মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

উখিয়ার পালংখালী মধুরছড়ার গহীন অরণ্যে অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে র‌্যাব। কারখানায় দীর্ঘক্ষণ চলা অভিযানে ২জন অস্ত্রের কারিগরসহ ৩টি অস্ত্র, ২ রাউন্ড গুলি ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার ২ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এ অভিযান চালানো হয় বলে জানান- র‌্যাব-১৫ এর উপ-অধিনায়ক মেজর মেহেদী হাসান।

অভিযানে আটকৃতরা হলো-মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নের মৌলভীকাটা গ্রামের মোখলেসুর রহমান ও মৃত শুক্কুর বিবি’র পুত্র আনোয়ার (৫০), অপরজন একই উপজেলার নতুনবাজারের মগরিকাটা গ্রামের আবুল কালাম ও সুফিয়া খাতুনের পুত্র মোঃ এখলাস (২৫)। তারা ২ জনই অস্ত্র তৈরীর দক্ষ কারিগর।

ধৃতরা জিজ্ঞাসাবাসে জানিয়েছে, আবু মুজিব (৫১) নামক জনৈক ব্যক্তি অস্ত্র তৈরীর জন্য তাদেরকে মহেশখালী থেকে নিয়ে এসেছে। মুধুরছড়া গভীর অরণ্যে অস্ত্র তৈরীর জন্য সে একটি টিনের চালা ঘর তৈরি করে দিয়েছে। অভিযান চলাকালে আবু মুজিব (৫১) সহ ৪ জন পালিয়ে যায়।

র‌্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি আবদুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সাদী জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে আটকৃতরা মধুরছড়া গহীন পাহাড়ী এলাকায় অবস্থান নিয়ে অস্ত্র তৈরী করে রোহিঙ্গা ও অপরাধীদের মাঝে সরবরাহ করে আসছিল।

শুক্রবার বিকালে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন সংরক্ষিত গহীন পাহাড়ে কিছু অস্ত্র ব্যবসায়ি অবস্থান করছে খবরে র‌্যাব-১৫ এর একটি দল এ অভিযানটি চালায়। অভিযানের এক পর্যায়ে মধুরছড়া নামের একটি পাহাড় থেকে ২ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের অবস্থান নেয়া একটি কুড়ে ঘর থেকে তাদের তৈরী ২টি শুটারগান, ২টি গুলি ও বেশকিছু অস্ত্র তৈরীর সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব-১৫ এর এ কর্মকর্তা বলেন, আটকৃতরা মহেশখালী থেকে এসে মধুরছড়া গহীন পাহাড়ী এলাকায় অবস্থান করে অস্ত্র তৈরী করে রোহিঙ্গাদের কাছে নিয়মিত সরবরাহ করতো। তারা দীর্ঘদিন ধরে এ অস্ত্র তৈরী এ কাজ চালিয়ে আসছে বলে তিনি জানান। সন্ধানপ্রাপ্ত অস্ত্র তৈরীর এ কারখানার পাশেই ২টি বৃহৎ রোহিঙ্গা ক্যাম্প রয়েছে। ধৃতদের উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে চালান দেওয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, বেশ কিছুদিন ধরেই রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক ইয়াবার চালান ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের দৌরাত্ম্য আশংকাজনকভাবে বেড়ে গেছে। যা স্থানীয়দের নিরাপত্তা ও আইনশৃংখলার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •