সংবাদদাতা:
খরুশকুলে ছেলের হাতে কয়েক দফায় বেধড়ক মারধরের শিকার হয়েছে এক বৃদ্ধা মা। গুরুতর অবস্থায় আহত বৃদ্ধা মা’কে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। পরে এ ঘটনায় সন্ত্রাসি ছেলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন নির্যাতিত মা। কিন্তু মামলার করার পর ৬ অক্টোবর আবারো কয়েক দফায় দফায় মা’য়ের উপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ ওঠেছে।

মামলার এজাহারে জানা যায়, খুরুশকুল দক্ষিন ডেইল পাড়ার মোহাং হোছাইন এর স্ত্রী রাবেয়া বসরী’র(৬৮) রয়েছে ৭ সন্তান। তৎমধ্যে ৪র্থ সন্তান শহিদুল হককে(৩৬) ২০০৩ সালে ভিটেবাড়ি বন্ধক ও জমানো শেষ সম্বল নিয়ে সৌদিআরব পাঠানো হয়। দীর্ঘজীবন সৌদিআরব থেকে ২০১১ সালে দেশে এসে বিবাহ করে। তারপর যৌথ পরিবার থেকে পৃথক হয়ে যায়। এক পর্যায়ে শশুরবাড়ির লোকজন ও স্ত্রী পরামর্শে মা’ রাবেয়া বসরীর নামীয় ভিটেবাড়ি অন্যান্য ছেলে-মেয়েদের নিঃস্ব করে এবং তাদের অগোচরে নিজের নামে লিখে নেয়ার চেষ্টা চালায় শহিদুল হক। তাতে বৃদ্ধা মা’ রাজি না হওয়ায় দফায় দফায় নির্যাতন শুরু হয়। পাশাপাশি ছোট ভাইদের উপরও চালানো হয় অমানষিক নির্যাতন। বৃদ্ধা রাবেয়া বসরী জানান, ২৫ সেপ্টেম্বর তাকে ছেলে শহিদুল হকসহ ৪/৫ জন তার ভাড়াটে সন্ত্রাসি ছুরির ভয় দেখিয়ে অলিখিত স্ট্যাম্পে দস্তখত আদায় করে নেয়। পরে বাড়ি থেকেও বের করে দেয়া হয়। একপর্যায়ে নিরুপায় হয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর শহিদুল হককে প্রধান আসামী করে সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত-০২, সদর কক্সবাজারে মামলা দায়ের করেন। যাহার নং ৭৬১/২০ইং। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে কক্সবাজার সদর থানার ওসিকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে আদালতে মামলা করার পর ৬ অক্টোবর সকালে আবারো কয়েক দফায় বৃদ্ধা মা’ রাবেয়া বসরীকে বেধড়ক মারধর করে অবাধ্য সন্ত্রাসী ছেলে শহিদুল হক। পরে স্থানীয় লোকজন উক্ত বৃদ্ধাকে সন্ত্রাসি শহিদুলের কবল থেকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেন।

মামলার বাদী বৃদ্ধা রাবেয়া বসরী জানান, আমার সহায় সম্বল বন্ধক ও বিক্রি তাকে সৌদিআরব পাঠিয়ে টাকার মালিক করে বড় ভুল করেছি। তাই আজ তার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মানুষের দরজায় দরজায় ঘুরতেছি। আমাকে নির্যাতনকারি সন্ত্রাসি শহিদুলের বিচার দাবী করছি।

এদিকে মামলা তদন্তকারি কর্মকর্তা এস.আই ইমাম হোসেন জানান, কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের ডেইল পাড়ায় ছেলে কতর্ৃক বৃদ্ধা মা’ নির্যাতনের অভিযোগ আদালত কতর্ৃক একটি মামলার তদন্ত পেয়েছি। উক্ত মামলা নিয়ে ইতিপূর্বে বাদীর সাথে কথা হয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলাটির তদন্তপূর্ব আদালতে প্রতিবেদন দায়ের করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •