ইমাম খাইর:
অধ্যাপক নুরুল আলম জিকু করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ায় বিধি মোতাবেক তার দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
মৃত্যুর পর লাশ পরিবহন থেকে দাফন প্রক্রিয়ার শেষ পর্যন্ত সার্বিক দেখভাল করেছেন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন।
দাফন টিমে ছিলেন-কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের অর্গানিয়ার মোহাম্মদ শরীফ নেওয়াজ, সদস্য আরমান আকিব, রহমান রাকিব, শাহরুখ আবদুল্লাহ, নাহিদুল ইসলাম।
স্ব-পরিকল্পনা ও স্ব-অর্থায়নে সৃষ্টির সেবার এক সঙ্ঘবদ্ধ প্রয়াস কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। মানবতা যেখানে বিপন্ন, সেবার যে খাত অবহেলিত, ফাউন্ডেশনের বিচরণ সেখানে অবারিত।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বাদে জুহর খুটাখালী মেদা কচ্ছপিয়া অঙ্গিকার খেলার মাঠে অধ্যাপক নুরুল আলম জিকুর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জানাজায় ইমামতি করেন মরহুম অধ্যাপক নুরুল আলম জিকুর বড় ভাই মাওলানা নুর আহমদ আনচারী।
নামাজে জানাজা শেষে দক্ষিণ মেদা কচ্ছপিয়া মহল্লার পুরনো কবরস্থানে চিরশায়িত থাকা মা মরহুমা রহিমাতুন্নেছা ও পিতা আলহাজ¦ নজু মিয়ার কবরের পাশে অধ্যাপক জিকুকে চিরসমাহিত করা হয়েছে।
মরহুম জিকুর বড় ভাই ফুলছড়ি ইসলামিয়া আদর্শ দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা বশির আহমদ বলেন, ‘আমার ছোট ভাই নুরুল আলম জিকু প্রায় ২ মাস আগে কবরের জায়গা ঠিক করে গেছেন। মা-বাবার পাশে তাকে দাফনের জন্য বলেছেন। তার অছিয়ত মতো সেখানেই দাফন করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, করোনার উপসর্গ নিয়ে অধ্যাপক নুরুল আলম জিকুকে গত ২৫ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি করানো হয়। ৩০ সেপ্টেম্বর করোনা ‘পজিটিভ’ ধরা পড়ে। এরপর তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। ৪ অক্টোবর দিবাগত রাত সাড়ে ১১ টার দিকে মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫২ বছর।
অধ্যাপক নুরুল আলম জিকু খুটাখালী দক্ষিণ মেদা কচ্ছপিয়া স্কুল পাড়ার বাসিন্দা হলেও কক্সবাজার শহরের উত্তর তারাবনিয়ারছরা এলাকায় বাড়ি করেছেন। সেখানেই স্বপরিবারে বসবাস করতেন।
তার একমাত্র মেয়ে নাবিহা চট্টগ্রাম মহিলা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষে এবং একমাত্র ছেলে নাবিদ হাসান কক্সবাজার সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র।
পেশাগত জীবনে অধ্যাপক জিকু খুবই দক্ষ ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। তিনি ডুলাহাজারা কলেজ ছাড়াও খুটাখালী তমিজিয়া ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসা, ঈদগাঁও ফরিদ আহমদ কলেজে শিক্ষকতা করেছেন। অনেক প্রতিষ্ঠানে খন্ডকালীন শিক্ষকতা করেন তিনি।
অধ্যাপক নুরুল আলম জিকুর মৃত্যু পুরো এলাকাকে কাঁদিয়েছে। জানাজায় দূরদূরান্তের লোকজনের স্বতঃস্ফূর্ত অংশ গ্রহণ সেটিই প্রমাণ দেয়। তার মৃত্যু পরিবারের ১০ ভাই, ২ বোনের একগুচ্ছ তারাকা থেকে যেন একটি তারকা ঝরে গেল। তিনি চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের ২৫ তম ব্যাচের ছাত্র। ১৯৮৬ সালে খুটাখালী উচ্চবিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পাশ করেন নুরুল আলম জিকু। ছোট কাল থেকেই তাকে ‘দূরন্তপনা, বুদ্ধিমান ও মেধাবী’ হিসেবে সবাই চিনতো।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •