শামীমুল ইসলাম ফয়সাল, উখিয়া:

উখিয়ার উপকূলীয় ইউনিয়ন জালিয়া পালংয়ে মোটরসাইকেল চোরের একাধিক সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়েছে। প্রতিদিন ঘটছে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা। হটাৎ মটরসাইকেল চুরির এমন ঘটনায় অনেকেই নিজেদের গাড়ি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। শক্রিশালী কয়েকটি চক্র জালিয়া পালং ইউনিয়নের মোঃ শফির বিল, বালিখালী, ছোয়াংখালী এবং ছেফটখালী এলাকা হতে গত কয়েকদিনের ভেতরে অন্তত ৪/৫ টি মটরসাইকেল চুরি করে নিয়ে যায়।
এতে করে স্থানীয়দের মাঝে মোটরসাইকেল চুরি নিয়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সেই সাথে এসব এলাকার বাসিন্দারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্হিতির চরম অবনতি হয়েছে বলে দাবী করছেন।
মটরসাইকেল চোরের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেনা আইনজীবি, ব্যবসায়ী, ছাত্রসহ নানা শ্রেণীপেশার মানুষ।

জানা যায়, গত ৮ আগস্ট রাতে জালিয়া পালং ইউনিয়নের ছোঁয়াংখালী এলাকার নিজ বাড়ির আঙ্গিনা থেকে এডভোকেট রাশেলের এফ.জেড ভার্সন-২ মডেলের ১৫০ সিসি মটরসাইকেলটি চুরি হয়ে যায়। এডভোকেট রাশেল জানান, “অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজির পরেও এ পর্যন্ত গাড়ির কোনো হদিস পাইনি”। ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনাটি মৌখিকভাবে জানিয়ে রেখেছেন এমনটা নিশ্চিত করেছেন এডভোকেট রাশেল।
এ ঘটনার ঠিক একদিন পর অর্থাৎ ৯ আগস্ট রাতে ছেফটখালী এলাকার মোঃ পারভেজের সুজুকি ‘জিক্সার এসএফ’ ১৫০ সিসির নতুন গাড়িটি চুরি হয়ে যায়।তাঁর বাবা তাঁকে শখ করে গাড়িটি কিনে দিয়েছিলেন।পারভেজ জানায়, সুজুকি ‘জিক্সার এসএফ’ মডেলের ব্লু কালারের গাড়িটি ছেপটখালী ছেয়দ হোসাইন মার্কেটের দোকান থেকে তালা ভেঙ্গে রাত তিনটার সময় চুরি করে নিয়ে যায়।সেসময় স্হানীয় কিছু মানুষ গাড়ি চুরির ঘটনাটি রাত ৩টার দিকে কিছুটা আঁচ করতে পারলেও তাঁরা পুরোপুরি বুঝতে পারেনি যে, মটরসাইকেল চুরি হচ্ছে সেটা।ফলে সহজে তাঁরা গাড়িটি নিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
এ ঘটনায় পারভেজের বাবা জাফর আলী উখিয়া থানায় একটি জিডি ( সাধারণ ডায়েরি) করেন, যার নাং ৪৫৫।এদিকে পাটুয়ারটেক এলাকার মোঃ আজিজের নতুন ‘ডিসকভার’ ১২৫ সিসির গাড়িটি চুরি হয়ে যায় গত ১২ আগস্ট রাতে।মোঃ আজিজ জানান, তাঁর বাড়ি এলজিইডি সড়ক থেকে একটু নিচুতে হওয়ায় সেখানে গাড়ি নিযে যাওয়া অসম্ভব।
তাই তিনি প্রতিবেশী মোঃ মোজাফ্ফরের বাড়িতে (বিল্ডিং) প্রতিদিন রাতে মোটরসাইকেলটি রাখেন। কিন্তু ১২ তারিখ রাতে গাড়িটি চুরি হয়ে যায়।
ঠিক একইরাতে পাটুয়ারটেক থেকে ৩ কিলোমিটার দক্ষিণে বালীখালী এলাকার আতিকের ১৫০ সিসির নতুন ‘পালসার’ মোটরসাইকেলটি বাড়ির বাহিরের বারান্দা থেকেই চুরি করে নিয়ে যায়।
আতিক জানান, তিনি সেদিন নিজের ব্যক্তিগত কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরেন রাত ১ টার সময়, গাড়ি বারান্দায় রেখে লক করে ঘুমিয়ে পড়েন।সকালে উঠে দেখেন তাঁর গাড়িটি চুরি হয়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, গত ১০ বছর ধরে তিনি মটর সাইকেল ব্যবহার করছেন।এবং ১০ বছর ধরেই তিনি গাড়ি ঘরের বারান্দায় রাখতেন, কখনো চুরির ঘটনা ঘটেনি।
বারান্দা থেকে হটাৎ গাড়িটি চুরি হয়ে যাওয়া তিনি কিছুটা অবাক হয়েছেন বলে জানান।
এদিকে পরপর মটরসাইকেল চুরির এমন ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা।তারা অনেকেই ধারণা করছেন, ছিঁচকে কোনো চোরের পক্ষে এভাবে সিরিয়ালি মটরসাইকেল চুরি করা সম্ভব নয়।
বড় কোনো চক্র এ চুরির পিছনে জড়িত আছে বলে তারা মনে করছেন।শুধু জালিয়া পালং নয়, গত কয়েকদিনেই উখিয়ার বিভিন্ন জায়গায় থেকে একাধিক মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটে।
যার একটিরও উদ্ধার হয়নি বলে জানান চুরি হওয়া মোটরসাইকেলের মালিকরা। সূত্র জানায়, মূলত মটরসাইকেলগুলো চুরি করে কিছুদিন সেগুলো তাঁরা হেফাযতে রেখে দেয়।
পরে সেগুলো বের করে গাড়ির বডির রং এবং সেসিস নাম্বার পরিবর্তন করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় মোটা অংকের টাকায় বিক্রি করে দেয়।পরে পুলিশের পক্ষেও গাড়িগুলো উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •