ইমরান আল মাহমুদ, উখিয়াঃ
বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের বাইরে যেতে রয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাদের পালানো রোধে সার্বক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত রয়েছে।
সম্প্রতি জন্মনিবন্ধন সার্ভার চালু করে দেওয়া এবং জন্মনিবন্ধন হালনাগাদ কার্যক্রমকে সামনে রেখে ক্যাম্প থেকে পালিয়ে বিভিন্ন স্থানে তাদের পূর্বে পালিয়ে আসা আত্নীয় স্বজনদের বাসায় আশ্রয় নিচ্ছে রোহিঙ্গারা। বিভিন্ন উপায়ে হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশি নাগরিক। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলাতে রোহিঙ্গাদের(বর্তমানে অসদুপায়ে বাংলাদেশি) বসবাস রয়েছে। বিশেষ করে কক্সবাজার শহরের প্রত্যেক ওয়ার্ডে রয়েছে এসব বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্রধারী রোহিঙ্গাদের বসবাস। তাদের পরিচয় দিয়ে অন্যান্য রোহিঙ্গাদের হাতে চলে যাচ্ছে বাংলাদেশি জন্ম সনদ থেকে শুরু করে জাতীয় পরিচয়পত্র।
তবে রোহিঙ্গারা বিভিন্ন কৌশলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে যাচ্ছে।তারা দখলে নিচ্ছে স্থানীয় শ্রমবাজার। রোহিঙ্গারা কম মজুরিতে কাজে নিয়োজিত হয়।
ফলে স্থানীয় শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিয়ে কাজ করতে পারতেছেনা। কারণ রোহিঙ্গা শ্রমিকরা স্বল্প মজুরিতে কাজ করায় প্রায়ই সবখানে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা লক্ষ করা যায়।
তারা প্রতিনিয়ত উখিয়ার বিভিন্ন স্টেশনে সকালে এসে একত্রিত হয়ে বিভিন্ন এলাকায় কাজের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে।
তবে স্থানীয়দের মনে শঙ্কা থেকে গেছে, রোহিঙ্গারা ইয়াবা ব্যবসা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়েছে।
উখিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক ও জাতীয় দৈনিক আমাদের কন্ঠের উখিয়া প্রতিনিধি আরাফাত হোসেন চৌধুরী জানান, এটা খুবই দুঃখ জনক। স্থানীয়দের জন্য অশনি সংকেত। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সরকার দ্রুত ব্যবস্হা না নিলে তা পরবর্তীতে ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হবে বলে জানান তিনি।
উখিয়া উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি কামাল উদ্দিন সোহাগ জানান,প্রতিনিয়ত বিভিন্ন স্থানে দেখা মিলে রোহিঙ্গাদের। তাদের অনিয়ন্ত্রিত আসা যাওয়াতে আমরা স্থানীয় বাসিন্দারা শঙ্কিত।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য, আশ্রিত রোহিঙ্গাদের অনুপাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কম। রোহিঙ্গাদের ভাষা, চালচলন, পোশাক-পরিচ্ছদ, আচার-আচরণ স্থানীয়দের সঙ্গে অনেক মিল। যার কারণে রোহিঙ্গারা আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে লিপ্ত হচ্ছে।
উখিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী জানান,রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প ছেড়ে পালানোর বিষয়টি খবর পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের জন্মসনদ ও বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার পেছনে অসাধু কিছু জনপ্রতিনিধির হাত রয়েছে বলে জানান তিনি।
উখিয়া থানার ডিউটি অফিসার এসআই জালাল হোসেন বলেন,থানায় নতুন যোগদান করার ফলে তারা এ বিষয়ে কিছু জানেনা বলে জানিয়েছেন।
তবে বর্তমানে রোহিঙ্গারা দিন দিন নানা কৌশলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এসব রোহিঙ্গাদের বিশাল একটি সিন্ডিকেট বর্তমানে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড থেকে শুরু করে ইয়াবা পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। গত ২৮শে সেপ্টেম্বর কুতুপালং স্টেশনে প্রকাশ্যে অস্ত্র মহড়া দিয়ে স্থানীয়দের নানাভাবে হুমকি দেয় রোহিঙ্গারা।
উখিয়ার সোনারপাড়া এলাকার এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •