হামিদুল হক, ঈদগড়:
রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে আখের ফলন খুব ভালো হয়েছে। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর আখের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। কৃষকদের আশা বাম্পার ফলনের পাশাপাশি ভালো দামে বিক্রি করতে পারলে গত বছরের লোকশান লাঘব হবে।

ঈদগড় ইউনিয়নের কোনর পাড়া গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ হোসেন (২৮) জানান, তিনি গত বছর আখের চাষ করেছিলেন। কিন্তু সেবার ফলন ভালো না হওয়ায় তার কোনো লাভ হয়নি। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার আখের বাম্পার ফলন হওয়াতে তিনি বেশ খুশি। আখ বিক্রির বাড়তি আয়ে পারিবারিক অনেক আর্থিক সমস্যার সমাধান করতে পারবেন বলে তিনি জানান।

একই এলাকার আ. হাসিম (৪০) জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আখের ফলন ভালো। কিন্তু ভালো পাইকার না পাওয়াতে একটু সমস্যায় পড়েছেন। স্থানীয় পাইকাররা অন্য পাইকারদের তুলনায় অনেক কম দাম দেয়। আখচাষিদের কাছে স্থানীয়দের চেয়ে দূরের পাইকাররাই বেশি অগ্রাধিকার পান। কারণ তারা স্থানীয়দের তুলনায় বেশি মূল্য দেয়। তবে এই সমস্যা থাকবে না বলেও তিনি এ প্রতিবেদককে জানান।

তিনি আরো জানান, পাইকারি বিক্রির চেয়ে খুচরা বিক্রি করতে পারলে কয়েক গুণ বেশি অর্থ ঘরে তোলা যায়।

আখচাষি খোরশেদ মিয়া (৩৫) বলেন, আমাদের বাপ-চাচাদের কাছে শুনেছি, স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে এই এলাকায় ভালো আখ চাষ হতো। আখ চাষে মূলধন ফেরত না আসা এবং সঠিক মূল্য না পাওয়ায় স্বাধীনতার পর থেকে আখচাষিরা লাভজনক ও পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এই মৌসুমী ফসল আখ চাষ থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

তিনি জানান, তারা প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা পেলে হয়তো আবারো নতুন করে আখ চাষে উদ্যোগী হবেন।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, তার কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে অতীতের মতো সব সময় আখচাষিদের জন্য সকল প্রকার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •