ডিবিডি : সমাজে এমন কিছু ব্যাক্তি আছে, যারা নি:স্বার্থ ভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যায়। কিছু মানুষ আছে দল মতের উর্ধ্বে উঠে নিজের ব্যক্তিগত গুণাবলী দিয়ে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেয়। আর কিছু মানুষ আছে যারা নিজের সম্পদ উজাড় করে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে যায়। নিজের জীবনের মায়া তুচ্ছ করে সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়ে। তবে বর্তমান সময়ে এই ধরনের মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তবে এমনই সকল গুণের একজন অসাধারণ রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক চৌধুরী। কক্সবাজারের অন্যতম জনপ্রিয় ও নিরঅহংকার এই মানুষটির জনপ্রিয়তায় এখনো একটুও ভাটা পড়েনি। তার কিছু অনন্য সাহসী কাজের কারণে এখনো জনপ্রিয় এই সাদা মনের মানু্ষটি।

৩০ সেপ্টেম্বর আসলেই অকুতোভয় এই অসাম্প্রদায়িক যোদ্ধার প্রতি সাধারণ মানুষের সম্মান আরো হাজারো গুন বেড়ে যায়। ২০১২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জীবন বাজি রেখে কয়েক হাজার উশৃঙ্খল মানুষের সাথে মাহামুদুল হক চৌধুরী একা লড়াই করে রক্ষা করেছিলেন উখিয়ার কোটবাজারের “পশ্চিমরত্না সুদর্শন বৌদ্ধ বিহার”।

২০১২ সালে ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে রামুর হামলার পরের দিন পুরো দেশে বৌদ্ধ মন্দির ও পল্লী জুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা হতে থাকে। সেই দিন বৌদ্ধ সম্প্রদায় ও মন্দির রক্ষার জন্য কোথাও কোন প্রতিরোধ গড়ে উঠেনি। দেশের একমাত্র কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার উখিয়ার কোটবাজারের “পশ্চিমরত্না সুদর্শন বৌদ্ধ বিহার” রক্ষার জন্য প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছিলো। যার নেতৃত্বে ছিলেন উখিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা মাহমুদুল হক চৌধুরী।

২৯ সেপ্টেম্বর রামুর হামলার পরের দিন ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলের পর থেকে যখন উখিয়ার কোটবাজারের “পশ্চিমরত্না সুদর্শন বৌদ্ধ বিহার” এ কিছু উত্তেজিত মানুষ চতুরমুখী হামলা শুরু করে। ঠিক তখন নিজের কিছু অনুসারী নিয়ে প্রাচীন বৌদ্ধ মন্দির রক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়েন মাহামুদুল হক চৌধুরী। হামলার শুরুর পরও মন্দিরের গেইটে অবস্থান করা পুলিশ সদস্যরা নির্লিপ্ত থাকে। তখন নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কিছু সমর্থককে সাথে মন্দির রক্ষায় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন মাহমুদুল হক চৌধুরী। নিজের লাইসেন্সধারী বন্ধুক নিয়ে ৩ ঘন্টার প্রতিরোধ করে হামলাকারীদের পিছু হঠাতে বাধ্য করেন। মাহামুদুল হক চৌধুরীর সাহসিতকায় কোন ধরণের ক্ষতি ছাড়াই রক্ষা পায় উখিয়ার কোটবাজারের “পশ্চিমরত্না সুদর্শন বৌদ্ধ বিহার”। তবে উশৃঙ্খল মানু্ষের ছোড়া পাথরের আঘাতে রক্তাক্ত হয়েছিলেন মাহমুদুল হক চৌধুরী। তার এই অন্য অবদান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •