শাহেদ মিজান, সিবিএন:
সিনহা মোঃ রাশেদ খান হত্যার মামলায় গ্রেফতার এবং বরখাস্ত হওয়া টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশের সোর্স ছিলেন উপজেলা রঙ্গীখালীর আলোচিত গিয়াস ডাকাত। ওসি প্রদীপের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে বেশ কিছু মানুষকে হত্যার সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে এই গিয়াস ডাকাতের বিরুদ্ধে।

এই অভিযোগে সম্প্রতি একটি টিভি চ্যানেল ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনের এক পর্বে ছিলো গিয়াস ডাকাতের অপরাধের ফিরিস্তি। ওই প্রতিবেদনের প্রতিবেদকের কাছে নিজের ছবি সরবরাহ করার জন্য গিয়াস দায়ী করেছিলেন মালয়েশিয়া প্রবাসী মোঃ তৈয়বকে। এই ‘দায়ে’ মালয়েশিয়া প্রবাসী মোঃ তৈয়বতে শেষ পর্যন্ত গুলি করে হত্যা করেছে গিয়াস ডাকাত।

২১ সেপ্টেম্বর সোমবার বিকাল ৩ টার দিকে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহত তৈয়বের পরিবারের লোকজন এই অভিযোগ করেছেন। নিহত তৈয়ব স্কুল পাড়ার দুদু মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বিবাদমান ডাকাত গিয়াস বাহিনীর গ্রুপ ও আবুল আলম গ্রুপের মধ্যে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। টেকনাফের বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপের প্রধান সোর্স খ্যাত ডাকাত গিয়াস উদ্দিন প্রকাশ্যে গুলি করলে ঘটনাস্থলে নিহত হয় প্রবাসী মোঃ তৈয়ব।

র‌্যাব ১৫ এর অধিনায়ক আজিম আহমেদ জানান, এঘটনায় র‌্যাব অস্ত্রসহ মোঃ হোছেন নামের গিয়াস ডাকাতের এক সহযোগীকে আটক করা হয়েছে। সে ওই হ্নীলা মাদ্রাসাপাড়ার নুরুল ইসলামের পুত্র। তার কাছ থেকে একটি ওয়ানশুটারগান, ১টি তাজা কার্তুজ, ২ রাউন্ড খালি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত মালয়েশিয়া প্রবাসী মোঃ আবু তৈয়বের পিতা স্কুল পাড়ার দুদু মিয়াসহ স্থানীয়রা জানান, উপজেলা শীর্ষ ডাকাত গিয়াসের বিরুদ্ধে বহু সংখ্যক মামলা রয়েছে। তারপরও রহস্যজনক কারণে ওসি প্রদীপের সাথে তার বেশ দহরম মহরম সম্পর্ক তৈরি হয়েছিলো। এই সম্পর্কে পুঁজি করে সোর্স হিসেবে বিভিন্ন লোকজনকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিতো গিয়াস ডাকাত। পরে নিজেই দেনদরবার করে হাতিয়ে নিতো লাখ লাখ টাকা। বেশি করে প্রবাসীদের টার্গেট করতো গিয়াস ডাকাত। এভাবে বিপুল পরিমাণ টাকা কামিয়েছেন গিয়াস ডাকাত। সম্প্রতি একটি টিভি সাংবাদিককে গিয়াসের ছবি সরবরাহের জন্য তৈয়বকে দায়ী করে আসছিলো সে। এই ক্ষুব্ধ হয়ে তৈয়বকে গুলি করে হত্যা করেছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •