মোঃ জয়নাল আবেদীন টুক্কু :
কক্সবাজারের মহেশখালী এলাকা থেকে অপহৃত ৪ বছরের এক শিশুকে তিনদিন পর,রামুর কচ্ছপিয়া এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। একইসঙ্গে অপহরণকারীকেও আটক করেছে পুলিশ।

গর্জনিয়া পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া শিশু মহেশখালী উপজেলার সাপলা পুর কাইদাবাদ গ্রামের আবদুল করিমের ছেলে মোঃ সাইমুন (৪)। আর অপহরণকারী রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ফাক্রিকাটা মুরাপাড়া গ্রামের মৃত সুলতান আহাম্মদ ছেলে মোঃ রফিক।

সোমবার (২৮সেপ্টেম্বর) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গর্জনিয়া ফাঁড়ি পুলিশের নবাগত আইসি পুলিশ পরিদর্শক ফারহাদ হোসেনের নেতৃত্বে গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ি ও মহেশখালী থানা পুলিশের একটি টিম কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের মিয়াজীর পাড়া থেকে পুলিশ অপহৃত শিশু সাইমুন (৪) কে উদ্ধার করেন এবং একই সাথে অপহরণকারী রফিককে ও আটক করতে সক্ষম হন।

এ ব্যাপারে গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির নবাগত আইসি ফরহাদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, উদ্ধার হওয়া শিশুটিকে পিতার কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আটক অপহরণকারীকে মহেশখালী পুলিশের কাছে সোর্পদ করা হয়েছে। এসময় নবাগত এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন.পুলিশ জনগণের বন্ধু তাই এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে মানবিক পুলিশ হিসাবে কাজ করার কথা জানান প্রতিবেদকের কাছে।

এবিষয়ে মুঠোফোনেে জানতে চাইলে মহেশখালী থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হাই এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিকাল ৪ টায় শিশুটিকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ঐদিন শিশুর পিতা আবদুল করিম থানায় অভিযোগ করেন। এর পর শিশুর পিতার মোবাইল ফোনে এক ব্যক্তি কল দিয়ে জানায়, সাইমুনকে অপহরণ করা হয়েছে। তাকে জীবিত ফিরে পেতে হলে ৪ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। অপহরণকারীর দাবীর প্রেক্ষিতে ৭ হাজার টাকা অগ্রীম বিকাশ দেওয়া হয়।

এর পর অপহরণের ব্যাপারে মহেশখালী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন আবদুল করিম। তার অভিযোগ গ্রহণ করে পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারী যেই বিকাশ মোবাইল নম্বর থেকে টাকা উত্তোলন করেছে সেই নাম্বার ট্র্যাক করার মাধ্যমে অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে মহেশখালী থানা পুলিশ গর্জনিয়া ফাঁড়ি পুলিশ এবং কচ্ছপিয়ার বিকাশ দোকানের এজেন্ট নাজির হোসেনের মাধ্যমে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১১ টায় কচ্ছপিয়ার মিয়াজীর পাড়া এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে আটক করে অপহরণকারি রফিককে। এসময় ঐ বাসা থেকেই সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে অপহৃত শিশুটিকেও।

এ ঘটনায় শিশুটির পিতা বাদী হয়ে মহেশখালী থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করেন।

অন্যদিকে অপহরণকারী রফিকের পরিবার সূত্রে জানা গেছে সাইমুন এর পিতা আবদুল করিম তার স্ত্রীর আপন বড় ভাই হয়। তার কাছ থেকে টাকা পাবে এ টাকা আদায় করতে এই ঘটনা করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •