আজাদ মনসুর:
আমার মায়ের ভাষাও হতে পারে আপনার জীবন বদলে দেওয়ার হাতিয়ার।

শুদ্ধ বাংলা চর্চার মধ্য দিয়ে নিজেকে বিকশিত করার সুযোগ রয়েছে। হওয়া যায় মানবিক ব্যক্তিত্বের সৌন্দর্যময়ও। কেননা শুদ্ধ বাংলায় কথা বলা একটি শিল্পও বটে।

৫২’র ভাষা আন্দোলনে শুধু মায়ের বুলির জন্য সংগ্রাম, সংঘাত, মা-বোনের সম্ভ্রণহানি আর কতজনকে হারিয়েছি! বাংলাকে সম্মান জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। তবে আরবি ব্যতিত অন্য কোন ভাষা জানার জন্য আমার দূর্বলতা নেই।

ইংরেজির প্রতি দরদ নেই বলে অনেক বন্ধুদের গালমন্দ খেয়েই যাচ্ছি।

বাংলাদেশে চাকুরির ক্ষেত্রে শুধু দিব্যি ভিনদেশি একটি ভাষার অত্যাচারে আমি রীতিমত বেহুশ।

ইংরেজি চর্চা করবো ঠিকই করছিও। তারমানে এই নয় যে ইংরেজি আমার মায়ের বুলিকে ম্লান করবে।

তাহলে কেন আজ ইংরেজিতে আমার ভাই বোনেরা এত পটু হতে পারেনি বলে চাকরি থেকে ছিটকে পড়বে? ইংরেজিতে রিপোর্ট আর ভিনদেশিদের সাথে কথাবিনিময়ে ভিনদেশি লোক নিয়োগ দেয়া হয় লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে। তাই মূখ্য না বেশি ইংরেজি জানা।

শুনে কষ্ট লাগে তখনই যখন ইন্টারভিউ বোর্ড থেকে আমার ভাই বোনদের অনেক প্রতিভা থাকার পরও শুধুমাত্র একটি ভাষার জন্যে বোর্ড তাদের নির্বাচন করে না। আপসোস!

আমি নিজেও ইংরেজি তেমন পারি না। পারার চেষ্টাও করিনি। একসময় বন্ধুদের অনুরোধে ইংরেজি শেখার প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছিলাম। সাথে যারা ছিল তারা আজ বিদেশি এনজিও সংস্থায় কাজ করে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

শুধু যে এই ভাষাটি শিখতে আপনাকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিতে হবে এমন না। অনেকে মনে করেন যারা ইংরেজিতে কথা বলছে তারা কি জানি কতটুকু পড়ালেখা করছে। আর অনেকে আছেন বিভিন্ন বিষয়ের উপর ডাবল স্নাতকোত্তর নিয়েছেন, আইন বিষয়ে ডিগ্রি নিয়েছেন, কম্পিউটারে সমধিক জ্ঞান কিন্তু ইংরেজিতে কথা বলতে পারে না। তাকে মনে করা হয় কম শিক্ষিত।

আমি ইংরেজি ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা আর যারা এই ভাষায় কথা বলতে পারেন বলে নিজেকে কোন এক প্রতিষ্ঠানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন আপনারা তু কোন অন্য কোন দেশের নাগরিক না। আমার ভাষা আমার মা। আর এই ভাষার প্রতি আপনাদেরও দায় আছে। আপনারা পারেন না তা করতে।

জানি এবং বুঝি আজকের সময়ে কম্পিউটার আর ইংরেজিতে সমানে সমান না হলে প্রতিযোগিতার এই বিশ্বায়নে নিজেকে জাহির করা কঠিন। তারপরও কথা থেকেই যায়…

যাক, কথা বলা সংক্রান্ত যে কোনো পেশা সংবাদ উপস্থাপনা, অনুষ্ঠান উপস্থাপনা, রেডিও জকি, আবৃত্তি, কণ্ঠ অভিনয়, টেলিভিশন ও রেডিও রিপোর্টিং, বক্তৃতা, বিতর্ক, গান, কল সেন্টারে চাকরী, হেল্প ডেস্কে চাকরী, কাস্টমার কেয়ারে চাকরী, বিক্রয় প্রতিনিধি, আইনপেশা, শিক্ষকতা, মার্কেটিং, অনলাইন অডিও-ভিডিও কনটেন্ট নির্মাণ, অনলাইন লাইভ অনুষ্ঠান, ব্যবসার ক্ষেত্রে সর্বোপরি সুন্দরভাবে শুদ্ধ বাংলায় কথা বলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । পেশাগত উৎকর্ষতা অর্জনে আমার ভাষাও কম কিসের! আমার মায়ের ভাষাও হতে পারে আপনার জীবন বদলে দেওয়ার হাতিয়ার।

নান্দনিকতার এই গতিধারায় আমরা এক হই একটি বিশ্বাসে।
আর হৃদয়ে পালন করি, মায়ের বুলিকে লালনে।

আজাদ মনসুর
আইডিয়া মেকার, সাংবাদিক, গণমাধ্যম সমালোচক, ও আইটি এক্সপার্ট
প্রণেতা-কক্সবাজার সাংবাদিক কোষ (প্রকাশিতব্য) বাংলাদেশ সাংবাদিক কোষ
সভাপতি- কক্সবাজার সাংবাদিক সংসদ (সিএসএস)

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •