আমি তাদের কথা বলছি -(৪)

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০৭:১৭ , আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০৮:০৫

পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে



 খোরশেদ আলম


(কক্সবাজার শহরে যাদের অবদান আছে, যারা বেঁচে থাকলে বয়স নব্বই বছরের উর্ধ্বে হত এবং এই শহরের আদী বাসিন্দা যদি তাদের সন্তানদের অবদান থাকলে শুধু তাদের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস মাত্র)

আমি আমার পুর্ব পুরুষদের কথা বলছি  :

১। নে – খাই :  সে সময়ে রাখাইন প্রভাবশালী মহিলা । সমাজ সচেতন ও বিচক্ষণ এই মহিলা রাখাইন ও বাংগালী সমাজে নেতৃত্বস্থানীয় মহিলা ছিলেন । তিনি পাকিস্তান আমলে কক্সবাজার পৌরসভার মহিলা মেম্বার ছিলেন । সাহসী এই মহিলা কক্সবাজারবাসীর
হ্নদয়ে স্মৃতি হয়ে আছে ।
২। উ – মং বুড়ি : তিনি রাখাইন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিত্তশালী ব্যবসায়ী ছিলেন । একজন বড় ব্যবসায়ী হিসাবে তাকে এক নামে চিনত । চাল চলনে সেই সময় খুবই স্মার্ট ও সৌখিন ছিলেন । রাখাইন সমাজে তার বিশেষ অবদান অনস্বীকার্য ।
৩। সূ – জাউ সওদাগর : তিনি নে – খাইয়ের দাদা, বিশিষ্ট সম্পদশালী ও দানশীল ব্যক্তি ছিলেন। তিনি রাখাইন সম্প্রদায়ের জন্য বড় কেয়াং, জাদীমুরা, আরও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিস্টান প্রতিস্টা করেন। যতদূর জানাযায় গোলদীঘি উনি দান করেন ও এছাড়াও অনেক জনহিতকর কার্য করেন। উ- মে স্টোরের মালিক উ – মে’রও তিনি দাদা ।
৪। অসিমং পেশকার : রাখাইন সম্প্রদায়ের মধ্যে উচ্চ শিক্ষিত শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি । কর্মজীবনে একজন সরকারী কর্মকর্তা, কোর্টের একজন পেশকার ছিলেন । কোর্ট কাচারীতে লোকজনকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করতেন ।
৫ । হালা বাইন্যা : তিনি একজন স্বর্ণকার । তবে হালা বাইন্যা নামে সমাধিক পরিচিত ছিল । ইতিহাসের অংশ হওয়ার অন্যতম কারণ তিনি নিজ পরিবারের সবাইকে সেই আমলে শিক্ষিত করেন ।  কক্সবাজার সিটি কলেজের অধ্যক্ষ ক্যথিং অং এর চাচা ও সাবেক মহিলা এমপি এথিন রাখাইনের চাচা শ্বশুর । সে  সাহিত্য কর্মের জন্য একুশে পদক লাভ করে । গত বছর সে দুরারোগ্য ব্যাধিতে মারা যায় ।
৬। সাংবাদিক শামসুল ইসলাম :  তিনি টেকপাড়ার স্হায়ী বাসিন্দা । তিনি ব্যক্তিত্বসম্পন্ন একজন সজ্জন ব্যক্তি ছিলেন । তিনি বদিউল আলম মাস্টারের ছোট ভাই । তিনি ইংরেজি পত্রিকার সাংবাদিক ছিলেন । ইংরেজিতে লেখাপড়া জানা খুবই একজন দক্ষ ব্যক্তিত্ব । তিনি প্রথম কক্সবাজারে সাপ্তাহিক ” কক্সবাজার বার্তা নামে পত্রিকা প্রকাশ করেন । তখন ইহা বহুল পঠিত পত্রিকা ছিল । উনার হাতেখড়ি অনেক লোকজন আজ সাংবাদিক পেশায় প্রতিস্টিত ।
৭। মোহাম্মদ আলম (আলম মিয়া) : তিনি পশ্চিমে টেকপাড়া’র স্হায়ী বাসিন্দা । আলম মিয়া ছিলেন পাকিস্তান আমলের শিক্ষামন্ত্রী মৌলভী
ফরিদ আহমদের মামাত ভাই । ব্যক্তিগত জীবনে তিনি নিবৃত্তচারী একজন ভাল মানুষ ছিলেন । তখন অবহেলিত পশ্চিম টেকপাড়া’র বেকার ছেলেদের
নিজ অর্থ বিনিয়োগ দিয়ে ব্যবসায়ী হিসাবে অনেককে প্রতিস্টিত করেন ।
তাহার বড় সন্তান বিশিষ্ট নোটারী পাবলিকের আইনজীবী জনাব সরওয়ার কামাল যিনি কক্সবাজার ডায়াবেটিস হাসপাতাল প্রতিস্টার প্রধান উদ্যোগতা এবং ঐ হাসপাতালে সরওয়ার কামালের নামে সম্মানসুচক বিশ্রামাগার আছে । তাহার ছোট ছেলে আমেরিকা প্রবাসী তৎকালীন স্বনামধন্য ফুটবলার আহমদ কামাল ।
৮। ইব্রাহিম সওদাগর :  তিনি টেকপাড়া’র অধিবাসী । তিনি আঠারো শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে কক্সবাজার শহরের সবচেয়ে সম্পদশালী ব্যক্তি ছিলেন । সমগ্র বইল্যাপাড়া, বড় কবরস্থান এলাকাসহ তারাবানিয়ারছড়া ইত্যাদি অনেক এলাকার জমির মালিক ছিলেন। সেই সময় তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যার বাড়িতে লাখের বাতি জ্বালানো হত। অর্থাৎ বৃটিশ সরকার যে লাখ টাকার মালিক হত তাকে সম্মানসুচক এই বাতি জ্বালানোর সুযোগ দিয়ে সম্মানিত করত ।
৯। নজির আহমদ ফরেস্টর : তিনি টেকপাড়া’র অধিবাসী একজন শিক্ষিত মানুষ ছিলেন। উনিশ শতাব্দীর প্রথম দিকে তিনি ব্রিটিশ সরকারের ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টে ফরেস্টর হিসাবে চাকুরী জীবন শুরু করেন তিনি ছিলেন ইব্রাহিম সওদাগরের নাতী ও খালেকুজ্জামান বাহারের আপব নানা ।
১০। বখতিয়ার আহমদ চৌধুরী :  তিনি বখতার চৌধুরী নামে পরিচিত এবং রুমালিয়ারছড়া চৌধুরী ভবনের মালিক । স্বাধীনতা পরবতী কক্সবাজারের বড় ২টি ভবনের একটি । অপরটি সিকদার মহল। তিনি উখিয়া রুমখা চৌধুরীপাড়ার চৌধুরী বংশের অন্যতম জমিদার।  কর্মজীবনে তিনি প্রথম শ্রেণীর
একজন ঠিকাদার ছিলেন । সেই পাকিস্তান আমলে তিনি সার্কিট হাউস রোড ও লিংকরোড হয়ে টেকনাফ সড়কের কাজ করেন । তিনি ব্যবসায়ী বানানোর কারিগর ছিলেন, তাহার হাতে অনেকে ব্যবসার দীক্ষা নিয়ে ব্যবসায়ী হিসাবে প্রতিস্টা লাভ করেন । তিনি ‘ঠক দই’ খুবই পছন্দ করতেন যা সুস্থ জীবনের পাথেয় এবং এখনকার প্রজন্ম তা থেকে শিক্ষা নিতে পারে। আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রাক্তন উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক চৌধুরীর পিতা ও কক্সবাজার নিউজ অনলাইন পত্রিকার মালিক-সম্পাদক অধ্যাপক আকতার চৌধুরীর দাদা ।

কোন কিছু ভুল হলে, ফেলে গেলে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য বিনয়ের সহিত অনুরোধ করছি ।
এবারের লেখায় অনেক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য আমার বড় ভাই জনাব গোলাম হাছান বি,এ এবং আমার বন্ধু এডভোকেট নুরুল আলমের (মহেশখালী) প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •