আবদুল মজিদ,চকরিয়া (কক্সবাজার) :

কক্সবাজারের চকরিয়ার পল্লী বিদ্যুতের এক ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রীকে কাজের মজুরী না দেয়ার জেরধরে ফাইতংয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় ঘটনাটি ঘটলেও ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ২টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। নিহতের নাম মো: হাবিবুল্লাহ (৩৮)। সে চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড পুলেরছড়া গ্রামের মৃত আবদুল আজিজের পুত্র। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন কাকারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত ওসমান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা ও নিহতের ভাতিজা মো: মানিক জানিয়েছেন, হাবিবুল্লাহ পল্লী বিদ্যুতের চকরিয়া জোনাল অফিসের আওতাধীন লামা উপজেলার ফাইতং ও চকরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ওয়ারিং মেস্ত্রী হিসেবে কাজ করেন। ঘটনারদিন সন্ধ্যায় ফাইতং ইউনিয়নের মগনামা পাড়া এলাকার আবু তাহেরের পুত্র আবুল কালামের বাড়িতে পল্লী বিদ্যুতের ওয়ারিং করতে যান। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে পারিশ্রমিক দাবী করলে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। এক পর্যায়ে হাবিবুল্লাহকে গাছের বাটাম দিয়ে মাথা লক্ষ্য করে আঘাত করলে গুরুতর জখম হয়। স্থানীয় লোকজন তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে জেলা সদর হাসপাতাল কক্সবাজারে প্রেরণ করেন। সেখান থেকে আশংখাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ২টার দিকে মারা যান। তার সংসারে ২স্ত্রী,৩ কন্যা ও ৩ ছেলেসহ ৬ সন্তান রয়েছে।

লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি দুপুরে সরে জমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনার বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেয়া হলে অবশ্যই মামলা হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হনে। তিনি ঘটনায় জড়িত আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান জোরদার রয়েছে বলে জানান।

পল্লী বিদ্যুতের চকরিয়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো: মোছাদ্দেকুর রহমান জানান, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। তবে, ঘটনাটি অনাকাংখিত। হাবিবুল্লাহ তাদের অফিসিয়ালী কোন স্টাফ নয়। বেসরকারীভাবে বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে ইলেক্ট্রিক ওয়ারিং মেস্ত্রী হিসেবে কাজ করতেন। এরপরও তার পরিবারকে সবধরণের আইনী কাজে সহযোগিতা করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •