খোরশেদ আলম


ইহা কক্সবাজার শহরে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিবর্গের যাদের বয়স নব্বই বৎসরের উর্ধ্বে এবং তাদের সন্তানরা যারা কক্সবাজার শহরে অবদান রেখে থাকে তাদের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

০১। ও- ছিং  : তিনি রাখাইন জনগোষ্ঠীর একজন বিশিষ্ট নেতা ও পাকিস্তান আমলে কক্সবাজার পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন । তিনি বার্মিজ প্রাইমারী স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও জমিদাতা এবং একজন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি। তিনি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ডাঃ মায়েনু’র ও এবি ব্যাংকের সাব ম্যাানেজার মাথেনুর পিতা ।
০২। এডভোকেট মওদুদ আহমেদ :  তিনি কক্সবাজার বারে’র একজন স্বনামধন্য ও দক্ষ আইনজীবী । জন্ম মহেশখালী’র মিয়াজিপাড়ায়। স্বাধীনতা সংগ্রামে ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে একজন সামনের কাতারের নেতা । মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে কক্সবাজার মহকুমা’র স্বাধীন বাংলা সংগ্রাম পরিষদের ট্রেজারার ছিলেন । পাকিস্তান শাসনামলে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে পাকিস্তানী পতাকা প্রথমে তিনি পুড়িয়ে দেন যেজন্য পতাকা পুড়ানো মামলার প্রথম আসামী ও মহেশখালীতেও রাস্ট্রদ্রোহ মামলার প্রথম আসামী ।
তিনি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও জাতীয় পার্টির একজন প্রভাবশালী নেতা জনাব মহিবুল্লাহ্’র পিতা।
০৩। উ – মে ও তার স্বামী মং ক্য চিন : যারা কক্সবাজারে পাকিস্তান আমল থেকে উ-মে স্টোরের জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন । উ-মে একজন মহিলা সেই ৬০ এর দশকে প্রথম বার্মিজ মার্কেটের গোড়াপত্তন করেন ও সফল প্রথম নারী উদ্যোক্তা ।
দেশ- বিদেশ থেকে যারা বেড়াতে আসত, তখনকার এই প্রত্যন্ত অঞ্চল টেকপাড়া’র উ-মে স্টোরে একবার আসতো । যার ধারা আজও অব্যাহত আছে।
০৪ । মুহাম্মদ সুলতান মাস্টার : তিনি টেকপাড়া’র বাসিন্দা ও কক্সবাজারের একজন স্বনামধন্য সামাজিক নেতৃত্বদানকারী, রাজনৈতিক নেতা এবং কক্সবাজার পৌরসভার দীর্ঘ সময় ভাইস চেয়ারম্যান পদ অলংকৃত করেন । তিনি উদারমনের একজন দানশীল ব্যক্তি এবং একমাত্র ব্যক্তি যখন কক্সবাজার আওয়ামী লীগ প্রতিস্টার সময় সবচেয়ে বেশী চাঁদা দিতেন । উনার হাতে প্রতিস্টিত হয় বইল্যাপাড়া ডি-ওয়ার্ড প্রাইমারী স্কুল, সংলগ্ন মসজিদ ও কবরস্থান – এসবের জমিও তিনি দান করেন । বড় কবরস্থান প্রতিস্টারও তিনি অন্যতম উদ্যোক্তা ।
তাহার সন্তানগণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য, গোলাম হাছান বি.এ, অধ্যাপক আহসানুল করিম, স্বনামধন্য কবি মীর্জা মনোয়ার হাসান ও
মনজুরুল হাসান ।
০৫ । আবুল কাশেম মিয়া মাস্টার : তিনি খুরস্কুল ইউনিয়নের তেতৈয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তবে টেকপাড়া’র স্হায়ী বাসিন্দা।
তিনি একজন শিক্ষক হিসাবে জীবন আরম্ভ করলেও তার দূরদৃষ্টি এবং বুদ্ধিমত্তা তাকে রাজনীতির প্রথম সারির নেতার আসনে, ইসলামী ব্যাংকের উদ্যোক্তার পরিচালকের আসনে ও সর্বোপরি শ্রেস্ট ও সফল শিল্প উদ্যোক্তা হিসাবে সমাসীন করে। বিপুল একরের জমি নিয়ে আল্লাহওয়ালা হ্যাঁচারী প্রতিস্টার মাধ্যমে কৃষি বিপ্লবের সূচনা করেন । তিনি নতুন প্রজন্মের কাছে বিশেষ করে ব্যবসা- বানিজ্য, শিল্প কারখানা প্রতিস্টার জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে অন্যতম উদাহরণ । বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ত জাহাঙ্গীর কাশেমের পিতা ।
০৬ । উজির আলী মুন্সি : কথিত আছে, ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স যখন কক্সবাজারে আসেন তখন বাজারের লোকজন পালিয়ে যায় একমাত্র ফার্সি, ইংরেজী ও উর্দু ভাষায় পন্ডিত ছিলেন বিধায় সাহস করে সামনে গিয়ে কথা বলেন । তিনি কাচারি পাহাড় মসজিদ, পুকুর ও দুর-দুরান্ত থেকে আসা লোকদের সুবিধার্থে মুসাফিরখানা প্রতিস্টা করেন ও সমস্ত জমিও দান করেন । টেকপাড়া’য় তার নামে একটি এলাকা আছে যা মুন্সি’র পাড়া নামে খ্যাত। কক্সবাজার বার এসোসিয়েশনের সিনিয়র আইনজীবি টেকপাড়া’র এডভোকেট হারুন উর রশীদ, আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক আবদুল খালেক তার বংশধর ।
০৭। গোলাম মহীউদ্দীন চৌধুরী : তিনি কক্সবাজার আওয়ামী লীগের প্রতিস্টাতা সাধারণ সম্পাদক যাকে আওয়ামী লীগের প্রতিস্টাতা হিসাবে স্মরণ করা হয়। মহীউদ্দীন মিয়া নামে তিনি সমধিক পরিচিত। জন্ম চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নে তবে তাদের আদী নিবাস ঈদগাহ । খালেকুজ্জামান বাহারের পিতা মুস্তাহিদুজ্জামান তাহার আপন মামা । তিনি আমার পিতা । দলের কাজে যখন শেখ মুজিবুর রহমান কক্সবাজার আসতেন তখন তিনি আমাদের বাসায় আতিথ্য গ্রহন করতেন এবং এমনকি মৌলানা ভাষানীও আমার মা’য়ের রান্না খেয়ে খুশী হন। ১৯৬১- ৬২ সনের দিকে হঠাৎ করে লোকচক্ষুর অন্তরালে গিয়ে আল্লাহ’র ধ্যানে মগ্ন থাকেন ও ১২ বছর পর লোকালয়ে আসেন তখন একজন ধ্যানমগ্ন দরবেশ।
দীর্ঘ ১৪ বছর পর শেখ মুজিবুর রহমান যখন প্রধানমন্ত্রী আমার পিতাকে ভুলেননি খুঁজে নিয়ে যান বংগভবনে সেই থেকে ১৯৯৭ সালে মৃত্যু অবধি বংগবন্ধু কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র সাথেও যোগাযোগ ছিল ।
আমি এমনই ভাগ্যবান বংগবন্ধু পর পর দুবার – একবার কোর্টবাজারের আওয়ামী লীগ নেতা পেঠান সওদাগরের (মরহুম) মাধ্যমে ৫,০০০ টাকা ও ঢাকায় আমন্ত্রণে বেড়াতে গেলে ৫,০০০ টাকা আমাকে খরচ করার জন্য দেন। বিস্তারিত পরে আরেকবার লিখব ।

৮। মালিচান্দ সওদাগর : তিনি ১৭০০ শতাব্দীর শেষের দিকে তৎকালীন বার্মার আকিয়াব শহর থেকে এসে টেকপাড়া’য় বসতি স্হাপন করেন। কক্সবাজার শহরের প্রথম মুসলিম বসতি স্হাপনকারী ব্যক্তি।
এর আগে রাখাইনদের বসতি যা আজও হাঙরপাড়ায় বিদ্যমান । তিনি বড় ব্যবসায়ী ছিলেন বিভিন্ন বন্দরে পণ্যবাহী জাহাজে (জালিবোট বলা হত) নিয়ে ব্যবসা করতেন। তাহার দুই সন্তান
১. হাছান আলী  : ১৮০০ শতাব্দীতে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্রিটিশ সিভিল সার্ভিসে অংশগ্রহন না করে বাবার ব্যবসা দেখাশুনা করেন ।
২. ছোট ভাই পেঠান আলী তখন মেট্রিক পাশ করে নারকোটিক্স (মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ) এর দারোগা হিসাবে সরকারী চাকুরী করেন । তাহার ছেলে আবুল হাশেম যার নামে হাশেমিয়া মাদ্রাসা প্রতিস্টা করেন তার ছেলে কালামিয়া কন্ট্রাক্টর।
০৯ । ফজল করিম কন্ট্রাক্টর : তিনি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও দানশীল ব্যক্তি । ব্রিটিশ পিরিয়ডে প্রতিস্টিত R & H ( Roads & Highway) এর Ist Class Contractor দের মাঝে সিরিয়ালে এক নম্বর কন্ট্রাক্টর ছিলেন। কক্সবাজার শহরে প্রথম যে সমাজ কমিটি গঠিত হয় তার প্রথম সমাজপতির পদ অলংকৃত করেন। বাবা হাছান আলী ও নিজে মিলে টেকপাড়া মসজিদ , কবরস্থান, জানারঘোনা মসজিদ (বাস টার্মিনাল), প্রতিস্টা করেন । তিনি বড়বাজারে চাউলবাজার প্রতিস্টা করেন । তাহার একমাত্র ছেলে মুবিনুল হক কন্ট্রাক্টর (মরহুম)। তিনি আমার নানা ।
০৯ । ডাঃ কবির আহমদ : তিনি টেকপাড়ার একজন কৃতি সন্তান ও বিশিষ্ট হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার । তিনি অনেকক্ষেত্রে গরীব রোগীদের বিনা পয়সায় চিকিৎসা সেবা দিতেন। ডাঃ কবির আহমদ একজন প্রতিস্টিত কবি ও লেখক যা তাকে ইতিহাসের অংশ করেছে । তিনি হোমিওপ্যাথির উপর বই লিখেছেন এবং অনেক মান সম্পন্ন কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে ।
১০। সাইয়েদুর রহমান মুন্সি : তৎকালীন সময়ে শিক্ষানুরাগী, বিদ্যুৎসাহী ও দানশীল ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম ব্যক্তিত্ব । তিনি টেকপাড়া প্রাইমারী ও তারাবানিয়ারছড়া মসজিদ প্রতিস্টাতা , উক্ত স্কুলের সমস্ত জমিও দান করেন সাথে কবরস্থানের জায়গাও । গোলদীঘিরপাড়স্হ বড় কবরস্থানের জায়গারও দাতা । তাহার সন্তানগণ সুশিক্ষিত ছিলেন এবং সবাই সরকারী চাকুরী করতেন। এক সময়ের পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান, ফিসিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক টেকপাড়া’র আবদুল খালেক উনার দৌহিত্র ।
১১। আলী আহমদ : তিনি একজন কন্ট্রাক্টর ছিলেন মুলতঃ Pipe boring এর কন্ট্রাক্টরী করতেন । তবে আমার দৃষ্টিতে ইতিহাসের অংশ হওয়ার একমাত্র কারণ ” তিনি ছিলেন গরীবের শেষ আশ্রয় “। প্রভাবশালী ব্যক্তিগণ যখন গরীবের উপর নির্যাতন করত ও জমিজমা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চালাত ঠিক তখনই গরীবের শেষ আশ্রয় হিসাবে ছিল আলী আহমদ কন্ট্রাক্টর, ক্ষমতাশীন ব্যক্তি কিংবা ক্ষমতার বাইরের ব্যক্তি যে হউক জীবন দিয়ে রুখে দাঁড়িয়েছেন। শাহ আলম শানু কন্ট্রাক্টর তার সুযোগ্য সন্তান ।
১২। আবদুল করিম : তিনি টেকপাড়া’র স্থায়ী বাসিন্দা ও চেয়ারম্যান নুরুল আবছারের পিতা । তিনিই টেকপাড়া’র প্রথম ব্যক্তি যিনি সোনালী ব্যাংকে চাকুরী শুরু করেন । তিনি একজন নুরুল আবছারের মত সু- সন্তানের জনক। তার সন্তান চারবারের নির্বাচিত কক্সবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান যেখানে জেলখানায় অবস্থান করেও জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয় । নুরুল আবছার কত মহৎ মানুষ তা একমাত্র পৌরবাসী’র গরীব – দুঃখী মানুষ ভাল করেই জানে ।
১২। বদিউল আলম মাস্টার : তিনি প্রথমে বৃটিশ সামরিক বাহিনীতে ছিলেন । চাকুরী ছেড়ে নিজ এলাকা টেকপাড়া’য় এসে সামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়েন । পাকিস্তান আমলে কয়েকবার কক্সবাজার পৌরসভার মেম্বার ছিলেন । তিনি ছিলেন সমাদৃত একজন ক্রীড়াবিদ। কক্সবাজার স্টেডিয়াম অনেক দিক দিয়ে তার কাছে ঋণী । কক্সবাজারে তিনি স্কাউটের প্রবক্তা ।

১৩। কালা মিয়া কন্ট্রাক্টর : তিনি একজন প্রতিস্টিত ব্যবসায়ী ও কন্ট্রাক্টর । তিনি হাশেমিয়া মাদ্রাসা প্রতিস্টা করে ককসবাজারের ইতিহাস তথা বাংলাদেশের ইতিহাস ও আলেম সমাজের মাঝে অমর হয়ে আছেন । মুক্তিযুদ্বের সময় হিন্দু বন্ধু ব্যবসায়ীদের দুর দুরান্তে উপস্থিত হয়ে তাদেরকে বিপদে টাকা সাহায্য দিয়েছেন যা সেই হিন্দু পরিবারের সদস্যরা আমাকে এ তথ্য দিয়েছেন। তিনি টেকপাড়া’র আনোয়ারুল হাদী ও শফিকুল হাদী’র পিতা ও আমার বড় মামা ।
১৪। মোক্তার আহমদ : তিনি ঈদগাহ এলাকার অধিবাসী, টেকপাড়া তারাবানিয়ারছড়া’য় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। তিনি জীবদ্দশায় ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টে সততার সহিত চাকুরী জীবন শেষ করেন । তার এক ছেলে আমিরউদ্দীন সততা ও নিষ্ঠার সাথে শিক্ষকতা জীবন সমাপ্ত করেন ।
তার আর এক ছেলে জনাব হেলালউদৃদীন আহমেদ, বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্হানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব । কক্সবাজারের বিপুল উন্নয়নের পেছনে তার অবদান অনস্বীকার্য । সুসন্তানের জনক হিসাবে ও সৎ কর্মনিষ্ঠার কারণে টেকপাড়াবাসী জনাব মোক্তার আহমদের নামে একটি রাস্তার নামকরণ করেন ।
১৫। সাংবাদিক নুরুল ইসলাম : তিনি জন্মগ্রহণ করেন চকরিয়ার মগনামা ইউনিয়নে কিন্তু রুমালিয়ারছড়ায় স্হায়ীভাবে বসবাস করেন । তিনি মগনামা ইউনিয়নের তিনবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও কক্সবাজার মহকুমা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন । সাংবাদিকতায় তাহার অবদান অনস্বীকার্য । তিনি প্রেস ক্লাবের প্রথম নির্বাচিত সভাপতি । প্রথমে সাপ্তাহিক কক্সবাজার, এরপর সাপ্তাহিক স্বদেশবানী ও দৈনিক কক্সবাজার পত্রিকার প্রতিস্টাতা । বর্তমানে দৈনিক কক্সবাজার বহুল পঠিত পত্রিকা ।
তাহার তিন সন্তানের মধ্যে মুজিবুল ইসলাম, নজিবুল ইসলাম ও সজিবুল ইসলাম সবাই পত্রিকা ও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত ।
১৬। মৌলানা মোজাহের আহমদ :  বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলেমগণের শিরোমণি মৌলানা মোজাহের আহমদ চকরিয়া’র শাহারবিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে কক্সবাজার তারাবানিয়ারছড়ায় স্হায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তাহার হাতে হাজার হাজার আলেম সরাসরি শিক্ষা গ্রহণ করে। ১৯৩৭ সালে কলিকাতা’র আলেয়া মাদ্রাসা থেকে টাইটেল (কামিল) পরীক্ষায় ১ম শ্রেণিতে ১ম স্হান অধিকার করেন যা ছিল তখনকার সময়েব ১২ বছরের রেকর্ড, যে জন্য ব্রিটিশ সরকার ‘ভাইসরয় ‘ উপাধিতে ভূষিত করেন ।
হাশেমিয়া মাদ্রাসায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তার অক্লান্ত পরিশ্রমে আলীম,ফাজিল পর্যন্ত উত্তীর্ণহয় । উক্ত মাদ্রাসা’য় তিনি রেক্টর পদ অলংকৃত করেন। ইসলামী দার্শনিক হিসাবে বিভিন্ন দেশের আমন্ত্রণে ইরান, ইরাক, সৌদি আরব, কুয়েত, জর্ডান ইত্যাদি দেশে ভ্রমণ করেন ও ইরান- ইরাকের পার্লামেন্টে বক্তৃতা দেন যা সেখানে প্রশংসিত হন, প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন বিমোহিত হয়ে যান ।
ইরান ইরাক দীর্ঘস্হায়ী যুদ্ধবন্ধে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে তিনি একজন। তিনি সৌদি সরকারের রাজকীয় অতিথি হয়ে কয়েকবার হজ্ব পালন করেন ।
তিনি একাধারে মুহাদ্দিস, মুফাসসীর ও মুফতি ছিলেন । তিনি বাংলা, আরবী, উর্দু, ফার্সী ও ইংরেজিতে সমান দক্ষ ছিলেন । হাদীস, তাফসীর ও ফিকাহ শাস্ত্রে বহুু গ্রন্থ রচনা করেন । তাঁহার বড় ছেলে আবু ইউসুফ সোনালী ব্যাংকে উচ্চ পদে আসীন থেকে অবসর গ্রহণ করে বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন ।
উপরোক্ত লেখাসমুহে কোন ভুল ভ্রান্তি হয়ে গেলে, কারো নাম ফেলে গেলে বিনয়ের সাথে বলছি লিখে জানাবেন – আমি কারেকশন করে দিতে পারব ও আরো লিখতে উৎসাহিত হ’ব।
গত দুই লেখায় কিছু ভুল ছিল যা আমার বন্ধু বিশিষ্ট ব্যাংকার জয়নাল শুদ্ধ করতে সহায়তা করে যেজন্য আমি তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, আমার ভাই ও বন্ধু মন্জুরুল হাসানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি কারণ উক্ত লেখায় সে অনেক তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছে ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •