্তা শাহ্‌ রেজওয়ান হায়াত একথা বলেন।

হোপ ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য সেবার উপর কোনো মানব সেবা হতে পারে না। আপনারা সেই সেবাটিই দিচ্ছেন। অতীতের মতো স্বচ্ছতা, আন্তরিকতা ও বিধিবব্ধভাবে কাজ করলে অবশ্যই আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
শুধু রোহিঙ্গা নয়; স্থানীয় জনগণের জন্যও পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি বিধি-নিষেধ মেনে কাজ করার জন্য হোপ কর্মকর্তাদের প্রতি আহŸান জানান শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কর্মকর্তা শাহ্‌ রেজওয়ান হায়াত।

শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কর্মকর্তা শাহ্‌ রেজওয়ান হায়াতকে আশ্বস্ত করে হোপ ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর কেএম জাহিদুজ্জামান বলেন, কক্সবাজারের স্থানীয় দুস্থ ও অসহায়দের সেবা দেয়ার জন্যই ২১ বছর আগে হোপ ফাউন্ডেশন কাজ শুরু করে। ২০১৭ সালের রোহিঙ্গারা আসার ক্যাম্পে কাজ করছে হোপ ফাউন্ডেশন। ক্যাম্পে একটি ৫০ বেডের করোনা আইসোলেশন সেন্টারসহ ১০০ শয্যার ফিল্ড হাসপাতাল এবং ১০টি বার্থসেন্টার করেছে হোপ ফাউন্ডেশন। একই সাথে রামুর চেইন্দায় ৫০ বেডের করোনা আইসোলেশন সেন্টারসহ বড় হাসপাতাল পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়াও কুতুবদিয়াসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে ১০টি বার্থসেন্টার ও মেডিকেল সেন্টার পরিচালনা হচ্ছে। করোনা দুঃসময়েও হোপ ফাউন্ডেশন পরিচালিত কোনো প্রতিষ্ঠান এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ হয়নি।

উপস্থিত ছিলেন, শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয়ের হেল্থ কো- অর্ডিনেটর আবু তোহা এম.আর.এইচ ভুঁইয়া,  হোপ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের ডা. নৃন্ময় বিশ্বাস, হোপ ফাউন্ডেশনের কো-অর্ডিনেটর রাকিবুল হক, ডা. শিফাত শবনম ও আনিতা তঞ্চঙ্গ্যা।

উল্লেখ্য, কক্সবাজারের কৃতিসন্তান আমেরিকা প্রবাসী চিকিৎসক ইফতিখার মাহমুদের অক্লান্ত পরিশ্রমে প্রতিষ্ঠিত হোপ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রামুর চেইন্দায় একটি বড়মাপের হসপিটাল এবং জেলা কয়েকটি স্থানে বার্থসেন্টার ও মেডিকেল সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে। ২০১৭ সালে নির্যাতনের মুখে রোহিঙ্গারা পালিয়ে আসার পর উখিয়ার স্থাপন করে বড় ধরণের একটি ফিল্ড হসপিটাল। সেখানে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয়দের চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। করোনার প্রকোপ শুরু হলে এই হাসপাতালটিকে ৫০ বেডের একটি আইসোলেশন সেন্টারসহ ১০০ বেডে উন্নীত করা হয়। একইভাবে রামুর চেইন্দায়ও ৫০ বেডের একটি করোনা আইসোলেশন সেন্টার স্থাপন করা হয়। সেখানেও করোনা রোগীদের চিকিৎসা চলছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •