কফিল উদ্দিন , রামু:

রামু উপজেলার সকল প্রান্তে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে সর্দি-কাশি-জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। উপজেলার বেশির ভাগ বাড়িতেই কেউ না কেউ জ্বর-কাশিতে আক্রান্ত।

এসব রোগীরা মনে করছেন, করোনা হোক আর সাধারণ জ্বর হোক, তা সাধারণ চিকিৎসাতেই ভালো হয়ে যাবে। তাই তাঁদের বেশির ভাগই রোগী বিভিন্ন ফার্মেসি থেকে উপসর্গের কথা বলে ওষুধ কিনে সেবন করছেন।

উপজেলায় বেশ কয়েক দিন ধরে দিনে প্রচ- গরম ও রাতে ঠান্ডা পড়ছে। তাপমাত্রার এ তারতম্যের কারণেই সর্দি-জ্বর বেড়ে গেছে। এসব আক্রান্ত রোগীরা স্থানীয় ফার্মেসি ওষুধ কিনে সেবন এভাবে ইতিমধ্যে অনেকে সুস্থ হয়েও উঠছেন।

পাশাপাশি কেউ কেউ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে গিয়েও চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে করোনা মহামারির এই সময়ে যে কারণেই সর্দি-কাশি-জ্বর দেখা দিক না কেন, অবহেলা না করে স্বাস্থ্য বিধি মেনে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

রামু চৌমহনীর ওষুধের দোকানের বিক্রেতাদের সঙ্গে এ প্রসঙ্গে কথা হয়। তাঁরা জানান, সর্দি-কাশি-জ্বরের ওষুধ বিক্রি ব্যাপক বেড়ে গেছে। যা অবস্থা, তাতে মনে হয় এখন ঘরে ঘরে জ্বর। এ ধরনের বেশির ভাগ রোগী বা রোগীর স্বজন চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে তাঁদের কাছে এসে উপসর্গের কথা বলে ওষুধ নিয়ে যাচ্ছেন।

শনিবার রামুর কাউয়ারখোপ এলাকার একটি ফ্ল্যাটে কাজ করছিলেন এক মিস্ত্রি রাজমিস্ত্রী (৪২)। তিনি জানান, তিন দিন আগে তাঁর জ্বর আসে। এতে বাজারের একটি ফার্মেসিতে গিয়ে উপসর্গের কথা বলে অ্যান্টিবায়োটিক, প্যারাসিটামলসহ আরও কয়েকটি ওষুধ কিনে খেয়েছেন। এখন আর জ্বর নেই। তবে শরীর খুব দুর্বল।

এদিকে জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর বেশির ভাগ রোগীই মারাত্মক দুর্বল হয়ে পড়ছেন। দুর্বল শরীরে জ্বর নিয়েও অনেকে হাটবাজারসহ জনসমাগমের এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বিষয়টিকে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন চিকিৎসকেরা।

এবিষয়ে জানতে চাইলে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ডাক্তার নোভেল কুমার বড়ুয়া বলেন, উপজেলায় সর্দি-কাশি-জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ব্যাপক বেড়েছে। আমাদের বহির্বিভাগে এখন প্রতিদিন গড়ে ২ শতাধিক রোগী আসছেন। এসব রোগীর মধ্যে প্রায় এক তৃতীয়াংশ সর্দি-কাশি-জ্বরে আক্রান্ত। ওষুধে ভালো হয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। আতংকিত হওয়ার কোনো কারন নেই। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাটা অতীব জরুরি।

এছাড়া আমরা লক্ষ করছি, অনেক রোগীরই উচ্চ তাপমাত্রা, অর্থাৎ ১০২ থেকে ১০৩ ডিগ্রি জ্বর উঠে যাচ্ছে। কিন্তু সাধারণ ওষুধে তিন থেকে চার দিনে তাঁরা সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে তিনি জানান।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •