নুরুল আমিন হেলালী :

তীব্র জ্বর আর সর্দি-কাশি নিয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে বারান্দায়ও কাতরাচ্ছে অসংখ্য রোগী। বৃষ্টির পর তীব্র গরমে হঠাৎ ঘরে ঘরে বেড়ে গেছে তীব্র জ্বর-কাশিতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আবার অনেকে করোনা’ আঘাত হেনেছে ধারণা নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে দৌড় দিচ্ছে হাসপাতালে। অনেকে আবার চিকিৎসকের পরামর্শে শুধুমাত্র নমুনা জমা দিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। সাহাব উদ্দিন নামে চল্লিশোর্ধ এক ব্যক্তি জানান, ৪দিন ধরে তার প্রচন্ড জ্বর থাকায় ভাবছিলেন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, এমন সময় হাসপাতালে এসে যদিও একদিন পরেই জানতে পারেন করোনা নয় বরং সাধারণ ফ্লুতে আক্রান্ত তিনি।
শুধু সাহাব উদ্দিন নই এমন সাধারণ জ্বর আর সর্দি কাশি নিয়ে প্রতিদিনই সরকারি এ ২৫০ শয্যা হাসপাতালে শতাধিক রোগী ভিড় করছেন। যাদের বেশিরভাগ অংশই সাধারণ ফ্লু বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। চিকিৎসকরা বলছেন, ঠান্ডা গরমের মিশ্র আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে এখন ঘরে ঘরেই রোগজীবাণুর বাসা বাঁধছে। মূলত আবহাওয়ার পরিবর্তণের জন্যই এ প্রকোপটা বেশি। যার কারণে শিশু থেকে বয়স্ক সকলেই জ্বর, সর্দিকাশি, গলাব্যথাসহ ফ্লু ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে এ নিয়ে আতংকিত না হয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণের মত বিশেষজ্ঞদের।
তথ্য মতে, গতকাল কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ৫০ জনের বেশি জ্বর-সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। সরকারি এ হাসপাতাল ছাড়াও গত কয়েকদিন ধরে শহরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের প্রাইভেট চেম্বারে এ ধরণের রোগীদের ভিড় বেড়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে তাদের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত রোগী তেমন পাওয়া যায়নি। বেশিরভাগই আবহাওয়াজনিত ফ্লুতে আক্রান্ত।
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের সহকারি অধ্যাপক ডা: শাহজাহান নাজির বলেন, ‘মানুষের মধ্যে করোনার আতংক এখনো রয়েছে। তবে পূর্বের চেয়ে করোনা রোগী কম। এখন যারা জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের বেশির ভাগেরই সাধারণ ফ্লু। প্রতিদিনই হাসপাতালে ৪০ থেকে ৫০ জনের বেশি এমন রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। এতে আতংকিত না হয়ে, সতর্ক থাকতে হবে। মূলত আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণেই এমনটি হচ্ছে। তবে যেকোনো জ্বরে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।’
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ড়ের ইনচার্জ সিনিয়র ষ্টাফ নার্স মর্জিনা আক্তার বলেন, কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা দিনদিন বাড়তে শুরু করেছে। আর তাপমাত্রার এ তারতম্যের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে না পারায় মানুষজন সর্দি-কাশি-জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন।
‘এখন কম বেশি প্রতিটি ঘরেই জ্বরে আক্রান্ত রোগী রয়েছে। মূলত আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণেই প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে আবহাওয়া ঠিক হলে বা বৃষ্টি হলে অনেকটা কমে আসবে বলে অভিমত চিকিৎসকদের।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •