ইমাম খাইর# 
কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে হচ্ছে বিশ্বের বৃহৎ কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র। ‘স্বপ্নের সিঙ্গাপুর’ খ্যাত এই প্রকল্প ঘিরে চলছে হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ। যার দিকে চেয়ে আছে সরকার।

মহেশখালী উপজেলার ৩৫ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে মাতারবাড়ী। যেখানে প্রায় ৮০ হাজার মানুষের বসতি। একটু দক্ষিণে ধলঘাটা। যেখানকার ৩০ হাজার মতো মানুষের দুঃখের গল্প সবার জানা। এই দুই ইউনিয়নের লাখের বেশি মানুষের পাশাপাশি কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পে নিয়োজিতদের চলাচল চালিয়াতলি-মাতারবাড়ী সড়ক।

অথচ, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য বিকল্প কোন সড়ক তৈরি করা হয় নি। ছোট বড় সবধরণের যানবাহন গ্রামীণ সড়ক দিয়েই চলেছে। যে কারণে দীর্ঘ দিনের সড়কের আজ বেহাল দশা। ধারাখাল থেকে মাতারবাড়ী সাইরারডেলের প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কে শুধু গর্ত আর গর্ত। এখন এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে, গাড়ি তো দূরের কথা স্বাভাবিক চলাচলও কষ্ট হয়ে যায়। বর্ষা মৌসুমে তো আর কথাই নাই! সড়ক যেন এখানকার বাসিন্দাদের গলার কাঁটা।

কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের মালবাহী লরি গাড়ীগুলো চলাচল করায় অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। গর্তে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে যানবাহন। যাত্রী, পথচারিদের আহতের ঘটনা তো আছেই।

গত ১ এপ্রিল এই সড়কে গাড়ি উল্টে তিনজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর এলাকাবাসী বিক্ষোভ করে। সড়ক সংস্কারসহ ৮ দফা দাবিও দেয়।

স্থানীয় সংবাদকর্মী মোহাম্মদ হোবাইব সজিব জানিয়েছেন, মাতারবাড়ী-ধলঘাটা সড়ক যেন অভিভাবকহীন। দীর্ঘ অনেক বছর কোন উন্নয়ন নেই। কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পের কারণে সড়কটির করুণ অবস্থা।

তিনি জানান, ভাঙ্গা সড়কের ছবি সংযুক্ত করে ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকে গালমন্দ করছে স্থানীয় প্রশাসনকে। বদনাম হচ্ছে সরকারের।

মাতারবাড়ীর সিএনজি স্টেশন থেকে সর্দার পাড়ার রাস্তা দিয়ে ৪-৯ নং ওয়ার্ডের সহস্রাধিক মানুষের যাতায়াত। প্রকল্পে নিয়োজিত গাড়ি, ইট-বালু ভর্তি ট্রাক, পণ্যবাহী যাহবাহনসহ শতাধিক গাড়ি চলছে।

তিতামাঝির পাড়া, দক্ষিণ মিয়াজীর পাড়া, বলিরপাড়া রাস্তার করুণ অবস্থা। একটু বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। জমে থাকে কাদা মাটি।

আব্দুল আলিম নামক টমটম চালক জানালেন তার দুঃখের কথা। খানাখন্দে ভরা সড়কে যাত্রী নিয়ে চলাচলে তাকে অনেক কষ্ট পেতে হয়। অনেকবার দুর্ঘটনায় পড়েছে তার গাড়ি।

মাতারবাড়ী সড়কের স্থায়ী সমাধান চাইলেন রিক্সাচালক মানিক।

তিনি জানান, ভাঙ্গা সড়কে চলতে গিয়ে তার রিক্সা অনেকবার বিকল হয়ে পড়ে। গর্তে গাড়ি পড়ে অাটকে যায়। বর্ষাকালে রিক্সা চালাতে না পেরে জীবন জীবিকা নিয়ে কষ্টে পড়ে মানিকের পরিবার।

মাতারবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জিএম ছমি উদ্দীন জানান, অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে থাকে। ভাঙা সড়কে হাঁটাচলা যায় না। মানুষ কষ্ট পাচ্ছে।

মূলতঃ সড়কটি স্থানীয় সরকার বিভাগের (এলজিইডি) অধীনে হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দে কাজ করার সুযোগ হচ্ছে না। গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি অবহেলার শিকার। সংস্কার হচ্ছে না বছরের পর বছর।

এদিকে, অবহেলার সড়কটির প্রাথমিকভাবে সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিকের নির্দেশে ভাঙ্গা সড়কটির সংস্কার হচ্ছে। ১৬ সেপ্টেম্বর বেশ কিছু শ্রমিক কাজ করতে দেখা গেছে। এতে কিছুটা হলেও দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাবে এলাকাবাসি।

এ প্রসঙ্গে মাতারবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ উল্লাহ জানান, স্থানীয় সরকারের বরাদ্দের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কার বা উন্নয়ন হচ্ছে না। যে কারণে এখানকার বাসিন্দাদের যাতায়াতে কষ্ট পেতে হচ্ছে। দীর্ঘ দিনের আবেদনের প্রেক্ষিতে ভাঙাচোরা সড়কটি কিছুটা হলেও সংস্কার করা হচ্ছে।

মাতারবাড়ী সড়কের স্থায়ী সমাধানে অনেক বড় প্রকল্প গ্রহণ ও বাজেট দরকার মনে করেন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ উল্লাহ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •