খোরশেদ আলম


পর্ব-১

কক্সবাজার শহরের পুরনো মানুষ – পুরনো বাসিন্দা যারা এ প্রজন্মের কাছে অপরিচিত শুধু তাদের কথা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। যারা বেঁচে থাকলে ৯০, ১০০ কিংবা তারও বেশী বয়স হতো।

যাদের বিগত দিনে আমরা হারিয়ে ফেলেছি – যারা কক্সবাজার শহরকে শিক্ষা দীক্ষা, সভ্যতা,সংস্কৃতি , ব্যবসা বানিজ্য, বিভিন্ন পেশা, রাজনীতি,খেলাধুলা, জ্ঞান-গরিমা ও মানসম্মান ইত্যাদিতে এগিয়ে দিয়ে আমাদের জন্য সাবলীল পরিবেশ রচনা করে গেছেন সেইসব মানুষদের কথা বলছি । তারা আজ আর নেই । আমরা ভুলে গেলে চলবে না । আমরা তাদের ও তাদের অবদানকে ভুলে যেতে
পারি না ।
আমাদেরকে কাউকে না কাউকে স্মরণ করতে হবে এইজন্য যে , আগামী প্রজন্ম তাদের কথা যেন ভাবতে পারে, শিখতে পারে কিভাবে নিজেকে গড়ে নিতে হয় ।

আমার বাড়ী টেকপাড়া সেই হিসেবে পশ্চিম দিক দিয়ে স্মরণ করার চেষ্টা করছি ।

১। এডভোকেট জোতিশ্বর চক্রবর্তী ও সহধর্মিণী, উনাদের সাথে আমার দেখা হত সমুদ্রেের পাড়ে খুব ভোরে যখন আমিও হাঁটতাম । স্মার্ট জুটি । আশি বছরের কাছাকাছি বা তারও বেশী, হাঁটছে তো হাঁটছে ।
কক্সবাজার বারের একজন উত্তম লেখাপড়া জানা, খুবই বিজ্ঞ চৌকস আইনজীবী । তাদের সৎ চরিত্র, আদর্শ আজকের প্রজন্মের জন্য উৎকৃস্ট উদাহরণ । যারা আজ চিনে না তাদের জন্য পরিচয়, উনি প্রফেসর সোমেশ্বর চক্রবর্তী’র পিতা।

২।প্রিন্সিপাল শ.ম. শামসুল হুদা চৌধুরী । তিনি উচ্চ শিক্ষিত একজন চৌকস প্রিন্সিপাল। শিক্ষা বিস্তারে যার অবদান অনস্বীকার্য। কক্সবাজার কলেজ প্রতিস্টা থেকে শুরু করে প্রিন্সিপাল হিসেবে কক্সবাজার কলেজকে মহীরুহ প্রতিস্টান হিসাবে দাঁড় করিয়েছেন । আমাদের স্যার খুবই স্মার্ট, বিচক্ষণ ও প্রকৃত অর্থে লেখাপড়া জানা জ্ঞানী ব্যক্তি।

৩। ডাঃ নুরুল হক। চক্ষু ডাক্তার । সেই সময় চক্ষু চিকিৎসার জন্য কোন ডিগ্রিধারী ডাক্তার ছিল না, চট্টগ্রাম যেতে হত যা ছিল দুঃসাধ্য ব্যাপার কিন্তু উচ্চ ডিগ্রিধারী না হওয়া সত্বেও তিনি সাবলীলভাবে মানুষের চোখের চিকিৎসা দিয়ে গেছেন মৃত্যু অবধি বিশেষ করে গরীব রোগীরা কম পয়সায় সেবা পেয়েছেন।

৪। এডভোকেট সুরেশ সেন একজন প্রতিথযশা বামপন্থী রাজনীতিবিদ ও বিদ্যুৎসাহী জ্ঞানী ব্যাক্তি ছিলেন । তিনি বিশিষ্ট লেখক বিশ্বজিত সেন বান্ছু ও পৌরসভার এক্স – কমিশনার সত্যজিত সেন বাচ্চুর পিতা ।

৫ । ওস্তাদ শ. আ. ম. আবুবকর ছিদ্দিক । একজন সংগীত গুরু ও শুদ্ধ সংগীত চর্চার ওস্তাদ । তাহার প্রতিস্টিত প্রতিস্টানটির নাম
” সংগীতায়তন “। অনেক শিক্ষার্থী উক্ত প্রতিস্টান থেকে গান শিখে আজ শুদ্ধ সংগীত জগতে প্রতিস্টিত ।

৬ । এডভোকেট মৌলানা ফরিদ বখত পাকিস্তান আমলের প্রথম দিককার কক্সবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান । কক্সবাজার পৌরসভা বি- নির্মাণে উনাদের অবদান অনস্বীকার্য । উনার লালদীঘির উত্তর পাড় ঘেঁষে বাসা। এখন উত্তরশুরীরা সেখানে থাকেন ।

৭ । এডভোকেট ফিরোজ আহমদ চৌধুরী । অসম্ভব প্রতিভাবান একজন ব্যাক্তি, ভাল বক্তা ও প্রথম সারির আইনজীবী । এছাড়াও একাধারে রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব, বহু ভাষায় পন্ডিত, শিল্প সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক এবং কাওয়ালী গানের ভক্ত । উনার বাড়ীতে প্রতি বছর কাওয়ালী গানের আসর বসত আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকতাম সেই কাওয়ালী শুনার জন্য । উনি হোটেল প্যানোয়া এবং হোটেলের পশ্চিম পার্শ্বের বাড়ীটির মালিক ।

৮ । ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী। যদিও তিনি রামুর অধিবাসী কিন্তু লালদীঘি’র পাড়স্হ হোটেল নিদমহলের মালিক হওয়ায় ওখানেই ছিল রাজনীতি ও শিক্ষা বিস্তারের যাবতীয় কর্মকাণ্ড ।
কক্সবাজার সরকারী মহিলা কলেজ, রামু কলেজের প্রতিস্টাতা এবং আরো অনেক শিক্ষা প্রতিস্টানে অবদানের কারণে কক্সবাজারবাসীর হ্নদয়ে অমর হয়ে আছেন । তিনি বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় সংসদ সদস্য ও ইউনাইটেড আরব আমিরাতের রাস্ট্রদূত ছিলেন।
কক্সবাজার সদর আসনের সংসদ সদস্য কমল ভাই ও ছোটবোন সাহসী ও অন্যায়ের প্রতিবাদকারী নাজনীন সরওয়ার কাবেরীর পিতা ।
৯ । শিক্ষক মোজাহেরুল হক। তিনি কক্সবাজার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্ব পাকিস্তান ও বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিনের
প্রধান শিক্ষক, সু-পন্ডিত ও জ্ঞানী ব্যক্তি । তিনি কলকাতা থেকে উচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেন । ইংরেজি সাহিত্যে গোল্ড মেডেলিস্ট । আমাদের প্রিয় শিক্ষক ।

১০ । ডাঃ আবুল হোসেন, কক্সবাজার সদরের প্রথম রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসক । বাটা রোডে বাসা। রাজনীতি সচেতন মহৎ এক ডাক্তার । ডাক্তারী পেশাকে মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্বা মরহুম মোজাম্মেল হকের পিতা । উপরোক্ত সংক্ষিপ্ত লেখা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য যারা উনাদের ব্যাপারে আরো বেশী করে লিখবে । লেখায় কোন ভুল থাকলে ক্ষমা’র দৃষ্টিতে দেখবেন এটুকু প্রত্যাশা সবার কাছে ।

আসছে – ২য় পর্ব

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •