মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কক্সবাজার শহরে সম্প্রতি সংঘটিত সকল অপ্রীতিকর ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন, অপরাধী ও অপরাধপ্রবণ এলাকাসমুহ চিহ্নিতকরণ এবং অপরাধপ্রবণ এলাকায় কোন সময় কোন টহলদল কাজ করে তা জানানোর জন্য কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জাস্টিস অব পিচ রেজাউল করিম চৌধুরী এ ব্যতিক্রমী আদেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের জাস্টিস অব পিচ এর কার্যালয় হতে ০১/২০২০ নম্বর এ আদেশটি জারী করা হয়। আদেশে সব বিষয়ে আগামী ১২ অক্টোবর সোমবারের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক কক্সবাজার ৭১ এ “ছিনতাইকারীর উৎপাত, নীরব প্রশাসন” শিরোনাম এবং গত ২১ সেপ্টেম্বর দৈনিক কক্সবাজার পত্রিকায় “ছুরি ধরে ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া সহ শহরে এক সপ্তাহে ১০ ছিনতাই” শিরোনামে সংবাদ ২ টি প্রকাশিত হয়। এ ২টি সংবাদের ভিত্তিতে পর্যটন নগরী জেলা শহর কক্সবাজারে ছিনতাইকারীর উৎপাতে পর্যটক সহ জনগণ জানমালের নিরাপত্তাহীনতা ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে জাস্টিস অব পিচ এর আদালত অবহিত হয়েছেন। যারফলে পর্যটন নগরী হিসাবে কক্সবাজারের সুনাম ক্ষুন্ন হওয়া সহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও জনজীবনে শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এর কাছে প্রেরিত আদেশে আরো বলা হয়-বাংলাদেশ পুলিশের প্রবিধান ১১৮ বিধি অনুযায়ী মানুষের জান ও মালের নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব পুলিশ প্রশাসনের উপর ন্যস্ত করা হয়েছে। উল্লেখিত ২টি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত ঘটনা সমুহের মধ্যে সুনির্দিষ্ট কোন ঘটনার বিষয়ে মামলা হয়েছে কিনা-এবং না হয়ে থাকলে প্রত্যেকটি ঘটনার বিষয়ে তদন্ত পূর্বক অপরাধীদের চিহ্নিত করে যথাযথ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে ও পুলিশের টহল জোরদার করতে সদর মডেল থানার ওসি’কে নির্দেশ দেওয়া হয়।

একই আদেশে প্রতিটি অপ্রীতিকর ঘটনার পৃথক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল, অপরাধপ্রবণ এলাকাসমুহ চিহ্নিতকরণ এবং অপরাধপ্রবণ এলাকায় কোন সময় টহলদল কাজ করে তা জানানোর জন্য কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি’কে বলা হয়েছে। দি কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিওর এর ২৫ ও ১৫৬(৩) ধারা এবং বাংলাদেশ পুলিশের প্রবিধানের ২৪৫ বিধির ক্ষমতাবলে সংঘটিত আমলযোগ্য অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে আদেশটি জারী করা হয় বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

কক্সবাজারের জাস্টিস অব পিচ এবং চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম চৌধুরী এ আদেশটির বিষয়ে অবগত করার জন্য কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ’কে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে অনুলিপি দিয়েছেন।

জনস্বার্থ বিষয়ক ব্যতিক্রমী এ আদেশটি পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি মাসুম খান এ ধরনের আদেশ ২২ সেপ্টেম্বর রাত ১ টা পর্যন্ত তাঁর কার্যালয়ে আসেনি বলে জানান। জাস্টিস অব পিচ এর আদেশ হাতে পেলে নির্দেশ মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে ভারপ্রাপ্ত ওসি জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, জননিরাপত্তা সম্পর্কিত খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই আইনটি অনেক দিন আগের হলেও এর খুব একটা প্রয়োগ ছিলোনা। ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ একজন প্রবীণ আইনজীবী বলেছেন, আইনটি জনস্বার্থে যথাযথ প্রয়োগ করে জাস্টিস অব পিচ উল্লেখিত আদেশটি জারী করেছেন। যার সুফল সাধারণ মানুষ পাবে এবং আদেশটি বিচারঙ্গনে মাইলফলক হয়ে থাকবে। এই ধরনের আইন সারা দেশের বিজ্ঞ জাস্টিস অব পিচ গণ প্রয়োজন সাপেক্ষে অনুসরণ করে জনস্বার্থে যথাযথ প্রয়োগও করতে পারেন বলে উক্ত আইনজীবী মতামত ব্যক্ত করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •