cbn  

খোরশেদ আলম


প্রথমতঃ মনে রাখতে হবে আমি ইতিহাস লিখছি না কারণ ফেইসবুকে ইতিহাস লেখা সম্ভব নয় । ইতিহাস প্রজন্ম লিখবে, আমার লেখা তাদেরকে সংক্ষিপ্ত ইশারা দেওয়া।

১। যারা বরেণ্য, ২। কক্সবাজার মহকুমা শহর বিনির্মানে অবদান রেখেছে এবং ৩। যারা বেঁচে নেই, বেঁচে থাকলে আজ নব্বই কিংবা
শতোর্ধ বয়স হ’ত । ৪। কিছু ক্ষেত্রে যাদের বসবাস ছিল এই শহরে এবং তাদের সন্তানরা বিশেষ ক্ষেত্রে এই শহরে ও শহরের জন্য অবদান রাখলে তাদের নামও স্বরণ করা হবে ।
প্রধান সড়কের উত্তর পার্শ্বের লোকদের নিয়ে আগে আরম্ভ করেছি ।
১। এডভোকেট আবদুল জলিল : কক্সবাজার মহকুমা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন । নির্লোভ ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি হিসেবে তিনি সন্তানদের উপযুক্ত করে শিক্ষিত করেন । প্রফেসর হাবিবউল্লাহ একজন প্রতিভাবান সন্তান।
২। এডভোকেট ফজলুল করিম :  একজন জ্ঞানী, বিদ্বান ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি । আইন পেশায় সুনামের সহিত প্রতিস্টিত । আইন বইয়ের রচয়িতা ও লেখক এডভোকেট জাহাংগীর আলম তাহার সু-সন্তান ।
৩। এডভোকেট এখলাসুল কবির : যিনি এখলাস উকিল নামে প্রসিদ্ধ। তাঁর চার কন্যা উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনকারী এবং একমাত্র সন্তান পিএইচডি ডিগ্রিধারী – বর্তমানে পোল্যান্ডে স্হায়ী বাসিন্দা । নারী শিক্ষায় তাঁর আগ্রহের জন্য মানুষ আজও তাকে স্মরণ করে ।
৪ । ফয়েজ আহমদ : ফজল কোম্পানি নামে খ্যাত। ফজল ইন্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ, ফজল মার্কেট ও ফয়েজ ফিলিং স্টেশনের মালিক । কক্সবাজারে ইন্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের প্রচলন করে বহু মানুষের কর্মসংস্থান করেন ।
৫ । জি. পি. ধর  : ( গঙ্গা প্রসাদ ধর) স্বর্ণ ব্যবসায় এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী নাম । তাদের সেই পরিবার প্রায় সবাই এই ব্যবসার দ্বার উন্মোচন করে ফলে কক্সবাজারের আনাচে-কানাচে তাদের সুনাম ছড়িয়ে আছে ।
৬ । এডভোকেট মুমতাজুল হক :  সন্তানদের সবাইকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করিয়ে সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য জেলাবাসীর কাছে একজন লিজেন্ড হিসাবে পরিচিতি লাভ করে ।
তিনি দীর্ঘদিন কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, ককসবাজার কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতিরও দায়িত্ব পালন করেন এবং তিনি দায়িত্বে থাকাকালীন তাহার অক্লান্ত প্রচেষ্টায় কক্সবাজার উচ্চ বিদ্যালয় সরকারীকরণ হয় ।
৭ । সৈয়দ আমির আহমদ :  কক্সবাজারের প্রথম Fruit ব্যবসায়ী ও বিদেশ থেকে fruit আমদানীকারক ছিলেন। কক্সবাজারবাসী – বাজারের ভিতর – কমলা সদরের দোকানের মালিক হিসাবে এক নামে পরিচিত । শুধু ব্যবসায়ী ছিলেন না, রাজনীতিতেও সক্রিয়
ছিলেন । পাকিস্তান আমলে কক্সবাজার মহকুমা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন । বঙ্গবন্ধু ৬ দফা দিয়ে যখন কক্সবাজার আসেন তখন বংগবন্ধু প্রায় খাওয়া দাওয়া উনার বাসায় করতেন । স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু যখন প্রধানমন্ত্রী এবং শুনেন সৈয়দ আমির আহমদ অসুস্থ তখন কক্সবাজারের বাজারঘাটাস্ত বাসায় বঙ্গবন্ধু তাকে দেখতে যান। কেউ কি আজ মনে রেখেছে সেই ইতিহাস ? কক্সবাজার বারের আইনজীবী সৈয়দ রাশেদ উদ্দীন উনার একমাত্র ছেলে সন্তানের বড় ছেলে ও তাহার নাতী।
৮ ।  ভোলানাথ দাশ । একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী । তিনি উচ্চ শিক্ষিত তৎকালীন Graduate, তিনি স্মার্ট ব্যক্তিত্বের অধিকারী ও সূ-দর্শন ছিলেন ।কক্সবাজার শহরে পেট্রোল পাম্প চালু করে ব্যবসায় নতুন দিগন্ত রচনা করেন । এখনও লোকমুখে ভোলাবাবুর পেট্রোল পাম্প নামে সমধিক প্রসিদ্ধ । তাহার ছেলে মেয়েরা সবাই উচ্চ শিক্ষিত ও সূ- শিক্ষিত ।
বড়বাজার জামে মসজিদের সামনে এক্সটেনশন জায়গা ছিল ভোলা বাবু’র তা তখনকার মসজিদ কমিটি
চাওয়া মাত্র মানুষ হিসাবে তিনি মসজিদকে দান করেন পরবর্তীতে অন্য কমিটি হিন্দু’র দান মনে করে নামমাত্র পনের হাজার টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রি করে নেন যা আজও খতিয়ানে তাদের নামেই আছে ।
৯ । এডভোকেট মোস্তাহিদুজ্জামান : উচ্চ শিক্ষিত একজন দক্ষ আইনজীবী । লেখা পড়ায় উনার সামনে দাঁড়ানোর মত লোক খুবই কম ছিল । তাহার একমাত্র ছেলে সন্তান খালেকুজ্জামান বাহার এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে সম্মিলিত মেধা তালিকায় উনিশতম স্হান অধিকার করে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন ও লিবিয়া’র এক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। বিশেষ করে যেখানে ইংরেজিতে পশ্চাৎপদ সেই জায়গায় কাজ করে এলাকার ছেলেদের মাঝে জ্ঞান বিতরণ করে যথেষ্ট সুখ্যাতি অর্জন করেন ও অবদান রাখেন ।
১০ ।  আজিম ডাক্তার : তিনি টেকপাড়া’র হাঙরপাড়া নিবাসী । তাহার অনেক ছেলে মেয়ে আজ উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত আছেন । চিকিৎসাকে সেবা হিসাবে ব্রত হয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিকিৎসা দিতেন । বাজারঘাটা আজিম মার্কেট তাহার নামে ছেলেরা নামকরণ করেছেন ।
১১। ডাঃ আনোয়ার আহমেদ : আনোয়ার ডাক্তার নামে প্রসিদ্ধ । তিনি চট্টগ্রাম থেকে ডিগ্রি অর্জন করে সেখানেই চিকিৎসা শুরু করেন পরবর্তীতে কক্সবাজার বাজারঘাটা এলাকায় বসতি শুরু করে গরীব রোগীদের সেবা দেন। তাছাড়া বাড়ি বাড়ি গিয়েও মানুষদের চিকিৎসা সেবা দেন। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ নুরুল আলম তাহার সুযোগ্য পুত্র ।
১২ । শফি ডাক্তার : উনিও বাজারঘাটায় স্হায়ী বসতি করেন ও চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যান । রোগীদের সাথে অমায়িক ব্যবহারের জন্য তাহার সুনাম আছে ।
১৩ । বড়বাজারে ব্যবসা বানিজ্য সম্প্রসারনে যারা অবদান রেখেছে তন্মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য,
হাজী দানু মিয়া সওদাগর, এয়াকুব হাজী ও রওশন আলী সওদাগরের নাম উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও,
১৪ ।  আবদুর রহিম মাস্টার । তিনি বিশিষ্ট কাপড়ের ব্যবসায়ী ও শিক্ষিত ব্যাক্তি ছিলেন । তিনি কক্সবাজার পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন ।
১৫ । ইসহাক সওদাগর । তিনি বড় বাজারের স্বনামধন্য একজন বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী। তিনি কক্সবাজার পৌরসভার তিন তিনবার নির্বাচিত কমিশনার ।
১৬ । বাদশাহ মিয়া সওদাগর, পেশকারপাড়া । অতি সামাজিক ব্যক্তি । সমাজের, মানুষের যে কোন সুবিধা – অসুবিধা নিয়ে বাদশা মিয়া সব সময় সামনে থাকবেন । তার সাহসী জীবন থেকেও প্রজন্ম অনেক কিছু শিক্ষা নিতে পারবে ।
১৭ । আবু বকর ছিদ্দিক । আবুক্কর চেয়ারম্যান নামেই তিনি পরিচিত । তিনি ঝিলংজা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন । তার কঠোর ও
যথাযথ বিচার ব্যবস্থার জন্য তখন প্রসিদ্ধি লাভ করে । বাজারঘাটার বাসিন্দা হিসাবে এ বি সি সড়ক তার নামেই দেওয়া হয়েছে । তিনি আবু হায়দার ওসমানীর পিতা ও আইনজীবী ও সাংবাদিক আবু ছিদ্দিক ওসমানীর দাদা ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •