নিজস্ব প্রতিবেদক:

কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁওতে চাঁদা না দেওয়ায় নিরীহ দোকানদারদের উপর একাধিকবার হামলা, মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি ও প্রাণনাশের প্রাণনাশের হুমকি প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। দোকানের প্রকৃত মালিক পক্ষকেও  প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।

মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগের কথা জানিয়েছেন দুই দোকানদার ঈদগাঁওর উত্তর মাইজপাড়া এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম, জালালাবাদ ইউনিয়নের সুপারী গলি পাড়া এলাকার আব্দুর রশিদ কবিরাজ ও দোকান মালিক পক্ষের প্রতিনিধি ঈদগাঁওর ভাদিতলা গ্রামের বাসিন্দা মো: মেজবাহ উদ্দিন।

নুরুল ইসলাম ও আব্দুর রশিদ কবিরাজ জানান, ঈদগাঁওর প্রধান সড়ক থেকে পশ্চিমে ডিসি সড়কের পতিত জমিতে ১৯৯৬ সাল থেকে দোকানঘর নির্মান করে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন তারা। এর দুই বছর পর জমির প্রকৃত মালিক ইব্রাহিমের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন তারা। চুক্তি অনুসারে নিয়মিত মাসিক ভাড়াও দিয়ে আসছেন। ২০০৯ সালে হঠাৎ করে ঈদগাঁওর জাগির পাড়া এলাকার আবুল হাসেম প্রকাশ বিমান মৌলভী কয়েকজন লালিত সন্ত্রাসী নিয়ে তাদের দোকানে যায় এবং চাঁদা দাবী করে, অন্যথায় ব্যবসা করা যাবেনা বলে হুমকি দেয়। সেই সময় দোনকার নুরুল ইসলাম ২০০ টাকা ও আব্দুর রশিদ কবিরাজ ৩০০ টাকা করে ভাড়া দিতেন জমির মালিক ইব্রাহিমকে। বর্তমানে গ্রাম্য দোকানদার হিসেবে তারা যথাক্রমে ৫০০ টাকা ও ১০০০ টাকা করে ভাড়া দিচ্ছেন। অপরদিকে গত দুই মাস ধরে আবুল হাশেম প্রকাশ বিমান মৌলভী, শাহাদাত ও আব্দুল্লাহ প্রতি মাসের ৩০ তারিখে এসে দোকানদারদের নানাভাবে লাঞ্ছিত করে নুরুল ইসলামের কাছ থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা ও আব্দুর রশিদ কবিরাজের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে নিয়ে যাচ্ছে। তারা বিমান মৌলভীকে জমিদার মেনে দোকান ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য লিখিত স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায়ের চেষ্টা করছে। তারা ইতিমধ্যে জোরপূর্বক দোকান বন্ধক রেখে নুরুল ইসলামের কাছ থেকে এককালীন ১ লক্ষ টাকা ও আব্দু রশিদ কবিরাজের কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা জোর করে আদায় করে নেয়। এক পযায়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর  রাত সাড়ে ৮ টার দিকে বিমান মৌলভী ও তার লোকজন দোকানে হানা দেয়। হামলা চালিয়ে নুরুল ইসলামকে গুরুতর আহত করে।  বর্তমানে হামলাকারীরা তাদের নানভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। এ অবস্থায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন তারা। এ অবস্থায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে তারা কক্সবাজার সদর থানায় একটি লিখিত এজাহার দাখিল করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে দোকানের মালিক পক্ষের প্রতিনিধি ( ইব্রাহিমের বড় ছেলে) মো: মিজবাহ উদ্দিন বলেন, চাঁদা আদায় করতে না পারায় অভিযুক্তরা বর্তমানে আমাকেও নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। মিথ্যা মামলায় জড়ানো এবং এমনকি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বাড়ির আশপাশে সন্দেহভাজন লোকজনের আনাগোনা বেড়েছে। এতে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। আমরা প্রশাসনের কাছে জীবনের নিরাপত্তা চাই এবং অপরাধীদের শাস্তি চাই।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •