প্রেস বিজ্ঞপ্তি :
দেশের শীর্ষ আলেমেদ্বীন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান ও জামিয়া আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারীর সদরে মুহতামিম, শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ. এর ইন্তেকালে গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি কক্সবাজার জেলা আমীর মাওলানা হাফেজ ছালামতুল্লাহ, নায়েবে আমীর মাওলানা আ. হ. ম নুরুল কবির হিলালী, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াছিন হাবিব, যুগ্ম-সম্পাদক মাওলানা আব্দুর রহমান জিহাদী, মাওলানা ফরিদুল হক, রামু উপজেলা আহবায়ক মাওলানা হাফেজ আব্দুর রহিম রাহী, কক্সবাজার শহর আমীর মাওলানা নুরুল হক চকোরী, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা খালেদ সাইফী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসমাজের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি হাফেজ মুহাম্মদ আবুল মঞ্জুর, কক্সবাজার জেলা সভাপতি হাফেজ শওকত আলী, সহ-সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ দিদারুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ আতাউল্লাহ প্রমুখ।

এক শোক বার্তায় নেতৃবৃন্দ বলেন, আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ. ছিলেন, জাতির অবিসংবাদিত রাহবার। শতোর্ধ বয়সী এ বুযুর্গ ব্যক্তিত্ব সারাটি জীবন ইলমে নবভীর দরস-তাদরীসে উৎসর্গ করেছেন। সুদীর্ঘকাল যাবৎ উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্র, উম্মুল মাদারিসখ্যাত জামিয়া আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারীর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনসহ আরো অসংখ্য মাদ্রাসা পরিচালনার সাথে যুক্ত থেকে কুরআন-সুন্নাহর প্রকৃত সৌরভ ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে যে অসামান্য অবদান রেখে গিয়েছেন তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বৃটিশ বিরোধী আযাদী আন্দোলনের অগ্রদূত আল্লামা হোসাইন আহমদ মাদানী রহ. এর অন্যতম ছাত্র ও খলীফা হিসেবে আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ. ছিলেন, আধ্যাত্মিক ও বিপ্লবী চেতনায় বলীয়ান। তিনি জীবন সায়াহ্নকাল পর্যন্ত হাদীসে নবভীর দরস প্রদান এবং মুসলমানদের আত্মশুদ্ধি ও সমাজ সংস্কারের নিরবচ্ছিন্ন কর্মপ্রয়াসে নিবেদিত ছিলেন। সেই সাথে শিরক -বিদআত এবং খোদাদ্রোহী অপশক্তি নাস্তিক-মুরতাদদের যে কোন অপতৎপরতা প্রতিরোধে তিনি ছিলেন সাহসী সিপাহসালার এবং সংগ্রামী অভিভাবক। ২০১৩ সালে নাস্তিক-মুরতাদ প্রতিরোধ সাহসী গর্জন দিয়ে আপসহীনতার সাথে তিনি যুগান্তকারী কর্মসূচী পালন করেছেন তা ঈমানী আন্দোলনে যুগ-যুগান্তরে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
হাজার হাজার আলেম-ওলামার উস্তায, বর্ষীয়ান এ আলেমেদ্বীনের ইন্তেকালে আমরা একজন প্রাজ্ঞ শায়খুল হাদীস, আধ্যাত্মিক অভিভাবক, সাহসী রাহবার ও বুযুর্গ মনীষীকে হারালাম। আমরা আল্লাহর দরবারে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করি এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।

উল্লেখ্য, আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ. ১৮ সেপ্টেম্বর (জুমাবার) সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে রাজধানী গেণ্ডারিয়াস্থ আসগর আলী হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন-ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে বার্ধক্যজনিত দুর্বলতার পাশাপাশি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয় আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে জুমাবার বিকেলে তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা নিয়ে গিয়ে আসগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
তিনি হেফজাতে ইসলামের আমির ছাড়াও কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাক ও কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •