সিবিএন ডেস্ক:
ভারতে কাপড়ের ওপর লেখা পবিত্র কোরআনের দীর্ঘতম পাণ্ডুলিপি প্রদর্শন করা হয়েছে। ওই পাণ্ডুলিপির দৈর্ঘ্য ৩.১ কিলোমিটার। আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এখনও মেলেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, কাপড়ের ওপর লিখিত ৩.১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যসম্পন্ন পবিত্র কোরআনের এই পাণ্ডুলিপিটি বিশ্বের দীর্ঘতম কোরআনের পাণ্ডুলিপি।

ভারতের কেরালা রাজ্যের কায়ামকুলামের কাছে ইরুভার বাসিন্দা এম কে নওশাদ চার সন্তানের সহায়তায় কাপড়ের ওপর সম্পূর্ণ কোরআন লিখেছেন। পেশায় দর্জি নওশাদের স্বপ্ন ছিল কাপড়ের ওপর পুরো কোরআন লিখার। অবশেষে ছেলেদের সহায়তায় ৩.১ কিলোমিটার দীর্ঘ কাপড়ে কোরআন হাতে লিখে সেই স্বপ্ন পূরণ করলেন, সেই সঙ্গে করলেন বিশ্বরেকর্ডও।

এম কে নওশাদের এক ছেলে মৌলভী আবদুল কাদের বলেন, ‘বাবার স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে তারা চার ভাই মিলে বাবার সঙ্গে কাপড়ে হাতে সম্পূর্ণ কোরআন লিখেছেন।’

এরনাকুলামের পাল্লুরুথির তারবিয়া মাদরাসার কোরআনের শিক্ষক মৌলভী আবদুল কাদের বলেন, ‘কয়েক বছর আগে তার বাবা ইচ্ছা করেছিলেন দীর্ঘ কাপড়ে কোরআন লেখার। কিন্তু সময়ের অভাবে তা করতে পারেননি। তাই করোনা সংক্রমণের সময় লকডাউনে সেই কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। আমরা তাকে সাহায্য করতে থাকি। দেড় ইঞ্চি চওড়া রঙিন কাপড়ে কোরআনের আয়াত লিখে একত্রিত করতে থাকি।’

তিনি জানান, ‘এটি করতে আমাদের প্রায় ১১১ ঘণ্টার মতো সময় লেগেছে। দশটা সবুজ মার্কার কলম ও দশ বোতল কালি লেগেছে। সব মিলিয়ে এই কাজে আমাদের খরচ হয়েছে ২০ হাজার রুপি।’

যার স্বপ্ন সফল করতে ছেলেরা এই মহৎ কাজ করেছেন সেই এম কে নওশাদ কাপড়ের টুকরোগুলো একত্রে সেলাই করেছেন বেশ যত্ন নিয়ে।

এর আগে কাপড়ের টুকরো জুড়ে জুড়ে ৫৪টি দেশের জাতীয় পতাকা তৈরি করেছিলেন তিনি। তৈরি করেছিলেন কাপড়ের টুকরো দিয়ে ভারতের পতাকাও। ২০০৩ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এ পি জে আব্দুল কালাম যখন কোচিতে এসেছিলেন, তখন তাকে ডেকে সংবর্ধিত করা হয়েছিল।

নওশাদের চার ছেলেই কোরআন ও আরবিতে উচ্চ শিক্ষিত। তারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন। তার এক ছেলে কে আই টি স্কুলের শিক্ষক মুহাম্মাদ শফি বলেন, ‘জুন মাসে ৩.১ কিলোমিটার দীর্ঘ কোরআন লেখার কাজ শুরু করা হয়। শেষ হয় ২৬ জুলাই।’

তিনি জানান, ‘পুরো নকশা তার বাবার। ১৫৫ রংয়ের কাপড় দিয়ে তৈরি করা হয়েছে কোরআন। এক একটি রঙিন কাপড় ২০ মিটার দীর্ঘ। পুরো কোরআন হাতে লেখা হয়েছে ওই কাপড়ে। যা লম্বায় দাঁড়িয়েছে ৩.১ কিলোমিটার।’

কাপড়ের রোলের ওপর লিখিত এই পাণ্ডুলিপিটি ঘুরিয়ে অতি সহজেই প্রথম থেকে ত্রিশ পারা পর্যন্ত তেলাওয়াত করা সম্ভব এবং এটিকে বড় একটি বাক্সে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

নওশাদের ছেলেদের দাবি, ‘আমরা যতদূর জানি, কোরআনের এই পাণ্ডুলিপিটি বিশ্বের দীর্ঘতম পাণ্ডুলিপি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।’

-দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •