আবদুর রহমান খান :

বাংলাদেশে সরকারী কোন প্রকল্পের সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি করা এবং সরকারী অর্থ নয়ছয় করা যখন অনেকটা রেওয়াজে পরিনত হয়েছে তখন কোন প্রকল্প সময়ের আগে সমাপ্ত করা এবং ব্যয় কমিয়ে সাশ্রয়লব্ধ অর্থ সরকারকে ফেরত দেবার ঘটনা ব্যতিক্রমী সততা বলেই মনে করা যেতে পারে। এরকম একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ে। তবে দেশে নয় বিদেশের মাটিতে।

তুরস্কের রাজধানী আংকারায় বাংলাদেশ মিশনের নিজস্ব ভবন নির্মানের জন্য বরাদ্ধ দেয়া হয় ৪৫ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা । আংকারায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আল্লামা সিদ্দিকীকে করা হয় প্রকল্প পরিচালক । নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মাস আগেই চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ভবনটি নির্মান কাজ শেষ করে সাশ্রয়লব্ধ দু’কোটি ২৬ লাখ টাকা  সরকারকে ফেরত দিয়েছেন রাষ্ট্রদূত আল্লামা সিদ্দিকী।

২০১২ সালে তুরস্ক সফরকালে বাংলাদেশ চ্যান্সারী ভবনের ভিত্তি প্রস্ত স্থাপন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল গণবভন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আংকারাস্থ নবনির্মিত চ্যানসারী ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন। এ সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড: আবদুল মোমেন এবং তুরষ্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোনগলু আংকারায় বাংলাদেশ চ্যানসেরী ভবনে উপস্থিত থাকেন।

জানা গেছে, ৪,২৮৩ বর্গমিটার জমির উপর লাল ইটে নির্মিত এ চ্যান্সেরী কমপ্লেক্সে রয়েছে অফিস ভবন, রাষ্ট্রদূতের বাসভবন, বিজয় একাত্তর নামে ২২৯ আসনের একটি আধুনিক মিলননায়তন, মসজিদ, বাংলাদেশী সামগ্রীর একটি প্রদর্শনী, পাঠাগার। তাছাড়া স্থাপন করা হয়েছে ভাষা শহীদদে স্মরণে শহীদ মিনার এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আবক্ষ মূরাল।

এমন একটি দৃষ্টি নন্দন চ্যান্সেরী ভবনের নির্মান কাজ নির্ধারিত সময়ের আগে শেষ করে সোয়া দু’কোটি টাকা সরকারকে ফেরত দেবার মত একটি প্রশংসনীয় কাজ করেছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •