মুহাম্মদ সালাহ্উদ্দিন কাদের:
গ্রাহক হয়রানি, মিটার-বাণিজ্য, দালালদৌরাত্ম এসব উখিয়া উপজেলার পালংখালীর পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের পুরাতন চরিত্র। কেউ বলে মনগড়া বিল, কেউ অনুমাণনির্ভর বিল, কেউ কেউ বলছে অতিরিক্ত বিল, কেউ বলছে ভুতুড়ে বিল আবার কেউ বলছে রক্তশোষণ।

ভৌতিক কিংবা আধিভৌতিক চরিত্রগত উপসর্গ যাই হোক, অবৈধভাবে সংযোগ বাণিজ্য ও বিলসংক্রমণে বিক্ষুব্ধ অধিকার আদায় কমিটি ও পল্লীবিদ্যুতের সাধারণগ্রাহক।

জানা গেছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার নির্দেশিত লকডাউন (অচলাবস্থা)’র কারণে মিটার রিডাররা ঘরে ঘরে গিয়ে মিটার রিডিং নেয়ার পরিবর্তে পূর্ববর্তী মাসের বিলের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এপ্রিল থেকে শুরু করে চলমান মাসের বিল অনুমাণনির্ভর প্রস্তুত করতে গিয়ে এই ভুতুড়ে অবস্থার অবতারণা করেছে ।

কিন্তু গ্রাহকরা এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাদের অভিযোগ লকডাউন ( অচলাবস্থা) এর সুযোগ নিয়ে পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ প্রতারণা করেছে। গ্রাহকদের উপর অতিরিক্ত বিলের বোঝা চাপিয়ে করোনাকালের ফায়দা নিয়ে তারা একপ্রকার লুঠতরাজ চালাচ্ছে ।

যা ভোক্তা অধিকার আইন এবং পল্লীবিদ্যুতের গ্রাহকপরিসেবা নীতিমালার পরিপন্থী। একটি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পল্লীবিদ্যুতের এই ধরণের কাণ্ডজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড ও বালখিল্য আচরণ গ্রাহকদের সাথে প্রতারণার শামিল। যা তাদের প্রতি গ্রাহকদের বিশ্বাস ও আস্থাকে ক্ষতবিক্ষত করেছে। যে কারণে সাধারণগ্রাহকদের অনুযোগ, অভিযোগ, ক্ষোভ ও নিন্দা দিনে দিনে বিস্ফোরণ্মুখ হয়ে উঠছে। তাঁর মধ্যে আবার অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বাণিজ্যের কারণে যুক্ত হয়েছে মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিং। এহেন অস্বাভাবিক পরিস্থিতির নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক স্থায়ী সমাধান আশা করে সংশ্লিষ্ট জনসাধারণ।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৩ (কাঠাল গাছ তলা, বর্মা পাড়া) এই ক্যাম্পে আনুমানিক ২০০টি দোকান-ঘরে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে নুরুল হক, পিতা-শফিকুর রহমান, ঠিকানা; পালংখালী ইউনিয়ন, ৪নং ওয়ার্ড। এতে টিভি, ফ্রিজ, লাইট, ফ্যান ব্যবহার করছে।

ক্যাম্প-১২ এই এলাকায় FH হাসপাতালের বিপরীতে পুরো মার্কেটে আনুমানিক ১০০টি দোকান ঘরে অবৈধভাবে সংযোগ দিয়ে ফ্রিজ, লাইট, ফ্যান চালাচ্ছে। এই অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বাণিজ্য করেছে পালংখালী ৪নং ওয়ার্ডের ফরিদ ড্রাইভার, পিতা মৃত নবী হোসাইন।

ক্যাম্প-১২ ( ময়নাঘুনা ) এই এলাকা জুড়ে আনুমানিক ৩০০ দোকান ঘরে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে লাইট, ফ্যান, ফ্রিজ এবং ইন্টারনেট (ওয়াইফাই) সংযোগ ব্যবহার করছে।

হাকিম পাড়া ক্যাম্প-১৪ তে প্রায় ৬০টি দোকান ঘরে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বাণিজ্যে লিপ্ত পালংখালী ইউনিয়ন ৫নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদ আলী, পিতা- এজাহার মিয়া, ছৈয়দুল বশর, পিতা- জহির আলম, আনজু মিয়া, পিতা- মৃত মশরফ আল, আনুমানিক ৩০০ ফিট দূর থেকে অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ৬০টি দোকান ঘরের মধ্যে ১৫টি চায়ের দোকানে টিভি, ফ্রিজ ও ফ্যান চালাচ্ছে।

জামতলী ক্যাম্প-১৫ জামতলী (বৃহত্তর থাইংখালী এলাকার) ক্যাম্পে রোহিঙ্গা বাজারে আনুমানিক ১০০টি দোকান ঘরে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বাণিজ্যের সাথে লিপ্ত ৫নং ওয়ার্ডের জুহুর আলম, পিতা-মৃত নূর আহমেদ সিকদার।

এই বিষয়ে গত বছর একটি গোয়েন্দা সংস্থা বিস্তারিতভাবে প্রতিবেদন দাখিল করলে এসব অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হয়।
কিন্তু ঠিক ২/৩ মাস পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত উল্লেখিত ব্যক্তিরা আরো বেপরোয়া হয়ে বৃহৎ পরিসরে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বাণিজ্যের মাধ্যমে মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অপরাধীরা প্রতাপশালী ও পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের অসৎকর্মকর্তাদের সহযোগিতা থাকায় সাধারণ মানুষ তাদের অপকর্মের কথা প্রকাশ্যে বলতে সাহস পাচ্ছে না।

তাই, এলাকাবাসি আজ লোডশেডিং ও ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলে অতিষ্ঠ হয়ে অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি ৫নং পালংখালী কে অভিযোগ করলে তাঁরা আমাদেরকে জানালে, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করলে এই দৃশ্য উঠে আসে।

এসবের মূল হোতা উখিয়া পল্লীবিদ্যুতের স্টাফ মুফিজ উদ্দিন।

ভুক্তভোগী জনসাধারণ এসব অনিয়মে অতিষ্ঠ হয়ে, ইতোমধ্যে উখিয়া পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইনমাধ্যমে ও মুলধারার গণমাধ্যমে গ্রাহকসমাজের বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ও ধবলধোলাই আলোড়ন তুলেছে।

অনলাইনে ঘরে বসে বিদ্যুৎবিল পরিশোধের সুযোগ সৃষ্টি। যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে গ্রাহকভোগান্তি কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলির অনিয়ম ও তাদের প্রতি সাধারণগ্রাহকের বিদ্যমান আস্থার সংকট অনেকটা কেটে যাবে বলে ধারণা করছেন সচেতনগ্রাহক ও জ্বালানী বিশেষজ্ঞগণ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •