ছৈয়দ আহমদ তানশীর উদ্দীন:
হাসপাতালে বা যেকোন সেবা কেন্দ্রে রোগী ভর্তি হওয়ার /সেবা নেওয়ার ২৪ঘন্টা পরে যদি রোগী কোন নতুন রোগে সংক্রমিত হয় তাকে স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কিত সংক্রমন বলা হয় ইংরেজিতে Hospitals Acquired Infection (HAIs) এ সংক্রমন কমানোর জন্য রোগী,দর্শনার্থী, থেকে শুরু করে হাসপাতালের আায়া,ক্লিনার,নার্স ও চিকিৎসক সহ সর্বস্থরের মানুষের অংশগ্রহণ জরুরি। চিকিৎসক, নার্স সহ অন্যন্য স্বাস্থ্যর্মীরা একত্রে কাজ করেছেন এই কভিড১৯সময়ে। মিডওয়াইফরা ও মায়েদের সাহায্য করছেন সন্তান জন্মদানে সহায়তা করছেন। নবজাতক শিশুদের পৃথিবীর আলো দেখাতে সহায়তা করছেন। নার্স ও মিডওয়াইফরা স্বাস্থ্যসেবায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে।তাই জাতিসংঘের ৭২ তম এসেম্বলিতে ২০২০ সালকে ফ্লোরেন্স নাইটিংগেলের জন্মদ্বীশতবার্ষিকী কে নার্স ও মিডওয়াইফ বর্ষ ঘোষণা করেছে। এটি শুধুমাত্র ফ্লোরেন্সের প্রতি শুধুমাত্র সম্মান প্রদশর্ন করে না অবশ্যই নার্স ও মিডওয়াইফদের রোগীদের কল্যানে কাজের প্রতি স্বীকৃতি। ২০২০বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ক্যাম্পেইন Save Life :Clean Hand সকল স্বাস্থ্যহিরু(Health Hero) দের অর্থাৎ নার্স ও মিডওয়াইফদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে যাতে করে স্বাস্থ্য সেবা সম্পর্কিত সংক্রমন কমানো যায়। নার্সরা স্বাস্থ্যসেবার মেরুদণ্ড তারা মানসম্মত সেবা নিশ্চিত ও স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কিত সংক্রমণ কমাতে পারে। স্বাস্থ্যসেবায় প্রায় ৫৯℅নার্স সুতরাং তাদের ভুমিকাটা জোরালো। এটা সত্যি যে বেশিরভাগ আইপিসি নিয়ে কাজকরা লোকজন নার্স।
হাসপাতালে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য আইপিসি (infection prevention and control) প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত ও নিবেদিতপ্রাণ সদস্যদের সমন্বয়ে একটা টিম গঠন করতে হবে।
নার্সরা নিম্নোক্ত কাজগুলো করতে পারেন এতে সংক্রমন অনেকটা কমে যাবে।
১.আইপিসি কার্যক্রম চালুকরণঃ
স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে কিছু নিবেদিত ও প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত লোকদের নিয়ে আইপিসি কমিটি গঠন করতে হবে।নার্সদের আইপিসি কার্যক্রমের মূলকেন্দ্রে রাখতে হবে এবং আইপিসি কার্যক্রম জোরদার ও উন্নীতকরণে নার্সদের গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা আছে কারণ বেশিরভাগ স্বাস্থ্যসেবা নার্সকেন্দ্রিক এবং তাদের সাথে রোগীদের সাক্ষাৎটা বেশি হয়।
২.আইপিসি ( infection prevention and control) সংক্রান্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষনঃ
স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে সবার জন্য IPC সংক্রান্ত শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশিক্ষন চালু করতে হবে। যেহেতু নার্সরা স্বাস্থ্যের প্রতিটি ক্ষেত্র প্রতিফলিত করে সেজন্য IPC শিক্ষা, প্রশিক্ষন এবং নিত্যনতুন তথ্য নার্সদের দেয়া প্রয়োজন।
নার্সরা অনন্য সহকর্মীদের আইপিসি সংক্রান্ত ট্রেনিং ও শিক্ষা প্রদান করবেন। অনেক দেশে আইপিসি পেশাদারিরা নার্স।আবার অনেকদেশ পোস্ট গ্রেজুয়েশনের কারিকুলামে আইপিসি অর্ন্তভুক্ত করেছে এবং আইপিসিতে ক্যারিয়ার গঠনের জন্য কাজ করছে।
নার্সরা রোগীদের হ্যান্ড হাইজিন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে শিক্ষা দিতে পারবেন।
৩.হাতের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাঃ নার্সরা সকল স্বাস্থকর্মীদের হাতের স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে গুরুত্বারোপ করতে পারেন।যে পাচটি মুহুর্তে হাত ধৌত করতে হবে ঐ সব মুহুর্তে ধৌত করা হয়েছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে।কখন গ্লাভস পরবে কখন পরবে না, এজন্য একজন তদারকি টিম তৈরি করতে হবে।
৪.বর্জ্য ব্যবস্থপনাঃ
চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে যেসব বর্জ্য উৎপাদিত হচ্ছে সেসব মেডিকেল বর্জ্য গুলো উৎপাদন স্থলে আলাদা করতে হবে এজন্য বিভিন্ন রংয়ের পৃথক পৃথক পাত্র রাখা যাবে।
সাধারন বর্জ্যঃ কাল
ধারালো বর্জ্যঃলাল
ইনফেকশাসবর্জ্যঃহলুদ
তরল বর্জ্যঃ নীল
পুনঃ ব্যবহার্যঃসবুজ
তবে অনুরূপ বর্ণের পাত্র পাওয়া না গেলে বর্জ্যের নাম লেভেলিং করে আলাদা ময়লার পাত্র ব্যবহার করতে হবে।
একটি পরিসংখ্যান বলে হাসপাতালে উৎপাদিত বর্জ্যের ৮০শতাংশ সাধারণ বর্জ্য বাকীগুলো মেডিকেল বর্জ্য এসব মেডিকেল বর্জ্য এবং সাধারণ বর্জ্য আলাদা করতে হবে।অধিকাংশ সময় সাধারণ বর্জ্যের সাথে মেডিকেল বর্জ্য মিশে সবগুলো বর্জ্য ইনফেশাস বর্জ্য হয়ে যাচ্ছে। রোগীদের কোন বর্জ্য কোথায় ফেলবে সে সম্পর্কে অবহিত করতে হবে।
৫.আইপিসি কার্যক্রম তদারকি করাঃ
স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে যে আইপিসি কার্যক্রম চলমান তা যেমনঃ বর্জ্য ব্যবস্থপনা,হাতের স্বাস্থ্য বিধি, হাসপাতাল পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, সহ অন্যন্য কার্যাদি ঠিকমত চলছে কিনা তা নিয়মিত তদারকি করা এবং মাসিক মিটিংয়ে আলোকপাত করা।
এটা অনস্বীকার্য যে, যথাযথ আইপিসি কার্যক্রমের শয্যা অনুপাতে জনবলের প্রয়োজন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে ২০৩০ সালের মধ্যে ৬০লাখ নার্সের প্রয়োজন।এজন্য যথাযথ প্রদক্ষেপ জরুরি।
আমরা একটু সচেতন হলে সংক্রমন কমবে।

লেখকঃ ছৈয়দ আহমদ তানশীর উদ্দীন
আইপিসি ডেপুটি ফোকাল পারসন
নার্সিং কর্মকর্তা
২৫০শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল কক্সবাজার

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •